Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.6/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৪-২০১৬

কানাডায় বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নযাত্রা

সোহেল সোহরাব


কানাডায় বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নযাত্রা
শিশুদের পরিবেশনা

টরন্টো, ০৪ মে- হলে অন্ধকারে আলোর রেখা ফুটে ওঠে মঞ্চের পাশে রাখা বড় পর্দায়। সেখানে ভেসে ওঠে কয়েকটি কয়েকটি কথা—The future। তারপর কয়েকটি শিশুর মুখ। সেই সব শিশুদের হাত থেকে একে একে ভেসে আসে কিছু প্ল্যাকার্ড। পিনপতন নিস্তব্ধতায় হলভর্তি নারী-পুরুষ সেই প্ল্যাকার্ডগুলোতে চোখ রাখে।

সেলুলয়েডের পর্দার মতোই একের পর একে সরতে থাকে প্ল্যাকার্ডগুলো। হঠাৎই যেন হার্ট বিট বেড়ে যায়। ঠিক পড়ছি তো স্লোগানটা—আই অ্যাম ফিউচার মেয়র অব টরন্টো...আই অ্যাম বাংলাদেশি কানাডিয়ান। পর মুহূর্তেই সরে যায় প্ল্যাকার্ডটা, আবার নতুন একটা আসে, আবার...আবার...। এবার কি এল? ... আই অ্যাম দ্য ফিউচার প্রাইম মিনিস্টার অব কানাডা...আই অ্যাম বাংলাদেশি কানাডিয়ান...।

এবার যেন সত্যি সত্যি দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। এমনভাবে স্বপ্নে কথা কেউ কী কখনো কমিউনিটিকে কেউ বলেছে? এমনভাবে স্বপ্নজাগানিয়া কোনো স্বপ্নকে কী কেউ কখনো উসকে দিয়েছে? টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটিতে কত না অনুষ্ঠান হয়। কত চমকের কথা শোনা যায়। কিন্তু প্রবাসী বাঙালিকে স্বপ্নের কথা, সম্ভাবনার কথা কেউ কখনো বলেনি। টরন্টোর মেয়র হওয়ার, কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখার স্পর্ধাও যে বাঙালির আছে—সেটা তো কখনো ভাবিনি আমরা। বিসিসিবিকে ধন্যবাদ, অসম্ভব নয় কিন্তু স্পর্ধিত একটা স্বপ্নের অনুরণন প্রবাসের বাঙালিদের মনে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য।


শিশুদের পরিবেশনা

বিসিসিবি মূলত বাংলাদেশি কানাডীয়-কানাডীয় বাংলাদেশিদের ফেসবুক ভিত্তিক একটি ফোরাম। সেই ফোরাম ৩০ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজন করেছিল অন্যরকম এক সন্ধ্যার। ভিক্টোরিয়া পার্ক ও সেন্টক্লেয়ার সংলগ্ন রয়্যাল কানাডিয়ান লিজিয়ন হলের অডিটোরিয়ামে যে মানুষগুলো জমায়েত হয়েছিল তাদের অভিব্যক্তিটাই যেন কমিউনিটির আর দশটা প্রোগ্রামের জমায়েতের চেয়ে আলাদা। প্রত্যেকেই কেমন সপ্রতিভ ও আন্তরিক। ব্যক্তিগতভাবে অনেকের সঙ্গেই আমার চেনা জানা নেই, অথচ অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পর একবারও মনে হয়নি, কেউ একজন অচেনা। বরং প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সঙ্গে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিলেন যেন এঁরা প্রত্যেকেই অনেক দিনের বন্ধু। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা অবধি কেবল মানুষের অভিব্যক্তিগুলোই পাঠ করেছি, আর ভেবেছি, এরাও তা হলে আমাদের কমিউনিটিরই অংশ, বাংলাদেশি কানাডীয়!


মঞ্চে উদ্যোক্তারা

বিসিসিবির সভাপতি রিমন মাহমুদ সঞ্চালনায় ছিলেন। পুরো আয়োজনটিকে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করতে গিয়েও বারবার সেই স্বপ্নেরই আওয়াজ তুলেছেন যেন। বিসিসিবির এই স্বপ্নযাত্রার আয়োজনে বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বড়দের সঙ্গে নেচে গেয়েই স্বপ্নযাত্রার সূচনা করে। কানাডা আর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও ছিল দুই প্রজন্মের অংশগ্রহণ। 

এর বাইরে নানাভাবে অংশ নিয়েছে জুনায়েদ চয়ন, নাজিয়া তমা, ওমর হায়াত, মিজান, নাহিদ সোবহানী, ফারজানা, মেহজাবিন রুনি, তান্নি, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, পিয়া, রেজা অনিরুদ্ধ, হোসনে আরা, মোর্তোজা, খন্দকার ওমর ফারহান, উর্মি, সালাহ উদ্দিন শৈবাল, প্রীতিল চৌধুরী, সারা, জ্যাকব ডি রোজারিও উল্লাস ও রিদি প্রমুখ। রিমন মাহমুদের সঙ্গে উপস্থাপনায় ছিলেন কাজল, মিজান, শামীম কাজী নেমা, শেখ হাসান, ইফতেখার মাহদী। নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন সায়মা হাসান, হাসনাত তারেক ও মিজান। শব্দ নিয়ন্ত্রণে প্রীতিল, আলোক নির্দেশনায় নাহিদ সোবহানী।

মঞ্চের ব্যানারে একটা লাইন লেখা ছিল কেবল ‘জার্নি অব হোপ’। সত্যি বলছি, বিসিসিবি যে কেবল স্বপ্নের অনুরণন তুলেছে, তা কিন্তু নয়, সত্যিই যেন স্বপ্নের পথে, প্রত্যাশার এক মিছিল শুরু করেছে বিসিসিবি। বিসিসিবির এই স্বপ্ন কমিউনিটির প্রতি মানুষকে ছুঁয়ে যাক, বিসিসিবির এই জার্নি অব হোপ প্রতিটি বাংলাদেশি কানাডিয়ানের জার্নি হোক।

এফ/০৭:৩৫/০৪মে

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে