Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.9/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৩-২০১৬

নেপালের পুরুষশূণ্য গ্রামের নারীরা

নেপালের পুরুষশূণ্য গ্রামের নারীরা

কাঠ্মান্ডু, ০৩ মে- এক নজরে ভ্রমরপুরার দিকে তাকালে দেখা যাবে ধূলিময়, রৌদ্রজ্জ্বল একটি গ্রাম। নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের আর দশটি গ্রামের মতো দেখতে এই গ্রামটিও। কিন্তু আর দশটি গ্রাম থেকে এই গ্রামে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা। এই গ্রামে দুইচাকার গাড়িতে করে মুদি সামগ্রী বিক্রি করা থেকে শুরু করে জমিতে পানি দেয়ার কাজ সবকিছুই নারীরা করে থাকেন। গ্রামের ভেতরে যুবক খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। আর এর একটাই কারণ গ্রামের সব পুরুষেরা অর্থ উপার্জনের জন্য বেঁছে নিচ্ছে প্রবাস জীবনকে।

এই গ্রামে পুরুষদের অন্যদেশে গমনের সংখ্যা যেন দিনে দিনে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। পরিবারকে একটি ভালো জীবন দেয়ার জন্য তাদের এই অভিপ্রায়। বাবা তার সন্তানদের, স্বামী তার স্ত্রীকে এমনকি সন্তান তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে স্বচ্ছল জীবন দেয়ার জন্য প্রবাসে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের জন্য টাকা পাঠায়। আর তাতে করে পুরো গ্রামটি পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে, আর বাধ্য হয়ে শুধু পরিবারের নয় পুরো গ্রামের হাল ধরতে হয়েছে নারীকে।

পুরুষশাসিত দেশ হিসেবে যেখানে নারীকে ঘরের সব কাজ করতে হয় সেখানে ভ্রমরপুরা একটু আলাদা। এখানে পুরুষের সব কাজ নারীদের জন্য বরাদ্দ। যেসব কাজ পুরুষদের করার কথা সে কাজগুলো করতে হয় নারীদের। একথায় বলতে হয় তারা ওই গ্রামের মেরুদণ্ড এবং জনপ্রতিনিধি। তবে প্রবাস থেকে পাঠানোর অর্থের রেমিটেন্স ভ্রমরপুরাকে গ্রামকে বেশ সম্পদশালী গ্রামে পরিণত করেছে। পাশের গ্রাম থেকে এই গ্রামে দরিদ্রতা নেই বললেই চলে। কিন্তু অর্থই কি সব!


গ্রামের একজন নারী তারাদেবি শাহ(৩৬) বললেন, তিনি ছয় বছরে তার স্বামীর প্রিয় মুখটি দেখেছেন মাত্র দুইবার। সে তাদের ছেড়ে কুয়েত থাকে। তিনি বলেন, ‘স্বামী ছাড়া থাকা কি পরিমান কষ্টের তা বলে বোঝানো যাবে না।’ তবে এই সমস্যা শুধু মাত্র তারাদেবির একার নয়। এই সমস্যা গোটা গ্রাম জুড়ে সন্তান পরিবার সবই আছে নেই শুধু কাছের মানুষটি। অনেকে আবার সদ্য বিয়ে করা বউটিকে ফেলে প্রবাসে পার করে দেন বছরের পর বছর। তারা এটাকে দরিদ্রতার চাইতেও বেশি কষ্টকর বলে মনে করেন। ভ্রমরপুরা গ্রামের নারীরা টাকার বদলে পাচ্ছে একাকীত্বের স্বাদ।

সরকারের পরিসংখ্যান অনুসারে নেপালের ভ্রমপুরা এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় গ্রাম যে গ্রামের বাসিন্দারা প্রবাস জীবনযাপন করে। পরিসংখ্যানে আরো বলা হয়, নেপালে প্রতিদিন দেড়হাজার মানুষ প্রবাস জীবনের জন্য দেশ ছাড়ে। ২০০৬ সালে পর্যন্ত প্রায় দুই দশমিক ছয় মিলিয়ন নেপালি কাজের সন্ধানে দেশ ছেড়েছিল। সচিব রাম পরধা ঠাকুরের মতে বর্তমানে ভ্রমরপুরাতে ১৩ হাজার লোকের বসতি যার তিন হাজারই প্রবাসে কাজ করে।

তাদের পাঠানো রেমিটেন্স দিয়ে আর্থিক লাভবান হওয়া গেলেও নেপালের জন্য তা মোটেও ভালো কিছু বয়ে আনছে না। তবে নেপালিদের বিদেশে চলে যাওয়া একদমই সুখকর মনে করছেন না দেশটির সরকার। বরং এটিকে জাতীয় সমস্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এভাবে কাজের সন্ধানে পুরুষেরা প্রবাস জীবনকে বেছে নিলে সেই দিন বেশি দূরে নয় যখন গোটা নেপাল পুরুষশূন্য হয়ে পড়বে। 

আর/১৭:২৪/০৩ মে

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে