Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৩-২০১৬

লাদেন হত্যায় কি লাভ হলো?

লাদেন হত্যায় কি লাভ হলো?

ওসামা বিন লাদেন হত্যার পাঁচ বছর আগেকার কথা। তখনও আরব বসন্ত তার যৌবনাবস্থায় আছে এবং আরব বিশ্বের চারজন রাষ্ট্রনায়ককে কুপোকাৎ করে দিয়েছে। লাদেন সেই আরব বসন্তের প্রসংশা করেছিলেন তথাকথিত এক অডিও বার্তায়। অজানা কোনো এক স্থান থেকে প্রচারিত সেই অডিও বার্তায় ওসামা বিন লাদেন আরব বিশ্বে তার অনুসারী এবং অনুগামীদের রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধী শক্তির হাত শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন তিনি ‘জালেম এবং স্বৈরাচারি’ সরকারগুলোকে বহুল আলোচিত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে উৎখাতের জন্য ডাক দিয়েছিলেন।

অডিও বার্তায় ঠিক এভাবেই বলেছিলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে মুসলিম জাতি যে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিল সেই সুযোগকে অবহেলা করা এবং ফসকে যেতে দেয়া হবে ঘোরতর গুনাহর কাজ। এখনই মুর্তি এবং ভাস্কর্যগুলোকে ধ্বংস করে বিশ্বাস এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।’ কিন্তু বিশ্ববাসীকে সাক্ষ্য রাখার জন্য লাদেন আজ আর জীবিত নেই যে, কিভাবে একজন পলাতক নেতা যার স্বপ্ন ছিল ক্ষমতাধর ‘নাস্তিক’ দেশগুলো এবং তাদের স্থানীয় ‘বন্ধুরা’ কিভাবে আরব বসন্তকে বিশ্বে জিহাদি মতবাদের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

এখনও প্রচলিত অনেক বুদ্ধিজীবিই মনে করেন যে, বিভিন্ন মৌলবাদী দলগুলোর এই উত্থান মূলত আরব বসন্তের ব্যর্থতা এবং ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষমতা পরিবর্তনের কারণে হয়েছে। আজ আরব বসন্ত পরবর্তী সময়ে আমরা আরব বিশ্বের মঞ্চে দেখতে পাচ্ছি ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লীভান্ত(আইএসআইএল) নামক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে। আলকায়েদার উদর থেকে জন্মগ্রহন করা এই দলটি ইতোমধ্যেই গোটা আরব বিশ্বে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ইসলামিক স্টেট ছাড়াও আরও অনেকগুলো ছোটো ছোটো দল আরব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আজও ওসামা বিন লাদেনের স্বপ্ন পূরণে ব্যস্ত আছে মানুষ হত্যা ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে।

সর্বদাই ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ উঠলেই একটা প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এই যে ধর্মীয় চরমপন্থার দ্বন্দ্ব, সেটা কি লাদেনের ভাববাণী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা নাকি স্রেফ তার কার্যক্রমের অংশ মাত্র। বিন লাদেনের মৃত্যুর কিছুদিন পরেই আলকায়েদার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রদান করা হয়। সেই বিবৃতিতে শপথপূর্বক বলা হয়, ‘ইসলামের সৈনিকরা’ অবশ্যই ক্লান্ত এবং হতাশ না হয়ে তার প্রদর্শিত পথে চলবে। শেখ ওসামা এমন কোনো সংগঠন তৈরি করেননি যা তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে।’ ওই বিবৃতি থেকে স্পষ্টতই আলকায়েদার পুনরুত্থান নির্দেশ করে, যা তৎকালীন সময়ে বিশ্বনেতৃবৃন্দ বুঝতে পারেনি।

এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ভেবেছিলেন যে, সেনাবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে লাদেনকে হত্যা করে পশ্চিমের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র শেষ হবার চিন্তা করা হলেও আলকায়েদার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চালাতেই হবে। সেসময় ওবামা তার ভাষণে বলেছিলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে আলকায়েদা আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমন চালাতে থাকবে। আমরা অবশ্যই বাড়িতে এবং বাইরে সতর্ক থাকবো।’ কিন্তু বাকপটুতার বাইরে এটাতো সত্যি যে, বিন লাদেনের মৃত্যুর মধ্য দিযে বিভিন্ন মৌলবাদী দলগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং গোটা বিশ্বকে দীর্ঘ মেয়াদে এবং স্বল্প মেয়াদে কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।

যে মানুষটি আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তার মৃত্যুতে ওবামা প্রশাসন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল এবং পাশাপাশি এটাও ভেবেছিল যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে তারা। অনেক বিশেষজ্ঞই বিন লাদেনের মৃত্যুকে দৃশ্যত একটি জয়জয়কার হিসেবে দেখছেন। কিন্তু নেতা লাদেনের মৃত্যুর পর আলকায়েদার কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব এবং অধীনস্তরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, লাদেনের মৃত্যুর ফলে আলকায়েদা নিজেদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন হামলা চালানো থেকে নিজেদের বিরত রাখে এবং স্থানীয় জিহাদিদের দিয়ে কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের মাধ্যমে কাজ করতে থাকে।

ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফ্রান্স, সোমালিয়া, সাহারাভুক্ত দেশগুলো, বেলজিয়াম এবং তুরস্কে যে হামলাগুলো হয়েছে বা হচ্ছে তা সবই লাদেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। দুর্ভাগ্যবশত পশ্চিমা কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে লাদেনকে হত্যা করা হলেও তার চিন্তাধারাকে হত্যা করা যায়নি। আর ওই চিন্তাধারার প্রকাশ হিসেবেই আজকের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। স্বঘোষিত জিহাদিরা আজ ঐতিহাসিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে এবং পশ্চিম ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যবর্তী অবস্থানে অবস্থান করছে তারা।

বৈদেশিক আধিপত্যবাদ, ইসলামফোবিয়া, পশ্চিমা সমর্থিত আরব মিত্র, গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালারা, স্বাধীনা এবং মানবাধিকার ক্ষুন্ন, দুর্নীতি এবং দারিদ্রতা এসবই লাদেনের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। লাদেনের হত্যার বিষয়টি পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে সত্যি, কিন্তু এই মৃত্যুর খেসারত যে পৃথিবীকে কতভাবে দিতে হচ্ছে তা বোধকরি লেখা থাকবে না। আর তাই এই বিতর্ক আজ সকলের সামনে চলে এসেছে যে, লাদেনের হত্যা পরবর্তীতে কি বিশ্ববাসী শান্তিতে আছে?

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে