Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-০২-২০১৬

উন্নয়ন ধারণা‌র চেয়ে বিভ্রান্ত ধারণার গতিবেগ বেশি?

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা


উন্নয়ন ধারণা‌র চেয়ে বিভ্রান্ত ধারণার গতিবেগ বেশি?

ঢাকা, ০২ মে- চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সাময়িক হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। গত শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট' প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংশয় প্রকাশ করা হয়।

প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে সংশয় বিশ্বব্যাংকের। আর জনগণের সংশয় সরাসরি প্রবৃদ্ধি নিয়েই। সরকার যখন বলছে উন্নয় বাড়ছে তখন জনগণ দেখছে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খুনাখুনি। সেই খুনের আবার বিচারও নেই। বিচারহীনতার কষ্টের মাঝেই জনগণের মনোকষ্ট আরো বাড়াতে জনগণের অর্থে বেতনভুক পুলিশ প্রধান বলেছেন ঘরে ঘরে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেককে নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে। নিজের নিরাপত্তা, প্রতিবেশীর নিরাপত্তা, এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

তবে কি জনগণ এমন উন্নয়ন চায় যে তাকে বেঘোরে মরতে হবে? এমন উন্নয়ন চায় যখন রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী প্রধান বলবেন তার কোন দায় দায়িত্ব নেই? 

কিন্তু আলোচনার বিষয় ঠিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নয়। সেটি নিয়ে আলোচনার আর কিছু আছে বলেও মনে হয়না। স্বাভাবিক মৃত্যুর কোন পরিস্থিতি নেই দেশে এখন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অপরাধীদের কাছে সরকার আর তা বাহিনীগুলো মিলে আত্মসমর্পণ করেছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আছে। তার একটা সুফল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা পেয়েছেন। তাদের বেতন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আর তাদের এই অস্বাভাবিক বেতন বাড়ানো বড় প্রভাব রেখেছে প্রবৃদ্ধির উর্ধগতিতে। তবে ৭.০৫ শতাংশ নিয়ে প্রশ্ন বা সংশয় থাকলেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি যে ভাল তা নিয়ে দ্বিমত নেই কারো। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশ ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। বিশ্বব্যাংক বলছে সংখ্যা নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে প্রবৃদ্ধি যাতে টেকসই হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।

প্রশ্ন হলো প্রবৃদ্ধি বেড়েছে তো জনগণ কি পেয়েছে? পেয়েছে চাপাতি সংস্কৃতি। তার জন্য কাজ নেই, কারণ বিনিয়োগ নেই। দৃশ্যমান কোন গতি নেই অর্থনীতিতে। সরকারি বিনিয়োগে বড় বড় কিছু স্থাপনা চোখে পড়ছে বিধায় উন্নয়ন উন্নয়ন বলে একটা চিৎকারও আছে। কিন্তু কোথায় যেন মনে হয় ‌উন্নয়ন ধারণা‌র চাইতে বিভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ার গতিবেগ অনেক বেশি।

বিশ্বব্যাংক যা বলেছে তা যে কারো কথাই হবে। প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ নিয়ে বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়। টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হতে হবে, বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ। এই উন্নয়নের ধারণা–‌বিভ্রাটের প্রধান বিষয় অবকাঠামো। কলকারখানা, সেবামুলক বানিজ্য সবকিছুর জন্যই অবকাঠামো দরকার। সে কাজ সরকার করে। কে কী করে বিনিয়োগ করবে তার কোনও হদিশই নেই। রাস্তা ঘাট সবই হচ্ছে। কিন্তু রাস্তা দিয়ে যাবো কোথায়? রাজধানীতে দশ মিনিটের পথ দু’ঘন্টায়ও কখনো কখনো পার হওয়া যায়না। বলা হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর হবে। কিন্তু যাবে-আসবে কে এয়ারপোর্ট থেকে?‌ তেমন কোনও প্যাসেঞ্জারই তো নেই। বিদেশি এয়ারলাইন্স কমছেতো কমছেই। বিমান রুগ্ন হতে হতে অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে চললেও তা নিয়ে কোন ভাবনা নেই কোথাও।

ঢাকার রাস্তায় সব রকমের গতিসম্পন্ন যান চলে, তবে কোনটিই এগোয়না। ফ্লাইওভার হচ্ছে। কিন্তু এগুলোর বেশির ভাগই জনগণের জন্য বন্ধ, গণপরিবহণের জন্য বন্ধ, বাসের জন্য বন্ধ — শুধু প্রাইভেট গাড়ির জন্য খোলা। গাড়ির জন্য রাস্তা, উড়ালসেতু বানানো?‌ আমাদের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশের গাড়ি কেনার টাকা আছে?‌ উন্নয়নের ধারণা–‌বিভ্রাটে খাবার পানি পায় না কত এলাকার মানুষ  সেই খবর কয়জনে রাখে?

যা চাই আর যা চাইনা সেকথা শোনারও কেউ কি আছে? বলছিনা উড়ালসেতু চাইনা। কিন্তু আরো অনেক কিছুতো চাই। পানি চাই, হাসপাতাল চাই, পাড়ায় পাড়ায় স্কুল চাই, খেলার মাঠ চাই, পাড়ার বাচ্চাদের পাড়ার স্কুলেই পড়তে হবে,‌ এই রাজধানীতে বাধ্য হয়ে যাঁদের ফুটপাথে শুতে হয়, তাঁদের জন্য রাত–‌কাটানোর জায়গা চাই, পাড়ায় পাড়ায় রাতভর খোলা থাকা ওষুধের দোকান চাই, চাপাতির কোপ থেকে বাঁচতে চাই।

উন্নয়নের জোয়ারে শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ অত্যাবশ্যকীয় খাত সেবা নয়; পণ্যে পরিণত হয়েছে। আমরা সাধারনেরা সেই পণ্য কিনতে সক্ষম নই। যদি আমি এই সেবা কিনতে না পারি তাহলে ভাবতে হবে আমি আমার ন্যুনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। মানুষের অধিকার হরণের মধ্য দিয়ে আসলেই উন্নয়ন সম্ভব?

দেশের খুব সামান্য একটা শ্রেণীর হাতে সম্পদ কুক্ষিগত। কিছু মানুষের উন্নতি, আর বিপুল সংখ্যক মানুষের হতদরিদ্র হয়ে পড়াকে উন্নয়ন বলা সম্ভব নয়। চাইয়ের তালিকায় তাই নজর চাই সমতার আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনায়। যে পরিকল্পনা শ্রেণী-বৈষম্য হ্রাস করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে ভূমিকা রাখবে।

এস/২১:৩৫/০২ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে