Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০১-২০১৬

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে ফের সন্দেহ বিশ্বব্যাংকের

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে ফের সন্দেহ বিশ্বব্যাংকের

ঢাকা, ০১ মে- চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দাবি করছে সরকার। সাময়িক হিসাবের ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রবৃদ্ধির এ তথ্য প্রকাশও করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। তবে এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটির মতে, যেসব উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে, তার মধ্যে একমাত্র রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। বাকি সব সূচকই গত অর্থবছরের তুলনায় নিম্নগামী। এ পরিস্থিতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের তুলনায় বেশি কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে সন্দিহান দাতা সংস্থাটি।

গতকাল বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতির মূল্যায়ন তুলে ধরতে গিয়ে প্রবৃদ্ধি নিয়ে এমন মন্তব্য করে বিশ্বব্যাংক। তবে চলমান বিশ্বমন্দা পরিস্থিতিতে যেটুকু প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে, তার প্রশংসা করেছে সংস্থাটি।

এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিবিএস সর্বশেষ যে উপাত্ত প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ব্যক্তিখাতে ভোগ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমেছে যথাক্রমে দশমিক ৩ ও দশমিক ২ শতাংশ।

আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা জিডিপিতে ঋণাত্মক অবদান রাখে। আর রফতানি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে যথাক্রমে দশমিক ২ ও দশমিক ৭ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশের তুলনায় বেশি হয় কীভাবে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে ‘৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বিশ্বাসযোগ্য কি?’ শীর্ষক বিশ্লেষণে চলতি অর্থবছরের নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আহরণ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আমদানির জন্য এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কম। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রিও কমেছে। শুধু রফতানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ কমেছে, রেমিট্যান্স কমেছে, উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে সমস্যা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধীরগতি, শিল্পে সময়মতো গ্যাস-বিদ্যুত্ সংযোগ পাওয়া যায় না। তাহলে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কীভাবে হলো? সব কথা মুখে বলার প্রয়োজন হয় না, বুঝে নিতে হয়।

চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার নানা আভাসের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, কেউ ৬ দশমিক ৩, কেউ ৬ দশমিক ৬, আবার কেউ ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলছে। আবার সরকার বলছে, ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। সবই ৬ শতাংশের ওপর। যে সংখ্যাই হোক না কেন, এ প্রবৃদ্ধি পৃথিবীর অন্যতম সেরা প্রবৃদ্ধির একটি। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

আগামীতে প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাসের কারণ জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন আরো বলেন, কিছু বিষয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে। যেমন কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে, সরকারের বিনিয়োগ বাড়লেও সম্পদ তৈরি হচ্ছে না। এগুলো হলে আগামীতে প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখা যেত। দাবি করা হচ্ছে, চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধির বাড়তি অংশ এসেছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি থেকে। প্রতি বছর তো তা বাড়বে না। তাই আগামীতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা নেমে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান বলেন, দুই কোটির বেশি জনসংখ্যা রয়েছে এমন ১১৮টি দেশের মধ্যে মাত্র ১২টি দেশ ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এর মধ্যে একটি। সুতরাং এটা খুবই বড় অর্জন। প্রবৃদ্ধি এখানে ৬ শতাংশ না ৭ শতাংশ, তা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের লিড ইকোনমিস্ট বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় আছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, মুদ্রা বিনিময় হার এবং সুদের হারের ক্ষেত্রে। তবে কিছু উদ্বেগও আছে, বিশেষ করে রাজস্ব নীতির ক্ষেত্রে। এছাড়া রাজস্ব আহরণে আছে কিছু দুর্বলতা। উন্নয়ন ব্যয়ে গুণগত ও বাস্তবায়ন গতিতে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ধীরগতি থেকে বেরোনো যাচ্ছে না। এছাড়া ব্যাংকঋণ পরিশোধে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে সরকার। এতে কম সুদের উত্স থেকে বেশি সুদের উেসর ঋণ নেয়ায় সুদ পরিশোধের বোঝা বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বেসরকারি ও সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানো। এজন্য জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে যে তিনটি চাবিকাঠি রয়েছে, তার একটি হচ্ছে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় আরো এগিয়ে যাওয়া। জ্বালানি খাতের উন্নয়নে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হবে। এ খাতে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি প্রচুর বিনিয়োগ দরকার।

ড. জাহিদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের সুদের হার কিছুটা কমে এলেও তা আরো কিছুটা কমলে ভালো হতো। তবে সরকারি ব্যাংকগুলো দুর্বলতা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। আবার তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের তালিকায় উঠে গেছে। উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ১২৫ ডলার দরকার। ৮ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ সে তালিকায় যেতে পারবে।

জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়া প্রসঙ্গে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এজন্য ২০১৮ সালের মধ্যে নির্ধারিত তিনটি সূচকের যেকোনো দুটিতে নিজেদের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এগুলো হলো— মাথাপিছু আয়, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ও মানবসম্পদ সূচক। এর মধ্যে ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জন করেছে। অন্য যেকোনো একটিতে যোগ্যতা অর্জনের পর ছয় বছর পর্যবেক্ষণে থাকবে বাংলাদেশ। এর পর ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বেরোনো যাবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে