Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

কর্মক্ষেত্রে 'মিথ্যা হাসি' স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর!

আফসানা সুমী


কর্মক্ষেত্রে 'মিথ্যা হাসি' স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর!

যখন আমরা শপিং-এ যাই, শোরুমে কর্মরত সেলসপারসন হাসি মুখে স্বাগত জানায় আমাদের। ঠোঁটে মিষ্টি হাসি রেখেই আমাদের প্রশ্ন করে, আমাদের কী চাই, কেমন চাই ইত্যাদি। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে হাসিমুখে দরজা খুলে দেয় কর্তব্যরত গার্ড। ওয়েটার এসে হাসি মুখে জিজ্ঞেস করে- কী খাবেন?

শুধু এসব ক্ষেত্রে নয়, অনেক অফিসে শুধু হাসিমুখে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যেও লোক নিয়োগ করা হয়। কখনো কখনো নিয়োগপত্রে উল্লেখ থাকে, ক্লায়েন্টদের হাসিমুখে বরণ করতে হবে, শুভেচ্ছা জানাতে হবে। আপনি-আমিই চাকরিক্ষেত্রে অলিখিত চুক্তিতে মিথ্যা হাসির আশ্রয় নিই, সব কিছু স্বাভাবিক দেখাতে, প্রফেশনাল সম্পর্ক বজায় রাখতে।

এই হাসি স্বাভাবিক নয়। নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার ভাল লাগা থেকে বা কাজের প্রতি আবেগ থেকে নয়। এই হাসি একটি দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্ব পালন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

এটা এক ধরণের মানসিক শ্রম। আপনি যখন মনের অভ্যন্তরে খারাপ অনুভূতিগুলো চেপে রেখে কর্ম ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট বা সহকর্মীদের সাথে মিথ্যা হাসির সম্পর্কের আশ্রয় নেন, তখন প্রকারান্তরে আপনি আপনার মানসিক চাপ বাড়িয়ে ফেলেন। চাকরীর প্রতি অসন্তুষ্টিও বাড়ে। সবমিলিয়ে হতাশা, বিষন্নতা, স্ট্রেস বেড়ে গিয়ে আপনার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। কী করবেন তাহলে? জেনে নিন কিছু টিপস-

১। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলান। আপনার ক্লায়েন্ট একটা কাজে যখন আপনার কাছে আসে একটু ভাল ব্যবহার সে আশা করে এবং তার প্রাপ্য। তার অবস্থান থেকে ভেবে দেখুন।

২। একাগ্রতার অনুশীলন করুন। আপনার কাজ বা ক্লায়েন্টকে সারাক্ষণ বিচার করার মানসিকতা ত্যাগ করুন।  যতই পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে নেবেন ততই আপনার শ্রম বাড়বে, স্ট্রেস বাড়বে।

৩। পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই সময়মত ঘুমিয়ে নিন। চেষ্টা করুন ঘুমকে নির্বিঘ্ন করতে। আলো কময়ে, ঘরকে ঠান্ডা করে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন। ঘুমের পর আপনার মানিসিক শান্তি এমনিতেই আপনার মুখে হাসি এনে দেবে।

৪। আপনার পেশাকে ইতিবাচক চোখে দেখুন। আপনার হাসি অন্য মানুষকে বিব্রতবোধ থেকে রক্ষা করে, তার কাজকে সহজ করে, তাকে বন্ধুত্বপূর্ণ আবহাওয়া দেয় এবং এর মধ্য দিয়ে আপনার পারফরমেন্সও ভাল হয়। তাই নিজের কাজ নিয়ে আনন্দিত হোন।

৫। আপনার যদি খুব খারাপ লাগে তাহলে সাময়িক বিরিতি নিন। অন্য কোন কাজ করুন যেখানে আপনাকে কারও সাথে কথা বলতে হচ্ছে না। নিজেকে কিছুটা সময় দিন। প্রয়োজনে ছুটি নিন।

৬। আপনার সহকর্মীদের সহযোগিতা করুন। তাদের মানসিক খারাপ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়ান। একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। আপনার প্রয়োজনে তারাও আপনার পাশে দাঁড়াবে।

লিখেছেন- আফসানা সুমী

এফ/০৭:২৬/৩০এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে