Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

সন্তানের জন্য অতি উদ্বিগ্নতার ভাল মন্দ

আফসানা সুমী


সন্তানের জন্য অতি উদ্বিগ্নতার ভাল মন্দ

আপনি কি আপনার সন্তানকে নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন? সারাক্ষণ একটা ভয় কাজ করে আপনার মধ্যে? আপনার সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে আপনি সদা সচেতন? সচেতন হওয়াই উচিৎ। আমরা অনেক ভালবাসি আমাদের সন্তানকে। তাদের গায়ে ফুলের টোকা লাগলেও আমাদের চিত্ত চঞ্চল হয়ে ওঠে। আমরা তাদের জগতের সকল দুঃখ, কষ্ট থেকে দূরে রাখতে চাই। নিজে কষ্ট পেলেও আগলে রাখি তাদের।

কিন্তু সেই দুশ্চিন্তা, যত্ন যদি আপনার খাওয়া-ঘুম কেড়ে নেয় তবে নিজেকে শান্ত করুন। একটু শ্বাস নিন। ব্যক্তি আপনাকে হারিয়ে ফেলছেন না তো? ভাবছেন না তো সন্তান হওয়ার আগে অনেক ভাল ছিলেন? স্ট্রেসের মাত্রা বেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন না তো? তাহলে আপনি অতিরিক্ত ইম্প্যাথিক অভিভাবক। জেনে নিই এর ভাল-মন্দ।

আপনার নিজেকে ভুল মনে হতে থাকে
আপনার আশপাশের বাবা মায়েরা যেখানে আপনার তুলনায় নিশ্চিন্ত তখন আপনার মনে হতে থাকে আপনার উদ্বিগ্নতার কারণ ভুল কিনা! তারাও বারবার মনে করিয়ে দিতে থাকেন, আপনি বেশি চিন্তা করছেন। আপনি এটাও ভাবেন, কি করে তাঁরা এত নিশ্চিন্ত! আসলে তাদেরকেও বিচার করার কিছু নেই। আবার তাদের মানসিকতা দিয়ে নিজেকে বিচার করতে যাবেন না।

সুখবর! এটা কোন সমস্যা নয়
বিভিন্ন পরসংখ্যানে দেখা গেছে, সন্তানকে নিয়ে এই উদ্বিগ্নতা খারাপ কিছু নয়। বরং তাদের সন্তান বেশী ভাল ভাবে গড়ে ওঠে যারা সন্তানের প্রতি বেশি যত্নশীল হয়। এসব শিশুরা শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। তারা কখনো একলা বোধ করে না। বাবা মায়ের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তারা ভুল পথে যায় না, সব কথা শেয়ার করে, তাদেরকে গাইড করা সহজ হয়।

উল্টোটিও হতে পারে
আপনার অধিক উদ্বিগ্নতা যদি শিশুর স্বাধীনতা কেড়ে নেয় তাহলে একটা বয়সের পর সেটা মেনে নেওয়া শিশুটির পক্ষে কষ্টকর হতে পারে। বিশেষ করে কিশোর বয়সে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসময় আপনার সন্তান চায় তার সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে। এ সময়টায় তার কাছে যেমন অনেক কিছুই নতুন, তেমনি তার জানতে চাওয়ার আগ্রহ তাকে উৎসাহিত করে নিয়ম ভাঙতে। তাকে বুঝে বুঝে আচরণ করলে আপনি নিজেও শান্তিতে থাকবেন, সেও আপনার কাছে কিছু লুকোবে না।

ভুল হতেই পারে
আমরা সবসময়ই পড়েছি, শুনেছি, জেনেছি যে, মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু ভুল করাকে মেনে নিতে পারি না আমরা। সন্তানের কোন যত্নে বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি আমাদের কষ্ট দেয়। আমরা সেটা নিয়ে ঝগড়া করি, রেগে যাই। কখনো কখনো সেই রাগ শিশুটির উপরেও বর্তায়। ভুল হতেই পারে। আপনার সন্তানও ভুল করতে পারে। ভুল করা মানেই ভালোবাসা কমে যাওয়া বা যত্নশীল না হওয়া হয়। ভুল করে করেই মানুষ শিখে।

শিখতে দিন
সন্তানের প্রতি ভালবাসা থাকবেই। কিন্তু সেটা যেন তার শেখার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে সে দিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে তার সাথে সাথে থাকুন, দূর থেকে দেখুন, কিন্তু তার কাজে বাধা দেবেন না। পড়ে যেতে পারে, ব্যাথা পেতে পারে, কোন সমস্যা হতে পারে এই চিন্তা অতিমাত্রায় করা হলে সে সাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে শিখবে না। তাকে নিজের কাজ নিজে করতে দিন, নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখতে দিন, কাপড় ভাহ করতে দিন। আরও বড় হলে নিজের নাশতা তৈরি করে খেতে উৎসাহী করুন।

নিজেকে সময় দিন
নিজের জন্য একটু সময় বের করুন। অতিরিক্ত স্ট্রেস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। আপনি অসুস্থ হয়ে গেলে আপনার সন্তানের খেয়াল রাখবে কে? তাই নিজেরও একটু যত্ন নিন। সব চিন্তা দূরে রেখে বিকেলে একটু বসুন বারান্দায়, এক কাপ চা নিন, গান শুনুন বা বই পড়ুন। মনকে শান্ত করুন। নিজের সাথে নিজের সংযোগ ধরে রাখুন।
 
ভালবাসা অবশ্যই অনেক বড় গুণ। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা হয় নিঃস্বার্থ। পৃথিবীর কোনকিছুর সাথে তার তুলনা হয় না। শুধু একটু সচেতন থাকুন। ভালবাসা যেন শৃঙ্খল না হয়। ভালবাসা যেন বন্ধুত্বের অমূল্য ছায়া হয় আপনার সন্তানের মাথার উপর।

লিখেছেন- আফসানা সুমী

এফ/০৭:২০/৩০এপ্রিল

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে