Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

বাংলাদেশ থেকে গমের মহামারি ছড়ানোর শঙ্কা

ইফতেখার মাহমুদ


বাংলাদেশ থেকে গমের মহামারি ছড়ানোর শঙ্কা

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল- গত মার্চে দেশের ছয়টি জেলায় গমখেতে যে ‘ব্লাস্ট’ রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার জীবাণু ব্রাজিল থেকে এসে থাকতে পারে। আর বাংলাদেশ থেকে এটি ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞানবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী নেচার-এর চলতি সংখ্যার প্রধান প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ এশিয়ার যেসব দেশ ব্রাজিল থেকে গম আমদানি করেছে, তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

ব্লাস্ট রোগ গমের ফলন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়। তবে মানবশরীরে এটার কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
‘এশিয়ায় এই প্রথম গমের ধ্বংসাত্মক ছত্রাকের সংক্রমণ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে নেচার-এর ২৮ এপ্রিল সংখ্যায়।

ব্লাস্ট রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্তকারী গবেষণা দলের অন্যতম দলনেতা ও যুক্তরাজ্যের সেইন্সবোরি ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী সোফিয়ান কেমাউন লন্ডন থেকে টেলিফোনে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের আক্রান্ত হওয়া গমের ছত্রাকের জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ওই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বের বেশ কয়েকটি গবেষণা সংস্থা এর সঙ্গে ব্রাজিলের ছত্রাকের মিল পেয়েছে। বিশ্বের আর কোনো দেশে যাতে এই ছত্রাক ছড়িয়ে না পড়ে এবং বাংলাদেশে যাতে আর আক্রমণ না হয়, সে ব্যাপারে কাজ করার জন্য আমরা এখন বিশ্বের বিজ্ঞানী সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছি।’

ব্রাজিলে ব্লাস্ট রোগের প্রথম সংক্রমণ দেখা যায় ১৯৮৫ সালে, এটার পেছনে দায়ী হিসেবে শনাক্ত করা হয় ম্যাগনাপরথি ওরাইজি নামের ছত্রাককে। পরে দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রাদুর্ভাবে ওই মহাদেশে প্রতিবছর গমের ফলন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয় বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ ছয়টি জেলায়। এ রোগের আক্রমণে এসব এলাকার ৯০ শতাংশ গম নষ্ট হয়ে যায়।

দেশের সবচেয়ে বেশি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গা। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চুয়াডাঙ্গা জেলার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল্লাহ জানান, তাঁরা বাংলাদেশ গম গবেষণা কেন্দ্রের কাছ থেকে বীজ এনে চাষ করেছেন। ওই জমিতে কেন ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ ঘটল, তা তিনি জানেন না। দেশি গম থেকে ওই রোগ ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশ গম গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা বলেন, ‘আগে আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটেনি। ফলে গমবীজে এই ছত্রাক আছে কি নেই, তা পরীক্ষা করার সুযোগ হয়নি। তবে আক্রান্ত হওয়ার পর আমরা দ্রুত তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
বাংলাদেশে গমের ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নেচার-এর ওই প্রতিবেদনে যে গবেষণার বরাত দেওয়া হয়েছে, সেই গবেষণাটি করা হয়েছে জুরিখভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষণাগারে। সংস্থাটি ধানের ৪৭ ধরনের ছত্রাক এবং ব্রাজিলের গমের ৩২ ধরনের ছত্রাকের সঙ্গে নমুনা পরীক্ষা করে বাংলাদেশের গমে আক্রমণকারী চারটি ছত্রাকের।

গবেষক দলটি ব্রাজিলের গম আমদানি ও রপ্তানির এক চমক লাগানো তথ্য দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ২০১৪ সালে ১৪ লাখ টন গম রপ্তানি করে আবার ওই বছরই সাত লাখ টন গম আমদানি করেছে। আর তাদের রপ্তানি করা গমের ৮০ শতাংশই থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম কিনেছে।

বাংলাদেশ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানি করে খাদ্যশস্য হিসেবে। চাষের জন্য গমবীজের চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। বাকি বীজ কৃষক অন্য কৃষকদের কাছ থেকে ও বাজার থেকে সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে বাজার থেকে কেনা খাওয়ার গমও কৃষকেরা চাষ করেন বলে জানিয়েছেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্রাজিল থেকে তিনটি জাহাজে দুই লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করে খাদ্য বিভাগ। ওলান ও ইমপেক্স নামে দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আনা ওই গমের মান নিয়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সাংসদেরা প্রশ্ন তোলেন। পরে সরকারি পরীক্ষায় ওই গম নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত হলেও তা খাওয়ার উপযোগী হিসেবে মতামত দেওয়া হয়।

খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরীক্ষাগারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেন, ‘আমরা আমদানির জন্য মোট নয়টি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেই পরীক্ষা করি। তবে তাতে জীবাণু আছে কি না, সেই পরীক্ষা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগ। বন্দর থেকে তারা গমের নমুনা পরীক্ষা করে অনুমোদন দেওয়ার পরেই গম দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে কোনো বীজ গম আনা হয় না। তবে নেচার-এর প্রতিবেদন বা কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান যদি সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের জানায় কবে ব্রাজিলের কোন গম থেকে এই রোগ ছড়াল, তাহলে আমাদের পক্ষে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।’

গমের ব্লাস্ট রোগের জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্তকারী গবেষক দলের বাংলাদেশ অংশের দলনেতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এত দিন গবেষণা করেছি ব্লাস্ট রোগের উৎস নিশ্চিত হওয়ার জন্য। জিন এডিটিং করে ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী নতুন জাত উদ্ভাবনের প্রযুক্তি খোঁজা হচ্ছে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া গতকাল শুক্রবারের দৈনিক খাদ্যশস্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৩৩ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে। আরও ৩১ লাখ ৭৪ হাজার টন গম আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এ বছর দেশে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার টন গম উৎপাদিত হয়েছে।

এস/০৬:৩০/৩০ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে