Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

হেলে পড়া একটি ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ

সুজন ঘোষ


হেলে পড়া একটি ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ

চট্টগ্রাম, ৩০ এপ্রিল- ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম নগরের হেলে পড়া ১১টি ভবনের মধ্যে এনায়েত বাজার এলাকার তিনতলা একটি ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। বাকি ১০টির মধ্যে ছয়টি ভবনের ওপরের দিকের বিভিন্ন ফ্লোরকে (তলা) ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি। এসব ফ্লোর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে সাময়িকভাবে তা সিলগালা করে দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) গঠিত পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলে পড়া আটটি ভবনের শুধু ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লোর নাকি পুরো ভবন ভেঙে ফেলতে হবে, সে জন্য আরেকটি সমীক্ষা (ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকির মূল্যায়ন) করতে হবে। ভবনের মালিকেরা নিজ খরচে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) দিয়ে এই সমীক্ষা করাবেন।

গত বুধবার সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের কাছে বিশেষজ্ঞ কমিটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ক্ষয়ক্ষতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির সদস্যরা ১৮ ও ১৯ এপ্রিল ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নগরের ১২টি ভবন পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পাঁচটি, বাণিজ্যিক ভবন ছয়টি এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে একটি ভবন। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯।

এনায়েত বাজার এলাকার তিনতলা ভবন এক মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। ভবন ভাঙার ব্যয় মালিকপক্ষকে বহন করতে বলা হয়েছে। তিনতলা এই ভবনটি পাশের পাঁচতলা ভবনের ওপর হেলে পড়েছে এবং বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত এই ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি। ভবনটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ভবনের নিচতলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় বাসা ও অফিস রয়েছে।

ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা এনায়েত বাজারের তিনতলা ভবনের মালিকদের একজন মো. শহিদুল হক। তাঁর ছেলে মোহাম্মদ জিয়াউল হক গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিডিএ যদি ভবন ভেঙে ফেলতে বলে, তাহলে আমরা ভেঙে ফেলব। এই ভবনে তো আমরাই থাকব। তাহলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে বাস করার দরকার কী?’

কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেলে পড়া ১১টি ভবনের বাইরে নগরের আতুরার ডিপোর মীর পাড়া এলাকায় পাঁচতলাবিশিষ্ট ইনতিহাজ টাওয়ারের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণাধীন এই ভবনেরও চতুর্থ ও পঞ্চম তলা সিলগালা করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। একই সঙ্গে ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশও ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে। টাওয়ারের নিচতলায় একটি বিদ্যালয়, দ্বিতীয় তলায় বিউটি পারলার ও তৃতীয় তলা আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কমিটির প্রতিবেদনে হেলে পড়া ১১টি ভবনের মধ্যে হালিশহর বি ব্লকের নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের সব কটি ফ্লোর খালি করা, নিউমার্কেট এলাকার নয়তলা মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের ওপরের ছয়টি তলা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ছয়তলাবিশিষ্ট শিরিন নিকেতনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা, আতুরার ডিপোর মীর পাড়ার পাঁচতলাবিশিষ্ট আয়েশা টাওয়ারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা, ওয়াসা মোড়ের নয়তলাবিশিষ্ট মীম হাসনাত টাওয়ারের চতুর্থ থেকে নবম তলা এবং এর পাশের ছয়তলা ভবন আল-আমিন টাওয়ারের ষষ্ঠ তলা থেকে সব বাসিন্দা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হেলে পড়া অন্য চারটি ভবন হচ্ছে হালিশহরের বি-ব্লকের একটি পাঁচতলা ভবন, নিউমার্কেট এলাকার আটতলার সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্স, এনায়েত বাজারের একটি পাঁচতলা ভবন ও জিইসি মোড়ের পাঁচতলাবিশিষ্ট বাদশা ভবন। এসব ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া না হলেও বুয়েট বা চুয়েটকে দিয়ে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকির সমীক্ষা করাতে সুপারিশ করা হয়েছে।
হেলে পড়া ভবনগুলোর ক্ষতির মাত্রা এবং বসবাসের উপযোগিতা নির্ধারণের জন্য ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলমকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে সিডিএ। কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম গতকাল বিকেলে বলেন, ১১টি ভবন হেলে পড়েছে বলে তাঁদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। একটি ভবন ভেঙে ফেলা এবং ছয়টি ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ তলাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তাঁরা। ভবনমালিকেরা যাতে নিজ খরচে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকির সমীক্ষা করান, সেটি প্রতিবেদনে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীন উল ইসলাম খান বলেন, প্রতিবেদনটি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর বেশি তিনি কিছু বলতে চাননি।

এস/০৪:০৫/৩০ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে