Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

কলাবাগানে জোড়া খুন তদন্তে সহায়তা করতে চায় এফবিআই

কলাবাগানে জোড়া খুন তদন্তে সহায়তা করতে চায় এফবিআই

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআই রাজধানীর কলাবাগানের জোড়া খুনের মামলার তদন্তে সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই জোড়া খুনের ঘটনায় পাঁচ দিনেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিতে তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেছেন, জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যায় তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ গতকাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা ছিলেন জুলহাজ মান্নান। এই জোড়া খুনের পর এফবিআই খোঁজখবর নিচ্ছে। তারা তদন্তে সহযোগিতা করতে আগ্রহও প্রকাশ করছে। তবে এখনো লিখিতভাবে কোনো প্রস্তাব দেয়নি তারা।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এফবিআই জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বীর ডিএনএ পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পরীক্ষাগারে করাতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে তাদের (এফবিআই) বলা হয়েছে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষাগারে এ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বুধবার ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট জোড়া খুন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বার্নিকাট বলেন, ‘তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশ একা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে না। জুলহাজ মান্নান তাদের একজন ভালো সহকর্মী ছিলেন।’

ডিবি সূত্র জানায়, এর আগে লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবিকে তদন্তে সহায়তা করে এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। তারা আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিজিৎ হত্যার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পরীক্ষাগারে করায়। কিন্তু ওই প্রতিবেদন এখনো ডিবির কাছে এসে পৌঁছায়নি।

গত সোমবার কলাবাগানের উত্তর ধানমন্ডির ৩৫ নম্বর বাড়ির দোতলার বাসায় ঢুকে জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব রাব্বীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জুলহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডিতে চাকরি করতেন। তিনি সমকামীদের অধিকার-বিষয়ক সাময়িকী রূপবান সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাহবুব ছিলেন নাট্যকর্মী।

দুর্বৃত্তরা ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লাকেও কোপায়। পরে কলাবাগানের ডলফিন গলি দিয়ে পালানোর সময় এক দুর্বৃত্তকে জাপটে ধরলে এএসআই মমতাজকে কোপায় তারা। এই জোড়া খুনের ঘটনায় কলাবাগান থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে করা মামলা দুটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

তিনজন শনাক্ত: গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ধানমন্ডির বাসায় সাংবাদিকদের বলেন, কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। সময়মতো জানাব। আমরা তিনজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি—বিভিন্ন পত্রিকায়, খবরেও এসেছে। আপনারা দেখেছেন। তবে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আরও কয়েক দিন পরে সবকিছু জানাতে পারব।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত ঠিক পথেই এগোচ্ছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, হামলাকারীদের কাছ থেকে পুলিশের কেড়ে নেওয়া মুঠোফোনের কল-তালিকা ও নিহত দুজনের মুঠোফোনের কল-তালিকা এবং সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনি ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন গতকাল বিকেলে বলেন, সম্ভাব্য সব পন্থা অবলম্বন করে খুনি ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মা জানেন জুলহাজ বিদেশে চিকিৎসাধীন: জুলহাজের বড়ভাই মিনহাজ মান্নান গতকাল বিকেলে বলেন, ‘মায়ের স্মৃতিশক্তি আগে থেকেই একটু কম হলেও মা (সখিনা খাতুন) মাঝেমধ্যেই জুলহাজের কথা জানতে চাইছেন। মাকে আমরা বলেছি, জুলহাজ বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছে। সুস্থ হলে দেশে ফিরবে।’ তিনি বলেন, ‘মা এখনো জানেন না যে জুলহাজ নেই।’

পরিবার সূত্র জানায়, ঘটনার সময় কলাবাগানের বাসায় জুলহাজের মা ও তাঁদের গৃহপরিচারিকা ছিলেন। দুর্বৃত্তরা যখন চাপাতি দিয়ে জুলহাজকে আঘাত করছিল, তখন তাঁর চিৎকারে ঘুমিয়ে থাকা জুলহাজের মা খাবার কক্ষ থেকে দৌড়ে এসে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মায়ের গায়ে চেয়ার ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। কয়েক মিনিটের মধ্যে জুলহাজ ও তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা। এরপর মা নিজেই ছেলের রক্তাক্ত দেহ টেনে তোলার চেষ্টা করেন। স্বজনেরা এসেও দেখেছেন, মা ছেলের নিথর দেহের পাশে। পরে সন্ধ্যার দিকে তাঁকে গুলশানে বড় ছেলের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গতকাল মিনহাজ বলেন, ‘মা আমার কাছেই আছেন। মায়ের কাছে এ বিষয়ে কোনো কিছু জানতে চাইনি। আমরা তাঁকে এসব বিষয়ে মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছি না।’

এস/০৩:৫৫/৩০ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে