Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

ধানসিড়ির সামনে আবর্জনার স্তূপ

ধানসিড়ির সামনে আবর্জনার স্তূপ

বরিশাল, ৩০ এপ্রিল- ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়...’ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের সেই ধানসিড়ির সামনে এখন ময়লার স্তূপ। এই অবস্থায় কবি আর এখানে ফিরে আসতে চাইবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে নগরবাসীর মনে।

বরিশাল নগরের কবি জীবনানন্দ দাশ সড়কে কবির পৈতৃক বাড়িতে নির্মিত কবি জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি মিলনায়তন ও পাঠাগারের সামনে ওই ময়লার স্তূপ করছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। দেখাদেখি আশপাশের বাসিন্দারাও সেখানে ময়লা ফেলছেন।

স্থানীয় লোকদের অভিযোগ, প্রায় সাত-আট বছর আগে কবির পৈতৃক বাড়ি ধানসিড়ির সামনে ময়লা ফেলার স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন। তখন বাধা দিলেও করপোরেশন কর্ণপাত করেনি। ডাস্টবিন অপসারণে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিও পালন করেছেন নগরবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতি হিসেবে একটি মিলনায়তন ও পাঠাগার সাক্ষী হয়ে আছে। তার পাশেই ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড, তাতে লেখা ‘ধানসিড়ি’। এই ধানসিড়ি, স্মৃতি মিলনায়তন ও পাঠাগারের সামনে এখন ময়লার স্তূপ। আশপাশের বাসিন্দারা সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও ময়লা রাখছেন। সারা দিন এভাবেই চলতে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ২০০৯ সালের দিকে স্থায়ীভাবে এই ডাস্টবিন করা হয়। বাধা দেওয়া সত্ত্বেও জোর করেই এটি নির্মাণ করা হয়। এখন সেখানে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা এমনকি মরা কুকুর পর্যন্ত ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে টেকা যায় না। আরেক বাসিন্দা বাসুদেব রায় বলেন, ডাস্টবিনের কারণে এখান দিয়ে যাওয়ার সময় নাক চেপে যেতে হয়।

জাতীয় কবিতা পরিষদ বরিশালের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথি বলেন, একসময় বরিশালের রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ এখানে বারবার ফিরে আসতে চেয়েছেন। কিন্তু আজকের সেই ধানসিড়ির সামনের আবর্জনা ও বরিশাল দেখলে কবি ফিরে আসতে চাইতেন কি না সন্দেহ!
পার্থ সারথি বলেন, কবিকে নিয়ে সারা বিশ্বে গবেষণা হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে কবি-সাহিত্যিকেরা বরিশালে আসেন। কবির বাড়ির সামনে ময়লার স্তূপ দেখে তাঁরা হতাশ হন। এটা অপসারণের জন্য মানববন্ধন হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই।

বরিশাল অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কবি তপংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘রূপসী বাংলার কবির বাড়ির সামনে ময়লার স্তূপ বরিশালের বাসিন্দা হিসেবে আমরা না হয় মেনে নিলাম, কিন্তু কবির নিদর্শন দেখতে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে ঠিকই আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।’

জীবনানন্দ গবেষক কবি হেনরি স্বপন বলেন, ‘জীবনানন্দ দাশ এত বড় কবি, যাঁকে নিয়ে গর্ব করা যায়। কিন্তু আমরা বরিশালের মানুষ তাঁর মর্যাদা রক্ষা করতে পারছি না। এই লজ্জা, দুঃখ ও ক্ষোভের কোনো ভাষা নেই। অনেকে জীবনানন্দ দাশকে খুঁজতে বরিশালে আসেন। তাঁরা নাক চেপে তাঁর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ঢোকেন। সিটি করপোরেশনের অজ্ঞতার কারণে আমাদের লজ্জায় মুখ লুকাতে হয়।’

সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা দাবি করেন, আশপাশে ময়লা ফেলার স্থান না থাকায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেখানে ময়লা জড়ো করেন। তবে তা সেখান থেকে সকালেই বড় গাড়িতে করে সরানো হয়। নাগরিকদের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করলে সেটা দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এস/০১:৫৫/৩০ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে