Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

পদ্মার নদীশাসনের পাথর আটকে আছে বন্দরে

মাসুদ মিলাদ


পদ্মার নদীশাসনের পাথর আটকে আছে বন্দরে

চট্টগ্রাম, ৩০ এপ্রিল- পদ্মা সেতু এলাকায় নদীশাসনের কাজে ব্যবহার করার জন্য ৩৫ হাজার টন পাথর আমদানি করেছিল এম এফ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। ভিয়েতনাম থেকে ‘এমভি রুবেলা’ নামের জাহাজে ১৬ এপ্রিল চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। এরপর লাইটার জাহাজে করে পাথর স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়। পাঁচ হাজার টন পাথর খালাস করার পর ২০ এপ্রিল রাত থেকে মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন নৌযানশ্রমিকেরা। সেদিন থেকে পাথর খালাসও বন্ধ হয়ে যায়।

২৬ এপ্রিল রাতে শ্রমিক ধর্মঘট প্রত্যাহার করার এক দিন পরই মালিকদের পাল্টা কর্মসূচির কারণে নদীপথে আবারও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এমভি রুবেলা জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনিশিপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে কে ওয়াসিম গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজ পাওয়া চীনের সিনো হাইড্রো করপোরেশনকে সরবরাহ করার জন্য এই পাথর আনা হয়েছিল। সাধারণত বড় আকারের পাথর কেউ আমদানি করতে চায় না। আমদানিকারক সাহস দেখিয়ে এখন উল্টো বিপদে পড়েছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাথর খালাস করতে না পারলে বাড়তি প্রতিদিনের জন্য জাহাজমালিককে আট হাজার ডলার করে জরিমানা দিতে হবে। আমদানিকারককেই এই টাকা দিতে হবে। ধর্মঘট না থাকলে এত দিনে সব পাথর খালাস হয়ে যেত।

ইউনিশিপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এই পাথর পরিবহনে আমদানিকারককেও সহায়তা দিচ্ছে। পাথর আমদানিকারক এম এফ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কর্ণধার ক্যাপ্টেন এরশাদ আলী দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

শ্রমিক ধর্মঘটের পর এবার মালিকদের ‘জাহাজ না চালানোর’ কর্মসূচির কারণে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বহির্নোঙরে পণ্য খালাস না হওয়ায় ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে তাঁদের। জাহাজের আকারভেদে ক্ষতিপূরণের এই হার দিনে (নির্ধারিত সময়ের পর) ৮ থেকে ১৫ হাজার ডলার বলে জানান বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

বন্দর সূত্র জানায়, নৌযান মালিকদের কর্মসূচির কারণে গতকাল বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা ৬০টি জাহাজের মধ্যে ৪১টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ হয়নি। কারণ, এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে হয় অভ্যন্তরীণ নদীপথে চলা লাইটার জাহাজের মাধ্যমে।

নৌযান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, সারা দেশে অভ্যন্তরীণ নদীপথে নিয়মিত চলাচল করে ২ হাজার ১০০ জাহাজ। এসব জাহাজে এখন পণ্য পরিবহন হচ্ছে না। তবে কয়েকটি সিমেন্ট কারখানার মালিকানাধীন দেড় শতাধিক জাহাজে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেল পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে না।

কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খোরশেদ আলম গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, ‘বর্ধিত মজুরি দিয়ে জাহাজ চালাতে চাইছেন না সাধার‍ণ মালিকেরা। এ কারণে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ আছে। তবে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য আগের চুক্তি থাকায় তেল পরিবহনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে ২০ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া নৌযানশ্রমিকদের ধর্মঘট গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় স্থগিত করা হয়। এর আগে ওই দিন দুপুরে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে আন্দোলনরত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন ধাপের মজুরি ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের কথা মন্ত্রী জানানোর পর ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেন শ্রমিকনেতারা। তবে নৌযান মালিকদের প্রতিনিধিরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে পরদিন জাহাজ না চালানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এস/০১:৫৫/৩০ এপ্রিল

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে