Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র শিক্ষকেরাই ফাঁস করছেন!

মোশতাক আহমেদ


পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র শিক্ষকেরাই ফাঁস করছেন!

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল- উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষকেরাই পরীক্ষার আগে আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল ফোনে ছবি তুলে পরীক্ষার কক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র বাইরে পাঠাচ্ছেন তাঁরা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে এসব ঘটনা ঘটছে বলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আগে পরীক্ষার কয়েক দিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ছিল। এটি বন্ধে কয়েক বছর ধরে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রশ্নপত্র ছাপানো বা প্রশ্নপত্র বহনের সময় এটি ফাঁস হয়েছে।

এবার অভিযোগ উঠেছে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় একশ্রেণির শিক্ষক পরীক্ষা শুরুর এক বা আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলে সেখান থেকে মুঠোফোনে ছবি তুলে তা বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রশ্নপত্রের বহু নির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) অংশের বেলায় এটি হচ্ছে।

পাবলিক পরীক্ষার নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে সিলগালা প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে।

প্রশ্নপত্রের একটি অংশ সৃজনশীল (সিকিউ), আরেকটি এমসিকিউ অংশ। বর্তমানে এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা আগে হচ্ছে। এগুলোর উত্তর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেওয়া সম্ভব।

৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর ৮টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা, কারিগরিসহ মোট ১০টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখের বেশি।

কিছুদিন ধরেই পরীক্ষা শুরুর আগে আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন বাইরে চলে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফরিদপুরের একজন অভিভাবক বলেন, কিছুদিন ধরে শহরের টেপাখোলা এলাকায় অবস্থিত সরকারি ইয়াসিন কলেজ কেন্দ্রে দেখা যায়, প্রায় পরীক্ষার দিন কিছু পরীক্ষার্থী ৫-১০ মিনিট পরে কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। এমসিকিউ উত্তর জানা থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই উত্তর দেওয়া সম্ভব বলেই পরীক্ষার্থীরা দেরিতে প্রবেশ করছে বলে তাঁর ধারণা।

ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আশকোনা এলাকায় দেখা যায় পরীক্ষার আগে আগে কিছু পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের সামনে নির্ধারিত কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, যেদিন বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষা থাকে, সেদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ১৯ এপ্রিল জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের পরীক্ষার দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এই দিন তাঁরা জানতে পারেন, পরীক্ষার ঘণ্টা খানেক আগে কেউ একজন ফেসবুকে জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের এমসিকিউ অংশের প্রশ্নপত্র তুলে দিয়েছেন। পরে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় ফেসবুকে দেওয়া ওই প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে বোর্ড থেকে অবহিত করা হয়। কিন্তু দেখা যায়, ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার দিনও পরীক্ষা শুরুর আগে আগে একই ধরনের ঘটনা ঘটে।

বোর্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা প্রশ্ন ফাঁস নয়। আর এটা দেশজুড়েও হচ্ছে না। কিন্তু এই অনৈতিকতা বন্ধ হওয়া দরকার।

ওই কর্মকর্তার ধারণা, ঢাকা মহানগরের কোনো কোনো কলেজ কেন্দ্র থেকে এ ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এ জন্য তাঁরা উত্তরার একটি কলেজ ও দক্ষিণখান এলাকার একটি কলেজ কেন্দ্র নজরদারিতে রেখেছেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ বলেন, এমন অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন এবং তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসেন বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখছেন। যে শিক্ষক বা যাঁরা এটি করছেন, তাঁদের ধরতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস/০১:২০/৩০ এপ্রিল

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে