Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-৩০-২০১৬

হ্যাচারি মালিকদের পাশে ‘ক্যাটালিস্ট’

হ্যাচারি মালিকদের পাশে ‘ক্যাটালিস্ট’

ময়মনসিংহ, ৩০ এপ্রিল- ময়মনসিংহে মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষে অপার সম্ভাবনা জাগিয়েছেন হ্যাচারি মালিক ও ছোট-বড় মাছ চাষিরা। আনুমানিক দেড় যুগ আগে শুরু হলেও ২০১০ সালের পর থেকে জেলার তিনটি উপজেলায় হ্যাচারিতে দেশি ও বিদেশি জাতের মাছের পোনা উৎপাদন ও মাছ চাষে বিপ্লব ঘটেছে। আর এতে বড় ভূমিকা পালন করেছে ‘ক্যাটালিস্ট’ নামের একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।

সম্প্রতি ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া ও মুক্তাগাছা উপজেলার তিনজন হ্যাচারি মালিকের সঙ্গে সরেজমিনে কথা হয়। তাঁরা জানান, দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে হ্যাচারি মালিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে ক্যাটালিস্ট। এসব প্রশিক্ষণ তাঁদের প্রযুক্তিনির্ভর চাষ শিখিয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রথম ধাপ, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ ও ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে সারা দেশের দেড় শতাধিক হ্যাচারি মালিককে বিদেশে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে ক্যাটালিস্ট।

ত্রিশালের চেয়ারম্যানবাড়ি মোড় এলাকার দা এম ও অ্যাগ্রো ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কুদরত-ই-এলাহী জানান, ২০০৩ সালে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে কিছু দেশি মাছের রেণু ও পোনা উৎপাদন করে সামান্য লাভের মুখ দেখেন। এই খাতের আধুনিক জ্ঞান অর্জনে ২০১১ সালে তাঁকে ভিয়েতনামে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ক্যাটালিস্ট। সঙ্গে ছিলেন আরও অনেক হ্যাচারি ব্যবসায়ী। পরে নিজের উদ্যোগে নিয়ে আসেন ভিয়েতনামের কই, সাদা পাঙাশ ও তেলাপিয়ার রেণু। স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় প্রথমে চাষিরা নিতে চাননি। পরে কেউ কেউ নিতে শুরু করেন। তিন মাসের মধ্যে মাছ বিক্রি করে অনেক চাষি লাভবান হন। বর্তমানে এই অঞ্চলের তিন শতাধিক চাষি এসবের চাষ করছেন। আর কিনছেন সারা দেশের অসংখ্য চাষি, হ্যাচারি ও নার্সারি মালিক। বছরে চারবার ক্যাটালিস্ট চাষিদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
কুদরত-ই-এলাহী বলেন, ‘হ্যাচারিতে মাছ উৎপাদন করতাম। তবে জ্ঞান ছিল না বললেই চলে। ক্যাটালিস্ট সেই জ্ঞান অর্জনে সহযোগিতা করেছে, এখনো করছে। বর্তমানে আমি বিদেশি মাছ ছাড়া দেশি পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুরসহ নানা প্রজাতির পোনা উৎপাদন করছি।’

ফুলবাড়িয়া উপজেলার স্বর্ণলতা অ্যাগ্রো ফিশারিজ লিমিটেডের গল্প শোনান এর এমডি আবদুল কাদির তরফদার। ২০০১ সালে ছয় বন্ধু মিলে রাধাকাইন গ্রামে শুরু করেন গলদা চিংড়ির চাষ। কিন্তু লোকসানের কারণে মাছ চাষ বন্ধ করে বন্ধুরা চলে যান অন্য চাকরিতে। তবে মাছ চাষের ইচ্ছেটা ছিল। ২০০৫ সালে ব্যাংকঋণ নিয়ে আবারও শুরু করেন হ্যাচারি। ২০১০ সালে তিনি ক্যাটালিস্টের মাধ্যমে যান ভিয়েতনামে। প্রশিক্ষণ ও বাস্তবে দেখেন সে দেশের মাছ চাষ। সেই থেকে বদলে যায় ভাগ্য।

মুক্তাগাছা উপজেলার রুপালি মৎস্য হ্যাচারির গল্প একটু ভিন্ন। মালিক আহাম্মদ আলী ২০০৭ সালে ছোট একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। হ্যাচারি থেকে পোনা আনতে গিয়ে উদ্বুদ্ধ হন পোনা উৎপাদনে। ২০১১ সালে পরিচয় ক্যাটালিস্টের সঙ্গে। ঢাকায় ক্যাটালিস্টের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন তাঁর ছেলে হালিম। ক্যাটালিস্টের মাধ্যমে ২০১৪ সালে হালিম যান ফিলিপাইনে একটি প্রশিক্ষণে। এরপর থেকে শুরু হয় তাঁদের হ্যাচারিতে মনোসেক্স ও ফিলিপাইন থেকে নিয়ে আসা উন্নত জাতের রেণু থেকে পোনা উৎপাদন। বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে দেখাশোনা করছেন হ্যাচারি। গ্রামের প্রায় ৮০টি পরিবার তাঁদের হ্যাচারি থেকে পোনা নিয়ে মাছ শুরু করে। সবাই এখন সফল মাছ চাষি।

ময়মনসিংহের হ্যাচারি ব্যবসার বিকাশে অবদান রাখছে হ্যাচারি মালিক অ্যাসোসিয়েশনও। সংগঠনটি ক্ষুদ্র চাষিদের একত্র করে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে ক্ষুদ্র চাষিদের যোগাযোগ ও তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যাসোসিয়েশনের ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, অ্যাসোসিয়েশন মাছ রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা যায় আগামী পাঁচ থকে ছয় মাসের মধ্যে মাছ বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।

এস/০১:২০/৩০ এপ্রিল

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে