Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৯-২০১৬

শেষ সময়ের চাপে সার্ভার ডাউন, গ্রাহকের দুর্ভোগ

শেষ সময়ের চাপে সার্ভার ডাউন, গ্রাহকের দুর্ভোগ

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল- ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়ার শেষ সময় ঘনিয়ে আসতেই গ্রাহকদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে। সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া নামে শুরু হলেও পরবর্তীতে এই কার্যক্রমের নাম দেয়া হয় সিম পুনঃযাচাইকরণ। এই প্রক্রিয়ার শেষ সময় ৩০ এপ্রিল রাত ১০টা। 

জাতীয় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহক তথ্য সংগ্রহ করে সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতির উদ্যোগ নেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ গ্রহণের ওপর হাইকোর্টের নির্দেশের অপেক্ষা পর্যন্ত অনেক গ্রাহক সিম নিবন্ধনে অনাগ্রহ ছিলেন। 

পরবর্তীতে ডাক ও টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম নিশ্চিত করেন, এই প্রক্রিয়াতে আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। এটি পুনঃযাচাই করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের সাথে মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পুনঃযাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এতে গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয় পত্রের আঙুলের ছাপ সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধন না করলে ১ মে সকল অনিবন্ধিত সিম ৩ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে। এরপর খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনিবন্ধিত সিমগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।’

এই ঘোষণা আসার পর থেকে গ্রাহকরা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও সিম পুনঃযাচাইকরণের জন্য অপারেটরদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। শেষ সময়ে তাই সিম পুনঃযাচাইকরণের কাস্টমার কেয়ার বা দোকানগুলোতেও দেখা যাচ্ছে অতিরিক্ত ভীড়। শুক্রবার ছুটির দিন হলেও রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় গ্রাহকদের লাইনে দাঁড়িয়ে সিম পুনঃযাচাইকরণ করতে দেখা গেছে। 

ধানমণ্ডিতে অবস্থিত সীমান্ত স্কয়ার মার্কেটের সামনে বাংলালিংক পয়েন্টে সিম পুনঃযাচাইকরণ করতে এসেছিলেন মামুন বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম রি-ভেরিফিকেশন না করলেও মনে হয় কোনো সমস্যা হবে না। তবে এখন মনে হচ্ছে সিম আসলেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সিমটা যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, তাই কার্যদিবসগুলোতে সময় না পেলেও বন্ধের দিনে এসেছি। এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ভেতর থেকে বলা হচ্ছে চাপের কারণে সার্ভার ডাউন হয়ে যাচ্ছে। তাই সময় বেশি লাগছে।’ 

এক আইডিতে ১০টার বেশি সিম নিবন্ধন করতে দেখা গেছে রি-ভেরিফিকেশন পয়েন্টগুলোতে। গ্রামীণফোন ব্যবহারকারী সাজ্জাদ হোসেন পিন্টু বলেন, ‘বাসার সবাই গ্রামীণফোন ব্যবহার করে। কিন্তু ব্যস্ততা ও অসুস্থতার কারণে কারও সিম পুনঃযাচাইকরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাসার সবগুলো সিম আমার নামেই পুনঃযাচাইকরণ করতে এসেছি।’ 

একের অধিক সিম ব্যবহারকারীদের জন্য সিম পুনঃযাচাইকরণে সময় বেশি ব্যয় হয়। তাই যারা একটি সিম পুনঃযাচাইকরণ করতে এসেছেন তাদের অনেকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। 

হঠাৎ করে গ্রাহক চাপ বৃদ্ধি পাওয়াতে অনেক রি-ভেরিফিকেশন পয়েন্টে সার্ভার ডাউনের কথা বলা হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপের কারণেই এমন সমস্যা হয়েছে বলে দাবি মোবাইল রি-ভেরিফিকেশনে বিভিন্ন অপারেটরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। 

তবে এনআইডি কতৃপক্ষ সার্ভার ডাউনের কথা অস্বীকার করেন। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির জানান, নিবন্ধনের অতিরিক্ত চাপে এ সমস্যা হতে পারে। অপারেটর ও এনআইডি কর্তৃপক্ষের কারিগরি দল এ সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১৩ কোটি মোবাইল সিমের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৮ কোটি ৩৮ লাখ সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। ৩০ এপ্রিলের পর সময় বাড়ানো হবে কি না এ সম্পর্কে নির্দেশনা আসতে পারে শনিবার।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে