Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৯-২০১৬

মৃত্যুর আগে যা করে গেলেন নৃত্যশিল্পী সুবর্ণা

মৃত্যুর আগে যা করে গেলেন নৃত্যশিল্পী সুবর্ণা

সিলেট, ২৯ এপ্রিল- সুবর্ণা সাহা (৩২)। সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকার ৫২/৩ নং বাসায় মৃত সুবধ রঞ্জন সাহার ছোট মেয়ে। সিলেটের নৃত্য সংগঠন নৃত্যশৈলীর নৃত্যশিল্পী ও কথাকলি থিয়েটারের নাট্যকর্মী ছিলেন তিনি। এছাড়াও সিলেট খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তবে মৃত্যুর আগে সে তার মাকে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে ছিলেন এবং একটি ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করে গেছেন।

কিন্তু ঠিক কী কারণে সুবর্ণা আত্মহত্যা করলেন তা এখনো ধোঁয়াশা। বন্ধু, সহকর্মী বা পরিবারের লোকেরা কেউই কিছু অনুমান করতে পারছেন না। তার হঠাৎ এই আত্মঘাতি হওয়া নিয়ে সবাই বিস্মিত।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুবধ রঞ্জন সাহা ও রসময় উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মমতা সাহা’র ছোট মেয়ে সুবর্ণা সাহা’র শৈশব কাটে নগরীর দাড়িয়াপাড়ায়। সেখানে থেকে তিনি রসময় স্কুল থেকে প্রাইমারি, সিলেট অগ্রগামি বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক, সিলেট মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তার পরিবার নগরীর কাজলশাহ এলাকায় চলে যান। সেখানে থেকে তিনি সিলেট এমসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। 

বেশ কয়েক বছর আগে সুবর্ণা বাবাকে হারান। ২০১০ সালে তার একমাত্র বড় বোন সুমনা সাহার বিয়ে হয়ে যায়। এরপর থেকে মাকে নিয়ে কাজলশাহ এলাকার ৫২/৩ নং বাসা বসবাস করতেন।

ছোটবেলা থেকেই সুবর্ণা সাহা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত। এভাবেই নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠেন। সর্বশেষ নৃত্যশৈলীর নৃত্যশিল্পী ও কথাকলি থিয়েটারের নাট্যকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। 

গত বুধবার সন্ধ্যায় মাকে বোনের বাসায় পাঠিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন তিনি। বড় বোন সুমনা সাহা’র বাসা থেকে ফিরে মা মমতা সাহা সুবর্ণাকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে।

সুবর্ণার বড় বোন সুমনা সাহা জানান, সুবর্ণার আত্মহত্যার কোন কারণ তাদের জানা নেই। তার চলাফেরায়ও আত্মহত্যা করার কোনো প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি।

তিনি আরো জানান, বুধবার বিকেলে সুবর্ণা তার মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। মাকে ডাক্তার দেখানোর পর নিজে ডাক্তার দেখান। মাকে চেম্বারের বাহিরে বসিয়ে রেখে তিনি একা ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশ করেন।

সুমনা বলেন, ডাক্তারের কাছ থেকে ফেরার পথে মাকে আমার বাসায় রেখে সুবর্ণা বাসায় ফিরে। পরে মা বাসায় ফিরে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এছাড়াও সুবর্ণার কক্ষে স্বাক্ষর করা একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার নগরীর কাজলশাহ এলাকার ৫২/৩ নং বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে অনেকেই তাদের বাসায় ছুটে এসেছেন। বন্ধু বান্ধবদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুবর্ণার এক স্বজন জানান, সুবর্ণা সব সময় নীরব থাকতেন। খুব কম কথা বলতেন। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করলেন বলা মুশকিল। সুবর্ণার এক বান্ধবী বলেন, সুবর্ণা শান্ত প্রকৃতির মেয়ে ছিল। সে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন সংগঠক ছিল। 

সুবর্ণার এক সহকর্মী জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার অসুস্থবোধ করায় স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি। তবে গত বুধবার আর স্কুলেও যাননি। তিনি প্রায়ই বলতেন, এই পেশা তার ভালো লাগছে না।

এফ/১৬:৩৩/২৯এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে