Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২৯-২০১৬

সহসম্পাদকদের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

সহসম্পাদকদের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল- আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদকদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যায় বলে জানিয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দপ্তর উপপরিষদের আহ্বায়ক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সহসম্পাদকদের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত দপ্তর উপপরিষদের বৈঠকে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “সহসম্পাদকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন, এ পদটি সম্মানজনক। কিন্তু এখন তা ব্যাঙের ছাতার মতো প্রসারিত হয়ে গেছে। তাতে কারও কোনো মর‌্যাদাও নেই। তারা জেলায় গিয়ে মাতব্বরি করে। উপজেলায় গিয়ে দাপট দেখায়। তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে এমন অভিযোগ প্রায়ই আসে।”

সহম্পাদকদের সতর্ক করে দিয়ে কাদের বলেন, “এ জন্য কিন্তু সহসম্পাদক করা হয়নি। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে আমাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত।” দলের উপকমিটির সহসম্পাদকের বিষয়ে কাদের বলেন, “৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের বিশেষ পরিস্থিতিতে এ তালিকা দীর্ঘ হয়ে গেছে। এখন আওয়ামী লীগ অফিসের পাশে হাঁটতে গিয়ে কোনো তরুণের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে বলে ‘আমি সহসম্পাদক’। কিসের সম্পাদক? ‘আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক’।”

সহসম্পাদকদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে কাদের বলেন, “কেউ কেউ আবার নেম কার্ডও (ভিজিটিং কার্ড) করে ফেলেছেন। দল করতে করতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পর‌্যন্ত হয়েছি, কিন্তু কোনোদিন নেম কার্ড করিনি। এখন সহসম্পাদকরা তাদের নেম কার্ডে লিখতে থাকেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসম্পাদক’। কিন্তু সহসম্পাদক হলো সাবকমিটি-উপকমিটির সহসম্পাদক। তারা সহসম্পাদক হয়েই বিলবোর্ড লাগানো শুরু করে, যেখানে বিশাল ছবি। সামনে দেখি এক চেহারা, আবার বিলবোর্ডে দেখি আরেক চেহারা। এ দায়িত্ব তো জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেন নাই। এটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।”

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, “সম্মেলনের আগে নতুন কমিটির সহসম্পাদক কারা কারা হতে চায়, তাদের একটি সিভি ধানমন্ডিতে নেত্রীর কার‌্যালয়ে জমা দিতে হবে। এবার আমরা যোগ্যতা, ত্যাগ দেখে বাছ-বিচার করে সহসম্পাদকের তালিকা ১০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব। এর বেশি করার সুযোগ নাই।”

দলের যতগুলো বিভাগ আছে প্রতিটা বিভাগে ত্যাগ ও যোগ্যতা দেখে দুই থেকে তিনজন সহসম্পাদক থাকবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। গড়ে সহসম্পাদক করার চিন্তাভাবনা নেই।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ের দপ্তরের পরিবেশের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, “কিছু মানুষ আছে, যখনই পার্টি অফিসে আসি, তাদের বসে থাকতে দেখি। অফিস সময় অনেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকে, অনেক লেখার কাজ থাকে, দেখা যায় সেখানেও কিছু অপ্রয়োজনীয় লোক বসে থাকে। আমি দপ্তর সম্পাদককে বলব, এ রুমটি সম্পূর্ণ সিল করে দেয়ার জন্য। কাজের বাইরে কোনো লোক যেন সেখানে না বসতে পারে।”

এর আগে উপপরিষদের আহ্বায়ক বলেন, “আজকে এ বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার‌্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছাড়া যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে আমরা বাদ দিচ্ছি না। ২০ মে পর‌্যন্ত আমরা পরিষদের সদস্যদের নাম যাচাই-বাছাই করব। যাদের কমিটির প্রয়োজনে লাগবে তাদের রাখা হবে। এরপর আমরা ফাইনাল তালিকা তৈরি করব।”

সম্মেলন উপলক্ষে কাউন্সিলরদের তালিকা ৩০ মের মধ্যে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা জানান, কাউন্সিলরের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট জেলার আদমশুমারি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। শুক্রবার থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি তৃণমূলে পাঠানো হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন উপপরিষদের সদস্যসচিব আবদুস সোবহান গোলাপ, সদস্য আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আব্দুল মান্নান, মৃণাল কান্তি দাস,  ইকবালুর রহিম, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন, এস এম কামাল হোসেন,  শাহে আলম,  মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটন, বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ।

এফ/১০:০৮/২৯এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে