Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৯-২০১৬

দিল্লির যানজট নিয়ন্ত্রণের সাফল্য নিয়ে সংশয়

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়


দিল্লির যানজট নিয়ন্ত্রণের সাফল্য নিয়ে সংশয়

নয়াদিল্লি, ২৯ এপ্রিল- আর একটা মাত্র দিন। তারপরই শেষ জোড়-বিজোড়ের দ্বিতীয় পক্ষ। তবে এর সাফল্য নিয়ে সংশয় আছে।

১৫ এপ্রিল থেকে পনেরো দিনের জন্য শুরু হয় পালা করে জোড়-বিজোড় নম্বরের গাড়ি চলাচল। গাড়ির নম্বরপ্লেটের শেষ সংখ্যা জোড় হলে তা মাসের জোড় দিনগুলোতে চলবে। বিজোড় দিনে চলবে বিজোড় সংখ্যার গাড়ি। পরশু রোববার থেকে রাজধানী দিল্লি এবং তার লাগোয়া রাজ্য হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের কিছু এলাকা নিয়ে যে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন, সেখানে ইচ্ছামতো গাড়ি চালাতে পারবেন মানুষ।

তবে একটু চিন্তা তাঁদের থাকছেই। কেননা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর ইচ্ছার আভাসটুকু এই দ্বিতীয় পর্বের জোড়-বিজোড় শুরু হওয়ার সময়ই আলতো করে জানিয়ে রেখেছিলেন। বলেছিলেন, দ্বিতীয় দফার সাফল্য দেখে ঠিক করবেন, জোড়-বিজোড়কে প্রতি মাসে পাকাপাকি করা হবে কি না। কেজরিওয়ালের বাক্যের ওই ‘সাফল্য’ শব্দটি নিয়েই গত এক পক্ষকাল রাজধানীর বাসিন্দারা দুই মেরুতে অবস্থান শুরু করেছেন। একদল মনে করছে, যে কারণে জোড়-বিজোড় চালু করা হয়েছিল, রাজধানীর মাত্রাছাড়া দূষণ কমাতে, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

জোড়-বিজোড়ের কারণে দূষণ কমলেও অতি সামান্য। সে জন্য একটি মহলের দাবি, দূষণ কমানোর দাওয়াই জোড়-বিজোড় হতে পারে না। প্রয়োজন আরও কিছুর। অতএব, সরকারের উচিত সেদিকে নজর দেওয়া। অন্য মহল জোড়-বিজোড়কে ছাড়তে নারাজ। তাদের মতে, দূষণ কমানোর জন্য আরও কিছুর নিশ্চয় প্রয়োজন। যেমন আরও বেশি ও কার্যকর পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, আরও ঘনঘন মেট্রোরেল চালানো, কাজের ক্ষেত্রে ‘ফ্লেক্সিটাইম’ চালু করা, ‘কার পুল’ অভ্যাসে পরিবর্তন করা এবং গাড়ি বিক্রির ওপর রাশ টানতে অন্য ধরনের বন্দোবস্ত করা।
জোড়-বিজোড় নিয়ে চীন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশে এই পরীক্ষা হয়েছে।

কিন্তু কোথাও এই পদ্ধতি স্থায়ী হয়নি। ওই সব দেশ বরং দূষণ কমাতে অন্য ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। বলা হচ্ছে, দিল্লিতে দূষণের একটা বড় কারণ রাজস্থানের ধূলিঝড়। প্রতিবছর গ্রীষ্মের চার-পাঁচ মাস মরুরাজ্য রাজস্থানের এই ধূলিঝড় দিল্লিকে অসহনীয় করে তোলে। বেইজিংয়েরও এই দশা হতো একটা সময়। চীন ও ইসরায়েল দেখিয়েছে, মরুঝড় থেকে রক্ষার সেরা উপায় হলো শহরের উন্মুক্ত স্থানে ঘাস লাগানো। ঘাসে ধুলা আটকা পড়ে। দিল্লির দুর্ভাগ্য, শহরে ধুলা আটকাতে ঘাস বোনার মতো সস্তার অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আজ পর্যন্ত কারও চিন্তায় আসেনি। বরং রাজধানীর ফুটপাত ও তার পাশের চলার জায়গা কংক্রিটে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

দিল্লির মোট আয়তনের ২০ শতাংশ রাস্তা। কলকাতার ৭ শতাংশ ও মুম্বাইয়ের ৬ শতাংশের তুলনায় দিল্লি সেই অর্থে গাড়িচালকদের কাছে স্বর্গ। এই প্রশস্ত পথে প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি যান চলে। পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারির পর রাজধানীতে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। জানুয়ারির তুলনায় দ্বিতীয় পর্বে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাবৃদ্ধিও তাই চোখে পড়েছে।

জোড়-বিজোড়কে কেন্দ্র করে রাজনীতির রং জানুয়ারিতে তত প্রকট ছিল না। এবার বিজেপি খোলাখুলি কেজরিওয়ালের বিরোধিতায় পথে নেমেছে। দলীয় নেতাদের কেউ কেউ প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিয়ম ভেঙে। জরিমানাও দিয়েছেন। কোনো কোনো সাংসদ নিয়ম ভেঙে গাড়ি নিয়ে সংসদ ভবনে হাজিরা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার ঘোড়ায় চড়ে। ঘোড়ার গলায় প্ল্যাকার্ড, একমাত্র দূষণমুক্ত পরিবহন। রাজধানীর বর্জ্য ফেলার যতগুলো স্থান রয়েছে, এবার প্রতিটিতে নিয়ম করে বর্জ্য পোড়ানো হয়েছে। পোড়া বর্জ্যবাহিত ধোঁয়ায় দূষণের মাত্রাও বেড়েছে। পুরসভাগুলো বিজেপির দখলে। আম আদমি পার্টি তাই রাজনীতির গন্ধ পেয়েছে। রাস্তা ও ফ্লাইওভার মেরামতের কাজও এই সময়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। ফলে কোনো কোনো স্থানে ব্যাপক যানজট দেখা গেছে। এ কারণে বিজেপিকে দুষতেও ছাড়েনি আম আদমি পার্টি।

তারপরও জোড়-বিজোড়কে পাকাপাকি করার ইচ্ছা মনে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীকে আরও ভাবতে হবে। শুধু জটহীন যান চলাচল নয়, তাঁকে প্রমাণ দিতে হবে যে এর ফলে দূষণও কমছে। দ্বিতীয় পক্ষকালের দৈনন্দিন জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষ জোড়-বিজোড়ের পক্ষে হলেও বহু মানুষ মনে করেন যে ব্যবস্থা স্থায়ী করার আগে আরও চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন।

আর/১০:০৪/২৯ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে