Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২৯-২০১৬

কীর্তনখোলায় বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন

কীর্তনখোলায় বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন

বরিশাল, ২৯ এপ্রিল- হাইকোর্টের নির্দেশে কীর্তনখোলা নদীর যে অংশ ভরাট করে শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছিল, তা বন্ধ করে দিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার দুপুরে নদীর বধ্যভূমি এলাকায় শহররক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে এ পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

একই সঙ্গে নদীর মধ্যে দেওয়া বাঁধ অপসারণে সিটি করপোরেশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করে মানবাধিকার ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, আইন অনুসারে নদীর জায়গা দখল ও ভরাট করা যাবে না। কিন্তু প্রশাসনের সামনেই নদী ভরাট করা হচ্ছে, যা বেআইনি ও অবৈধ।

শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ কীর্তনখোলা নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্মাণকাজ বন্ধ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে বরিশালের নদ-নদী, পুকুর ও খাল রক্ষার ব্যর্থতার বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে আদালতে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন ওই বেঞ্চ।

উচ্চ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গতকাল জেলা প্রশাসক সাইফুজ্জামান বরিশাল সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বেলা সোয়া একটার দিকে তাঁরা শহররক্ষা বাঁধের সাগরদি খাল থেকে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু এলাকা পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। তাঁরা নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ ও অনুমতি ছাড়াই নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছিল। জনস্বার্থে বাঁধের জন্য নদীর মধ্যে ফেলা মাটি সরিয়ে নদীর রূপ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন তাঁরা। এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে সিএস পর্চা দেখে কীর্তনখোলার সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

নদী পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী সাজিদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহসান হাবিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস, বরিশাল সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোতালেব হাওলাদার, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইলিয়াছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক সাইফুজ্জামান বলেন, সিটি করপোরেশন অনুমোদন ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর ভরাটকাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। এটা জনস্বার্থবিরোধী কাজ। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদী থেকে মাটি অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক রূপ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে। আর ভবিষ্যতে যাতে নদী দখল করতে না পারে, সে জন্য সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন করে দেওয়া হবে।

এস/০১:৪৫/২৯ এপ্রিল

বরিশাল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে