Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.4/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২৮-২০১৬

জুলহাজকে দুই মাস ধরে অনুসরণ করে খুনিরা

জুলহাজকে দুই মাস ধরে অনুসরণ করে খুনিরা

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল- রাজধানীর কলাবাগানে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডিবি এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অন্তত পাঁচটি যৌথ দল খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে খুনিদের বিষয়ে সম্ভাব্য কিছু তথ্য মিলেছে। খুনিদের ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে উদ্ধার করা হয়েছে কিছু তথ্য। তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুনিরা দুজন করে পালাক্রমে প্রায় দু’মাস ধরে জুলহাজ মান্নানের বাসায় রেকি করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুজন খুনির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে। আর মোবাইল ফোন ঘেটে খুনিদের একটি বাসারও সন্ধান পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে হত্যাকাণ্ডের পরপরই বাসাটি ছেড়ে গেছে খুনিরা। খবর-মানব জমিন

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম) মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারবো।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খুনিদের সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় কলাবাগানের ৩৫ নম্বর উত্তর ধানমন্ডির আছিয়া নিবাসের দ্বিতীয় তলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউএস এইডের বর্তমান ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান (৪২) ও তার বন্ধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহবুব রাব্বী তনয়কে (২৫)। জুলহাজ সমকামীদের অধিকার-বিষয়ক সাময়িকী ‘রূপবান’-এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর লোকনাট্য দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মাহবুব তনয়। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে কলাবাগান থানায়। এর একটি নিহত জুলহাজের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন বাদী হয়ে এবং অপরটি কলাবাগান থানার এসআই শামীম আহমেদ বাদী হয়ে করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুনি গ্রুপটি উগ্রপন্থি কোনো জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেল বলে তাদের ধারণা। এই স্লিপার সেলে অন্তত ৮-১০ জন সদস্য ছিল। এরা তিন ভাগে ভাগ হয়ে জুলহাজ কিলিং মিশনে অংশ নেয়। কিলারদের মধ্যে চারজন জুলহাজের বাসার দ্বিতীয় তলায় উঠে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। আর তিনজন ছিল নিচের গেটের কাছে। এর বাইরে আরো কয়েকজন সামনের রাস্তায় নজরদারি করছিল বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা। ডিবির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, জুলহাজ ও তার বন্ধু তনয় হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া কিলারদের দলে মাদরাসা ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা ছিল। তারা আদাবরের একটি বাসার সন্ধান পেয়েছে। যেখানে খুনিদের থাকার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ওই বাসাকে ঘিরে অনুসন্ধান চলছে। ডিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, বাসাটি দুই মাস আগে ভাড়া নেয়া হয়েছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের দিন থেকে ওই বাসার তরুণরা সবাই লাপাত্তা। প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য সূত্রে পাওয়া তথ্যে ডিবির ওই সূত্র বলছে, কিলারদের সবার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণ করে দেখছেন। একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় দুজন সন্দেহভানজ খুনিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও ওই সূত্র জানায়।

গতকাল সকালে ডিএমপি কমিশনার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছেন, এই ঘটনাকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। খুনিদের শনাক্ত করতে চৌকস কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ব্লগার ও কথিত পীরদের হত্যাকাণ্ডের সময় খুনিরা যেমন কৌশল নিয়েছিল জুলহাজ ও তার বন্ধু তনয়কে হত্যার ক্ষেত্রেও তারা একই কৌশল নেয়। এক্ষেত্রে বাসায় ঢুকেছিল পার্সেল সরবরাহকারী হিসেবে। এ ছাড়া খুনিদের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও তারা হত্যাকাণ্ডে তা ব্যবহার করেনি। চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। খুনিরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও বাধা ডেঙ্গাতে সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। জুলহাজ ও নয়ন হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষ ও পুলিশের বাধা পেয়ে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল। আর ব্যাগে পুরানো পোশাক রাখার কারণ হলো রক্তমাখা জামা বদলানো ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়ার জন্য তারা পুরানো কাপড় রেখেছিল। ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, খুনিদের একজনের ব্যাগ থেকে যে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে একটি ইন্ডিয়ার তৈরি আরেকটি লোকাল মেইড। এসব অস্ত্রের সরবরাহকারীধের সূত্র ধরেও খুনিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

যা বললেন নিরাপত্তারক্ষী পারভেজ

পার্সেল দেয়ার নামে কথা বলার একপর্যায়ে ঘাতককদের সন্দেহ করেছিলেন নিহত জুলহাজ মান্নান ও বাড়ির প্রহরী পারভেজ মোল্লা। জুলহাজ তখন দরজা বন্ধ করতে চাইলে ঘাতকরা বাধা দেয় তাকে। জোর করেই বাসায় ঢোকার চেষ্টা করে তারা। গতকাল ঘটনাস্থল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাসের ৩৫ নম্বর বাড়িতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ঘাতকদের অস্ত্রের আঘাতে আহত প্রহরী পারভেজ মোল্লা। তিনি বলেন, এ সময় তাদের বাধা দিলে তারা আমার বাঁ-পায়ের বাহুতে কোপ দেয়। আবার বাধা দিলে কপালে কোপ দেয়। কপাল থেকে রক্ত ঝরতে থাকলে দৌড়ে নিচে নেমে যান তিনি।

তিনি জানান, ততক্ষণে তাদের কয়েক জন বাসার ভেতরে ঢুকে গেছে। ভেতর থেকে তখন আল্লাহু আকবর বলে শব্দ করেছে তারা। পারভেজের সঙ্গে-চাপাতি হাতে নিচে নেমে আসে ঘাতকদের একজন। প্রহরী সুমনের ঘরের পাশে চাপাতি হাতে দাঁড়িয়ে একজন এবং গেটের বাইরে আরও একজন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তিনি।

পারেভজ মোল্লা বলেন, প্রথমে চার যুবক পার্সেলের বাক্স নিয়ে এসে জানায় পার্সেলগুলো জুলহাজ স্যারের। তখন পার্সেল এসেছে তা জানানোর জন্য প্রধান ফটকের সিটকিনি আটকিয়ে দ্বিতীয় তলায় যান। তখন তার সঙ্গে ওই চারজনও উপের উঠে যায়। কলিং বেল চাপার পর জুলহাজ নিজেই দরজা খুলে দেন। ঘাতকদের একজন জানতে চায়, আপনি জুলহাজ স্যার। মাথা নাড়াতেই বলে- আপনার নামে পার্সেল আছে। জুলহাজ বলেন, আমার নামে কোনো পার্সেল আসার কথা না।

পার্সেলে কি আছে আগে দেখবো, তারপর গ্রহণ করবো। ঘাতকরা এসব কথার জবাব না দিয়ে পার্সেলগুলো ঘরে ঢুকিয়ে দিতে চাইছিল। এতে সন্দেহ হলে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন জুলহাজ। তারপরই ঘাতকরা কিলিং মিশন শুরু করে। পারভেজ মোল্লা জানিয়েছেন পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পুরো মিশন শেষ করে বেরিয়ে যায় তারা। ঘাতকরা সাতজন ছিল বলে জানান তিনি। তাদের পরনে ছিল ইন করা নীল রঙের টি-শার্ট। তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর।

পারেভজ মোল্লা চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙ্গেচ্ছিল বাড়ির অপর প্রহরী সুমন খানের। গতকাল বিকালে মানবজমিনকে সুমন জানান, ৫টার দিকে জুলহাজ ও তার বন্ধু খন্দকার মাহবুব রাব্বী তনয় বাড়িতে ঢুকেন। এরপরই গেটের পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। সাড়ে ৫টার দিকে পারভেজ মোল্লা তার নাম ধরে কয়েকবার চিৎকার করেছেন। শব্দ শুনে ঘুম ভেঙ্গে দেখেন দরজার সামনে মেজেতে বসে আছেন রক্তাক্ত পারভেজ। তার পাশে চাপাতি হাতে এক যুবক।

ওই সময়ে সিঁড়ি দিয়ে চাপাতি হাতে আরেক যুবককে নামতে দেখেন তিনি। রুমের জানালার পাশে তাকিয়ে দেখেন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আরও একজন। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রহিমকেও ওই কক্ষে আটকে রেখেছিল ঘাতকরা। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকে ওই যুবক সুমন, রহিম ও পারভেজকে ধমক দিয়ে অস্ত্র তাক করে বলেছিল, যদি কাউকে ফোন করিস বা শব্দ করিস গুলি করে মেরে ফেলবো। তারপর কোনো শব্দ করেননি তারা। সুমন বলেন, এর তিন মিনিট পরেই উপর থেকে দ্রুত চারজন নামে। তারা সবাই গেট দিয়ে একসঙ্গে বের হয়ে যায়। রাস্তায় গিয়ে নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর বলে জোরে জোরে শব্দ করতে করতে চলে গেছে তারা। তত্ত্বাবধায়ক রহিমের বরাত দিয়ে সুমন জানান, রহিম বাথরুমে ছিলেন। বের হলে তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার রুমে এনে রাখা হয়।

এক মাস আগে ৩৫ নম্বরের ওই বাড়িতে প্রহরী হিসেবে চাকরি নেন সুমন। জুলহাজ সম্পর্কে তিনি জানান, সাধারণত সকাল ৮টায় বের হয়ে যেতেন তিনি। ফিরতেন ৫টার দিকে। প্রায়ই কোনো না কোনো বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরতেন। অনেক সময় কোনো কোনো বন্ধু তার বাসায় থাকতো। একই ঘটনায় নিহত তনয়কে আরও অনেকবার জুলহাজের সঙ্গে ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতে দেখেছেন সুমন। মাঝে মাঝে ওই বাসায় পার্টি হতো। পার্টিতে জুলহাজের বন্ধুরা আসতেন। সেখানে গান হতো বলে জানান সুমন। তবে কর্তব্যরতদের সঙ্গে তেমন কোনো কথা হতো না জুলহাজের। এমনকি আশপাশের দোকানগুলোতেও তেমন যাওয়া হতো না। রাত ৯টার পর জুলহাজকে কখনও বাসা থেকে বের হতে দেখেননি তিনি।

গতকাল কলাবাগানের লেক সার্কাসের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে ভেতরে-বাইরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা। উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে অন্তত ২০ জন পুলিশ প্রহরায় রয়েছেন। প্রহরী পারেভজ মোল্লা একবার সকালে নিচে নেমে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তারপর থেকে তিনি বাড়ির ছাদেও উপরের একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। সার্বক্ষণিকভাবে গেটের দায়িত্বে কেউ ছিলেন না। কখনও কখনও প্রহরী সুমনকে নিচে নামতে দেখা গেছে।

পুলিশের কাছে ‘আরও কিছু আলামত’ রয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ‘আরও কিছু আলামত’ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার পাশাপাশি আরও কয়েকটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু আলামত পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এগুলো এখনই ডিসক্লোজ করা হচ্ছে না। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘তারা (নিহতরা) একটি সংগঠন করত। সেখানে কোনো আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সমস্যা অথবা কোনো সংঘবদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী ঘটনাটি ঘটিয়েছে কি না কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছি না।’ কমিশনার বলেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। দুই-চারদিন গেলেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারবো। কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। সব ডাইমেনশন মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ।’ হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ থেকে সাতজনকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে বলতে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যেতে দেখার কথা জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

তারপরও এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সন্দেহে রাখার কারণ ব্যাখ্যায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু কথা আপনাদের বলতে পারছি না। আমরা আরও কিছু আলামত পেয়েছি। একজন হত্যাকারী এমন ঘটনা ঘটাতে পারে যাতে তার দায় এড়িয়ে ইঙ্গিত যেন অন্যদিকে যায় সেটিও তো হতে পারে।’ আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘তদন্তকারী অফিসার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এর যৌক্তিকতা ও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। একজন খুন করে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য অন্য ধরনের ডাইমেনশন দেবার একটি অপচেষ্টাও হতে পারে। কিন্তু বিষয়টা হলো তদন্তের বিষয়, বাস্তবতার বিষয়, যুক্তির বিষয়। প্রত্যেকটির তদন্ত হচ্ছে। হত্যার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা জড়িত ছিল তা খুঁজে বের করবো।’

সেদিনের ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এক লোক কুরিয়ার সার্ভিসের একটা আইডি কার্ডসহ দুটি পার্সেল নিয়ে কলাবাগানের ওই বাড়িতে যায়।’ সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সাত মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে একজন এসআই ও এএসআই মমতাজ তাদের প্রতিরোধ করে। তখন মমতাজকে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে কোপায়। সন্ত্রাসীরা চলে গেলেও পুলিশ তাদের একটি ব্যাগ রেখে দিতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে একটি পিস্তল, একটি মোবাইল, কিছু আরবি লেখা কাগজপত্র পাওয়া গেছে। যে পথ দিয়ে গিয়েছে সেখানের কিছু ফুটেজও পাওয়া যায়, সেটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।’ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও খুনিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারাকে পুলিশের ব্যর্থতা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ গুলি চালালেও তাদের গায়ে লাগেনি। কারণ ওই সময় আসরের নামাজ শেষে রাস্তায় মুসল্লিরা বেরিয়ে যায়।

তখন সন্ত্রাসীরা জনগণের ভিড়ে হারিয়ে যায়। এটি ব্যর্থতা বলব না, দুঃখজনক বলব।’ পুলিশ সদস্যরা যখন এক খুনিকে জাপটে ধরেছিল তখন মানুষ সহযোগিতা করলে তাদের ধরা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দেশের এক ধরনের বিপথগামী লোক যারা দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে, অশান্তি তৈরি করতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড করে দেশে নৈরাজ্য তৈরি করতে একটা অপপ্রয়াস কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে করছে। সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাদের কলাকৌশল আছে। নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে সফলতা রয়েছে।’ কমিশনার বলেন, ‘বর্তমানে যা ঘটছে এটিও উদঘাটন হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে ধরে আইনের আওতায় আনতে পারবো। সেজন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।’ জঙ্গি দমনে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি। আনসার আল ইসলামের দায় স্বীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে দায় স্বীকার করা হয়। এর যৌক্তিকতা এবং বাস্তবতা কতটুকু আছে, তা ভেবে দেখা দরকার। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এফ/০৯:৪৪/২৮ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে