Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৮-২০১৬

পরিচিত শব্দের অপরিচিত উৎস!

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি


পরিচিত শব্দের অপরিচিত উৎস!

প্রতিদিন নানা কাজে নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের শব্দ উচ্চারণ করে থাকি আমরা। না, না জেনে কিংবা অসতর্কভাবে নয়। খানিকটা অভ্যাসের সাথে সাথে চিরচেনা স্বস্তিও মিশে থাকে কথাগুলোর সাথে। শব্দগুলোতে মিশে থাকে আমাদের জানার পরিধিও। এই যেমন- ব্লকবাস্টার শব্দটিকে কে না জানে? কিন্তু আপনি কি জানেন যে ব্লকবাস্টার আর কিছু নয়, বরং ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি বড় বোমার নাম? সত্যি করে বলতে গেলে, যে কারো কাছেই বেশ পরিচিত এই ইংরেজি শব্দগুলো। এই একেবারে নিরীহ দেখতে শব্দগুলো এতটা সোজা-সাপ্টা শোনা গেলেও বাস্তবে এদের জন্মের পেছনে রয়েছে বেশ ভয়াবহ আর বাজে কিছু অতীত। চলুন দেখে নিই এমন কিছু অসাধারন কালোয় মোড়ানো অসাধারন শব্দকে।

১. ব্লু ব্লাড/ নীল রক্ত ( আভিজাত্যের প্রতীক )
ব্লু ব্লাডকে বর্তমানে বেশ প্রশংসামূলক ও সম্মানজনক একটা শব্দ ভাবা হলেও এর উত্পত্তিগত শব্দ স্প্যানিশ সাংগরি আজুলের ইতিহাসটা কিন্তু পুরোপুরি কালোয় ভরা। সাংগরি আজুলের উত্পত্তি হয়েছিল মধ্যযুগে। সেসময় মূর ও ইহুদী মানুষদেরকে বাধ্য করা হয়েছিল খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হতে। পরবর্তীতে ১৯ শতকে এই কর্মজীবী মানুষগুলোকেই শাসকেরা মানুষের পর্যায় থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজেদেরকে আখ্যায়িত করে ব্লু ব্লাড বা নীল রক্তের মানুষ হিসেবে। যাদের সাদা চামড়ার ভেতর দিয়ে নীলচে রক্ত দেখতে পাওয়া যেত। আর বলাই বাহিল্য যে, মূর আর ইহুদীদের কর্মজীবী বাদামী চামড়ার আড়ালে রক্তের শিরা ছিল অস্পষ্ট।

২. ডেডলাইন ( শেষ সময় )
বর্তমানে এই ডেডলাইন শব্দটাকে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া থেকে শুরু করে যেকোন নির্দিষ্ট সময় বোঝাতে ব্যবহার করি আমরা। তবে আজকের এই ডেডলাইনের উত্পত্তি কিন্তু এতটা সাধারন ছিলনা। বাস্তবিকভাবেই মৃত্যুর সাথে সম্পর্ক ছিল এর। সর্বপ্রথম ডেডলাইন নামের একটি শব্দকে কাগজবন্দী করা হয় অ্যান্ডারসনভাইলের কনফেডারেট জেলে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় এখানে বলা হয় যে, কোন বন্দী জেল থেকে ৬ মিটার দূর অব্দি গেলে সাথে সাথে যেন তাকে গুলি করে মারা হয়। ওটাকেই তাদের ডেড- লাইন বলে মনে করা হত। আর সেই রক্তের অক্ষরেই সেসময় জন্ম হয়েছিল এই ডেডলাইন শব্দটির।

৩. ডাইহার্ড ( প্রচন্ড পরিমাণে )
কোন কাজ করার সময় ডাই হার্ড কথাটা খুব সহজেই বলে ফেলি আমরা। এই যেমন- কাজটা করতে ডাইহার্ড চেষ্টা করব। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, সাধারন কোন কাজে নয় বরং ১৮১১ সালের পেনিনসুলা যুদ্ধের সময় ৫৭ নং রেজিমেন্টে নিজেদেরকে মরতে প্রস্তুত বলে আখ্যায়িত করতেই এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই অনুসারে রেজিমেন্টের নামও দেওয়া হয়েছিল ডাই হার্ড। অবশ্য এর আগে ১৭০৩ সালেও ডাই হার্ড কথাটি ব্যবহার করা হয়েছিল একজন ব্যাক্তির মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে করা এক আলোচনায়।

লিখেছেন- সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

এফ/০৮:৩৮/২৮ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে