Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২৮-২০১৬

জল চেয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে আগন্তুক। ব্রিজ বিপর্যয় জন্ম দিচ্ছে অলৌকিক কাহিনির

দেবময় ঘোষ


জল চেয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে আগন্তুক। ব্রিজ বিপর্যয় জন্ম দিচ্ছে অলৌকিক কাহিনির

কলকাতা, ২৮ এপ্রিল- ৩১ মার্চ ভেঙে পড়েছিল বিবেকানন্দ রোড উড়ালপুল। তারপরে একমাস কাটতে চলল। নির্বাচনী প্রচারে নেতা-নেত্রীদের চাপানউতোরে মাঝেমধ্যে জেগে উঠছে ক্রমশ ফিকে হতে চলা উড়ালপুলকাণ্ড।

কিন্তু যে মানুষগুলো ওই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনাকে শুরু থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাঁদের অবস্থা কেমন? উড়ালপুল বিপর্যয়ের পরে ধ্বংসস্তূপ সরলেও পোস্তার স্থানীয় বাসিন্দাদের মন থেকে ওই দুর্ঘটনা ফিকে হয়নি। বরং আতঙ্ক, আর্তনাদ, মৃত্যু মিলিয়ে এক অদ্ভুত, অলৌকিক বা কাল্পনিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। লোকমুখে যা মুচমুচে গল্প হয়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা শহরে। 

উড়ালপুল বিপর্যয়ের পরে আহত, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের সাহায্যে স্থানীয়রাই এগিয়ে গিয়েছিলেন। প্রবল যন্ত্রণার মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে হাত বাড়িয়ে জল চেয়ে নিয়েছিলেন। তারপরে কেটে গিয়েছে অনেকদিন। এখনও নাকি গণেশ টকিজ এলাকায় দিনে-রাতে কোনও কোনও আগন্তুক এসে স্থানীয় কারও কারও কাছে একটু জল চাইছেন। প্রবল গরমে এইভাবে জল চাওয়ার মধ্যে অস্বাভাবিকতা নেই। কিন্তু জল দিতে গিয়েই সম্বিত ফিরেছে। যে বা যাঁরা জল চাইছে তাঁরাই নাকি চোখের পলকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। অশরীরী? একজন নয়, গত একমাসে এমন অভিজ্ঞতা নাকি অনেকেরই হয়েছে।

গল্প এখানেই থেমে থাকেনি। গণেশ টকিজ এলাকা থেকে অটো, ট্যাক্সিতে উঠছেন কোনও কোনও যাত্রী। কিছুটা এগোতেই পিছন দিকে খেয়াল করতেই চালকের চোখ ছানাবড়া! পিছনের আসনটাই যে ফাঁকা। তাহলে একটু আগে ওঠা যাত্রী কোথায় গেলেন?

জবাব বা ব্যাখ্যা নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। রাত বাড়লেই কানে ভেসে আসছে আর্ত চিৎকার। বাঁচাও, বাঁচাও— ঠিক যেমনটা তাঁরা শুনেছিলেন উড়ালপুল ভেঙে পড়ার দিন। এই গল্প স্বাভাবিকভাবেই পোস্তা বা গণেশ টকিজ এলাকায় আটকে থাকেনি। মেট্রো, ট্রেন, বাস হয়ে শহর, শহরতলিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

এমন কিছু কি সত্যিই হচ্ছে? ঘটনার কথা পোস্তা এলাকার স্থানীয় পুর-প্রতিনিধিদের কানেও পৌঁছেছে। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতা বিজয় ওঝা জানালেন, ‘‘রোজই এরকম কিছু না কিছু শুনছি। কিন্তু যাঁকেই জিজ্ঞেস করছি, সেই বলছে তাঁর নিজের কোনও অভিজ্ঞতা হয়নি। অন্য কারও কাছে শুনেছে। কিন্তু এই গল্প যত ছড়াচ্ছে, মানুষের আতঙ্ক বাড়ছে।’’ ওই পুরপিতার দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বেশি রাত করে এখন বাড়ি ফিরতেও ভয় পাচ্ছেন।

এমন ভয় বা আতঙ্ক যে অমূলক নয়, মনোবিদরাও তা মেনে নিচ্ছেন। মনোবিদ অমিত চক্রবর্তী জানালেন, যাঁরা মানসিকভাবে দুর্বল, তাঁদের চোখের সামনে বড় কোনও বিপর্যয় ঘটলে মনের মধ্যে প্রবল চাপ তৈরি হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার। এর জেরে অনবরত ভয়, নানারকম বিভ্রম তৈরি হয়। অমিতবাবুর কথায়, ‘‘যাঁরা এই বিপর্যয় দেখেছিলেন, তাঁদের চোখের সামনে এখনও ভাঙা ব্রিজের একাংশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে অনেকের মনে সবসময় ভয় কাজ করছে, আবার ব্রিজ ভেঙে পড়বে না তো? এই সময় তাঁদের মাথায় অন্য কিছু আসে না— যার থেকে জন্ম নেয় ডিলিউশন, ডিসঅর্ডার, হ্যালুসিনেশন। এমন কিছু তাঁরা কল্পনা করবেন, যা অন্য লোকে বিশ্বাস করবে না।’’ তবে আরও একটি গুরুত্বপুর্ণ দিক উল্লেখ করেছেন অমিতবাবু। তাঁর মতে, অনেকেই চাইছেন ব্রিজের বাকি অংশটাও ভেঙে ফেলা হোক। হতেই পারে, সেরকম অনেকে এই গল্প চাউর করছেন। আর যাঁরা মানসিকভাবে দুর্বল, তাঁরা এই গল্পে বিশ্বাস করে এই কাল্পনিক কাহিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে সত্যিই অলৌকিক অভিজ্ঞতা হয়েছে, এমন ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

কিন্তু এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী? অমিতবাবুর পরামর্শ, ‘‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাগুলি কেটে যায়। কিন্তু যাঁরা একদম সামনে থেকে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এমনকী, অনেকের হয়তো ঘুম হচ্ছে না।’’
স্থানীয় পুর-প্রতিনিধিরা অবশ্য বলছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া তাঁরা আর কী বা করতে পারেন? অর্থাৎ, রাজনীতির ইস্যুর মতোই সময়ের সঙ্গে ফিকে না হওয়া পর্যন্ত ব্রিজ ব্রিভম চলবেই।

এস/০২:২০/২৮ এপ্রিল

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে