Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৭-২০১৬

তুরস্কে ‘ইসলামি সংবিধান’ দাবি করলেন স্পিকার  

তুরস্কে ‘ইসলামি সংবিধান’ দাবি করলেন স্পিকার  

আঙ্কারা, ২৭ এপ্রিল- ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিবর্তে তুরস্কে একটি ইসলামি সংবিধানের দাবি করেছেন দেশটির সংসদের স্পিকার ইসমাইল কাহরামান। তিনি বলেন, তুরস্ক বিপুল সংখ্যক মুসলিমদের একটি দেশ। এখানে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিবর্তে ইসলামভিত্তিক একটি সংবিধান থাকা উচিৎ।

বর্তমানে নতুন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন স্পিকার ইসমাইল কাহরামান। তার মতে, নতুন সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেয়া উচিৎ। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, তুরস্ক একটি মুসলিমপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও এর সংবিধানের কোথাও আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তুরস্কের বর্তমান সংবিধান পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষও নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘তুরস্কে ধর্মীয় অনেক ছুটির দিন আছে। শিক্ষার্থীদেরও ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়। একটি মুসলিম দেশ হিসেবে কেন আমরা ধর্ম থেকে দূরে থাকবো?’

এদিকে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার তারা রাজপথে কিছু সময়ের জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) প্রধান তার টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘সামাজিক শান্তির মূলনীতি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্যই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধান রাখা হয়েছে।’ তবে কাহরামানের দাবি ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্যই একটি ধর্মভিত্তিক সংবিধান দরকার।


বিরোধীদের বিক্ষোভ

কাহরামানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল একে পার্টি জানিয়েছে, স্পিকারের বক্তব্য তাদের দলের পক্ষ থেকে নয়। এরদোয়ান জানান, স্পিকার তার ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছে। এছাড়া তুরস্কের নতুন সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দভুতগ্লু।

১৯২০ সালে তুরস্কে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক। তিনি তুরস্কের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করেন, ধর্ম এবং রাষ্ট্রকে আলাদা করেন, দাপ্তরিক ধর্ম হিসেবে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেন এবং পশ্চিমা ধাঁচে তুরস্ককে ঢেলে সাজান। আরবি বর্ণমালার পরিবর্তে তুরস্কে তিনি লাতিন বর্ণের প্রবর্তন করেন।

অনেকের ধারণা, তুরস্কের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একে পার্টি নাগরিকদের জীবনে আবারো ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংসদে মেয়েদের হেডস্কার্ফ পরার অনুমতি দিয়েছে বর্তমান সরকার। ক্ষমতায় আসার পর গত ১৩ বছর ধরে সংবিধানে নানা পরিবর্তন আনছে বর্তমান তুর্কি সরকার।

উল্লেখ্য, তুরস্ক একটি সুন্নি ‍মুসলিমপ্রধান দেশ। দেশটির প্রায় আট কোটি জনগণের মধ্যে এক লাখ খ্রিস্টান এবং ১৭ হাজার ইহুদি ধর্মাবলম্বী রয়েছে।

আর/১৭:২৪/২৭ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে