Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.6/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৭-২০১৬

বিচারপতি অপসারণ আইন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বার

বিচারপতি অপসারণ আইন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বার
সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল- বিচারকপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে দেয়ার বিধান ফিরিয়ে আনতে ‘সুপ্রিমকোর্ট বিচারক(তদন্ত)আইন ২০১৬’ গত সোমবার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন।

বুধবার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন (বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব) আইনজীবী সমিতির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে এই আইন অনুমোদনের বিরোধিতা করেন। এরপরই সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন জানান, আইনজীবী সমিতির পক্ষে এমন মতামত দেয়া কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যারিস্টার খোকন হয়তো ব্যক্তিগত মত দিয়েছেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আইনটি সংবিধান পরিপন্থি। 

সংবিধানের ৯৪(৪) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই আইন পাস হলে তা হবে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচার বিভাগ আমাদের সংবিধানের একটি মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত। এই আইন পাস হলে তা আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আঘাত করবে।’

এই আইনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের ওপর সরকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই আইনটির মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই আইনটি অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। বিচারপতিরা হয়তো সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে পারবে না।’
 
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সংসদের হাতে ক্ষমতা দিতে হলে সংসদ সদস্যদেরও আচরণবিধি থাকতে হবে। কারণ সংসদ সদস্যদেরও অনেকেই আইনজীবী হিসেবে আদালতে প্রাকটিস করেন। তাই আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত ওই সংসদ সদস্যের বিপক্ষে গেলে সংসদে গিয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে এই আইনের অপব্যবহার করতে পারেন।’

তাছাড়া তদন্ত কমিটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল থাকায় তদন্ত প্রভাবিত হবে। আর একজন নাগরিককে তদন্ত কমিটিতে রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেই ব্যক্তি কে হবেন, এর কোনো বৈশিষ্ট নির্ধারণ করা হয়নি। তাই তদন্ত কমিটিতে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।

পরে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের (তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ) কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধানেও এই বিধানটি ছিল। কিন্তু তখন কোনো বিচারককে অপসারণ করা হয়নি। সরকারী প্রত্যেক কর্মকর্তাদের আচরণবিধি আছে। সুতরাং এই ধরনের তদন্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করবে বলে আমি মনে করি না। তাছাড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় মাত্র নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি আছে। সংসদে পাশ হওয়ার পরও এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে।’

সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘উনি উনার ব্যক্তিগত মতামত দিতেই পারেন। তবে সমিতির পক্ষে বক্তব্য দিতে হলে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের জানা থাকতে হবে। সভাপতি হিসেবে আমি এ ধরনের কোনো সংবাদ সম্মেলনের কথা জানি না। আগে বিষয়টি দেখে তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এফ/১৭:০২/২৭ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে