Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২৭-২০১৬

ধর্মঘট শেষে ফের কর্মচঞ্চল নৌ-বন্দরগুলো

ধর্মঘট শেষে ফের কর্মচঞ্চল নৌ-বন্দরগুলো

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল- সারাদেশের নৌ-বন্দরগুলো এখন সচল। নৌযান শ্রমিকদের লাগাতার ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর থেকে সদরঘাট, মংলা, চট্টগ্রামসহ দেশের সব বন্দরে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। বিশেষ করে সদরঘাট ও বরিশাল নৌবন্দর আগের চেহারা ফিরে পেয়েছে। 

মঙ্গলবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের বৈঠক শেষে ধর্মঘট স্থগিতের পর থেকে বন্দরগুলোতে এ পরিবেশের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র সদরঘাট নৌ বন্দরের যুগ্ম পরিচালক (যান্ত্রিক) জয়নাল আবেদিন।

তিনি বলেন, সদরঘাট বন্দরের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, মেঘলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার উদ্দেশে ১২টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। পাশাপাশি বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে যাত্রী নিয়ে ৬০টি লঞ্চ ফিরে এসেছে। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিসি’র জাহাজগুলো নিয়মিত চলাচল করছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন মালবাহী  নৌযান বাদামতলী ঘাটে এসেছে এবং মালামাল বোঝাই করে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্দরগুলোও সচল হয়ে উঠছে বলে জয়নাল আবেদিন জানান।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ঘোষণায় মালিকপক্ষ না মানলেও মন্ত্রীর আশ্বাসে অবশেষে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ নৌ-যান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম। 

তিনি বলেন, ‘আমরা মন্ত্রীর আশ্বাস মেনে নিয়েছি। দেখি বাস্তবায়ন হয় কি না। তবে বেশি সময় দিতে আমরা রাজি নই।’ শ্রমিকদের ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে কী করবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা ফের আন্দোলনে যাব।’

এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার (লঞ্চ মালিক সমিতি) প্রধান উপদেষ্টা মো. গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেছেন, ‘কোনো সময়ই আমাদের লঞ্চের শ্রমিকদের সমস্যা ছিল না। মঙ্গলবারের বৈঠক শেষে ‘ক’ শ্রেণির শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন বেতন ১০ হাজার টাকা; ‘খ’ শ্রেণির শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন সাড়ে ৯ হাজার টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ৯ হাজার টাকা ঘোষণা করেন মন্ত্রী। কিন্তু বাস্তবে আমাদের লঞ্চ শ্রমিকরা সরকারের ঘোষণা দেয়ার বেতন থেকে অনেক বেশি আয় করে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নৌধর্মঘট পালন করিনি। ধর্মঘটের সময় আমাদের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করেছে।’

মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের মতো সুযোগ-সুবিধা দেয়া, নৌ-পথে অবৈধ চাঁদাবাজি ও অবৈধ ইজারা বন্ধ করা, প্রত্যেক শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক দেয়া, নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মস্থলে আহত শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসাকালে বেতনের দাবিসহ ১৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন গত ২০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট শুরু করে। 

এরপর যাত্রীবাহী নৌযান ধর্মঘট গত ২২ এপ্রিল মধ্যরাতে স্থগিত হলেও মালবাহী নৌযানে ধর্মঘট চলছিল। অবশেষে মঙ্গলবার দীর্ঘ প্রায় ৮ ঘণ্টার বৈঠক শেষে মন্ত্রীর আশ্বাসে সব ধরনের নৌযান ধর্মঘট স্থগিত করা হয়। ফলে বুধবার (২৭ এপ্রিল) থেকে যথারীতি সব ধরনের নৌ-যান চলাচল করছে। 

ধর্মঘটি ৪টি সংগঠনের মধ্যে একটি সংগঠন ২২ এপ্রিলধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়। বাকি তিন সংগঠনের দুই গ্রুপ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও অন্যপক্ষ শেষ পর্যন্ত ধর্মঘট নিয়ে অনড় ছিল।

বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে গত বুধবার (২০ এপ্রিল) রাত ১২টা থেকে সারাদেশে কর্মবিরতি শুরু করে নৌযান শ্রমিকরা। কর্মবিরতি আহ্বান করা সংগঠনগুলো হলো : নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন, লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন ও কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন। এর মধ্যে অন্য তিন সংগঠন তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এফ/১৬:৫৪/২৭ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে