Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৭-২০১৬

বিদ্বেষ ভুলে বঙ্গভোটে কংগ্রেসের পক্ষে প্রচার বিজেপি’র?

বিদ্বেষ ভুলে বঙ্গভোটে কংগ্রেসের পক্ষে প্রচার বিজেপি’র?

কলকাতা, ২৭ এপ্রিল- দিল্লির বিদ্বেষ ভুলে বঙ্গে ভোটে কংগ্রেসের হয়ে ঢালাও প্রচার বিজেপির!  রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এটা অবান্তর বলে মনে হলেও, বাস্তবে বিজেপিকে অধীর চৌধুরীদের কংগ্রেসে হয়েই প্রচার করতে দেখা যাচ্ছে৷ তাও আবার আড়ালে আবডালে নয়৷ রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে৷ দিল্লি আর বাংলা! বিজেপির এই প্রচারে রীতমতো স্তম্ভিত প্রবীণ রাজনৈতিকরা৷ বিজেপির এই বঙ্গভোট প্রচারের কৌশল দেখে সাধারণ মনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে৷

১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট ব্রিটিশ বঙ্গপ্রদেশ পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব পাকিস্তানে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ৯০টি কেন্দ্রের বিধায়ক ও দুই জন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সদস্য নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন বসে। এই সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন কংগ্রেসের প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ। অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কংগ্রেসের বিধানচন্দ্র রায় এবং সিপিএমের জ্যোতি বসু প্রমুখ।

ভারতীয় সংবিধানে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিকক্ষীয় বিধানসভা অনুমোদিত হয়। ১৯৫২ সালে ৫ জুন ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদ গঠিত হয়। দুই জন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সদস্য হয় বিধানসভার সদস্যসংখ্যা হয় ২৪০। ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর ১৯৫২ সালের ১৮ জুন প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন বসে।

১৯৬৯ সালের ২১ মার্চ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিধান পরিষদ অবলুপ্তির প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই অনুসারে, ভারতীয় সংসদে পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদ (অবলুপ্তি) আইন পাস হয়। ১৯৬৯ সালের ১ অগস্ট বিধান পরিষদ অবলুপ্ত হয়।

রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৬০ দিন বাংলার সরকার চালান৷ এর পর ১৯৪৮ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে ১৯৬২ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ডা. বিধানচন্দ্র রায়৷ এর পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রফুল্লচন্দ্র সেন৷তিনি এই রাজ্য চালান ১৯৬২ সালের ১ জুলাই থেকে ১৯৬৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷ ১ মার্চ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন বাংলা কংগ্রেসের (ইউনাইটেড ফ্রন্ট) অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়৷ তিনি  মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৭৬ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত৷ তারপর ১৯৬৭ সালের ২১ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন প্রোগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিভ ফ্রন্টের প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ৷তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৬৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রায় এক বছর, ১ বছর পাঁচ দিন রাজ্যে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ছিল না৷ এরপর পঞ্চম বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী হন বাংলা কংগ্রেসের অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়৷  তিনি ১৯৬৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল অবদি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন৷ এই সময়কালের মধ্যে ১৯৭০ সালের ৩০ জুলাই থেকে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন ছিল৷ রাজ্যে আবার রাষ্ট্রপতি শাসনে যায় ১৯৭১ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত৷ তারপর বিধানসভা ভোটে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন কংগ্রেসের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়৷ তিনি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন ১৯৭২ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত৷ তারপরেই রাজ্য বামফ্রন্ট রাজত্ব কায়েম হয়৷ টানা ৩৪ বছরের মধ্যে সিপিএমের জ্যোতি বসু ২৩ বছর ১৩৭ দিন এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ১০ বছর ১৮৮ দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন৷ আর গত বিধানসভা নির্বাচনে বামশাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হোন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতা পাঁচ বছর সরকার চালানোর পর ১৬ তম বিধানসভা নির্বাচন পর্ব চলছে৷

এবারে নির্বাচনে এককভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি লড়াই করছে৷ অন্যদিকে বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতার জোট করেছে কংগ্রেস৷ চলছে জোর ভোট প্রচার৷ মিটিং-মিছিল, ব্যানার-হোডিং ছাড়াও এবারে ভোট প্রচারে স্থান পেয়েছে সোশ্যাল এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যম৷ বৈদ্যুতিম মিডিয়ায় ভোট প্রচারে বরাবরই এগিয়ে বিজেপি৷ এবার তারা বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেল ছাড়াও ওয়েবসাইটে ঢালাও প্রচার করছে৷ বৈদ্যুতিন মিডিয়ায় প্রচারিত বিজ্ঞাপনে বিজেপির শ্লোগান, ‘৩৯ বছরের বিশ্বাসঘাতকতা, তাই বাংলায় বিজেপি চাই৷’

বিজেপির এই ভোট প্রচারের শ্লোগানে বলা হয়েছে, মমতার পাঁচ বছর, আর বামেদের ৩৪ বছর, এই ৩৯ বছর বাম এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে৷ আর পরোক্ষভাবে বিজেপির এই শ্লোগানেই উঠে এসেছে কংগ্রেসের প্রশংসা করার বিষয়টি৷ টিভিতে বিজেপির এই  বিজ্ঞাপন দেখেই সাধারণ মানুষের জানতে চাইছে, তাহলে কী বিজেপি বলতে চাইছে, ৬০ বছরের মধ্যে ৩৯ বছর বাদে এই বাংলায় কংগ্রেসের শাসন ভালো ছিল? কারণ, বিজেপির বিজ্ঞাপনে কংগ্রেসের আমলকে কোনও কটাক্ষ করা হয়নি৷ পক্ষান্তরে তারা কি কংগ্রেস আমলকে সমর্থন করছে না? পরোক্ষভাবে তো তারা কংগ্রেসের প্রশংসা করছে বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ!

এফ/১৫:৪৫/২৭ এপ্রিল

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে