Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.4/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৬-২০১৬

লিভারের অসুখের জন্য ডায়েট টিপস

সাবেরা খাতুন


লিভারের অসুখের জন্য ডায়েট টিপস

যকৃৎ মানুষের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা শরীরের ডান পাশে থেকে। শরীরের বর্জ্য পদার্থ অপসারণের জন্য এটি অত্যন্ত অপরিহার্য অঙ্গ, তাই এর যত্ন নেয়াটাও জরুরী। হেপাটাইটিস ও সোরিয়াসিসের মত যকৃতের রোগ আছে যাদের তাদের শরীরে খাদ্যের পুষ্টি উপাদান অন্যভাবে ব্যবহৃত হয়। যকৃতের রোগে ভুগছেন এমন কিছু মানুষ আছে যারা যথেষ্ট পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে না পেরে ওজন হারান। লিভার ডিজিজ ডায়েট সঠিক মাত্রায় ক্যালোরি, পুষ্টি উপাদান ও তরল গ্রহণের মাত্রা নির্ধারণ করে দেয় যার ফলে লিভার ডিজিজের উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে। লিভার ডিজিজ ডায়েট আপনার লিভারকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করে। আপনার লিভার ডিজিজের ধরণ ও স্বাস্থ্য সমস্যার উপর নির্ভর করে আপনার খাদ্য তালিকার পরিবর্তন নির্ভর করে। আপনার ডায়েটেশিয়ান বা নিউট্রিশনিস্ট আপনাকে বলে দিবেন কোন ধরণের ডায়েট করা আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।  

লিভার ডিজিজ ডায়েটকে আপনার জীবনধারায় মানিয়ে নেয়ার জন্য যা করবেন :

১। আপনি কী খাবেন বা কী পান করবেন তা পরিবর্তন করাটা প্রাথমিক অবস্থায় কঠিন। এই পরিবর্তনটা প্রতিদিন একটু একটু করে করতে হবে।

২। এই ডায়েট প্ল্যান থেকে অনেক বেশি খাদ্য পছন্দ করে রাখুন। যাতে একই ধরণের খাবার প্রতিদিন খেতে খেতে একঘেয়েমি তৈরি না হয়। আপনি খেতে পারবেন এমন কিছু খাদ্যের তালিকা তৈরি করুন এবং সেটি রান্না ঘরে রাখুন, যাতে তালিকাটি দেখে স্মরণ করতে পারেন।

৩। আপনি যদি বাড়ির বাইরে কোথাও যান তাহলে এই তালিকাটি আপনার সঙ্গে রাখুন।

৪। কোন ধরণের ডায়েট প্ল্যান আপনি অনুসরণ করবেন তা অবশ্যই আপনার চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদকে জিজ্ঞেস করে নিন।

যে খাবার গুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিৎ বা এড়িয়ে চলা উচিৎ :

১। সোডিয়াম: আপনার লবণ গ্রহণের মাত্রা কমাতে হবে। কারণ এটি শরীরে তরল ধরে রাখে। এর ফলে শরীর ফুলে যায়। আপনার চিকিৎসক আপনাকে সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করতে পারেন বা কম মাত্রায় গ্রহণের কথা বলতে পারেন এবং কম সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে আপনাকে তথ্য দেবেন।

উচ্চমাত্রার সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলো হচ্ছে- বেকন, সসেজ, তৈরি মাংস, তৈরি করা বা রেডিমেড সবজি, ভেজিটেবল জুস, ফ্রিজের ডিনার, প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স যেমন- আলুর চিপস বা নোনতা বিস্কিট, সয়াসস, কাবাব, চাটনি, সুপ ও টেবিল সল্ট।

২। লিকুইড: যদি আপনার শরীর ফুলে যায় তাহলে তরল গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। সকল ধরণের জুস, পানি, দুধ এবং অন্যান্য খাদ্য উপাদান যাদের মধ্যে তরলের পরিমাণ বেশি থাকে যেমন- সুপ। এছাড়াও ঠাণ্ডা করা না হলে যে খাদ্য আঠার মত গলে যায়। প্রতিদিন কী পরিমাণ তরল আপনার গ্রহণ করতে পারবেন তা আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

ক। এলকোহল: আপনার লিভার ডিজিজকে আরো খারাপ করে দিতে পারে এলকোহল।

খ। এছাড়াও আপনাকে চিনি যুক্ত খাবারও কম খেতে হবে।      

যে খাবার গুলো খাওয়া যাবে:
সুস্থ থেকে যকৃতের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আপনাকে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরণের খাবার খেতে হবে। আপনি যদি ক্ষুধা অনুভব না করেন বা পেট ভরা অনুভব করেন তাহলে আপনার পর্যাপ্ত ক্যালোরি গ্রহণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একবারে অনেক খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবারে খান। এতে আপনার ক্যালরির গ্রহণের মাত্রা ঠিক থাকবে। প্রতিদিন কী পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করা প্রয়োজন আপনার তা পুষ্টিবিদকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিন। লিভার ডিজিজের রোগীদের সঠিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজনীয়।

যকৃতের সমস্যায় ভুগছেন এমন অনেকেরই হজমের সমস্যা হয়, বিশেষ করে চর্বি হজমের ক্ষেত্রে। চর্বির যে অংশ গুলো ভাঙেনা তা মলের সাথে বের হয়ে যায়। যদি আপনার এই ধরণের সমস্যা থাকে তাহলে কম চর্বিযুক্ত খাবার খেতে হবে। আপনার চিকিৎসক আপনাকে এমন বিশেষ ধরণের ফ্যাট গ্রহণের পরামর্শ দেবেন যা আপনার শরীরে খুব সহজেই শোষিত হতে পারে। লিভার ডিজিজের কারণে কোন মানুষের ব্লাড সুগার লেভেল খুব বৃদ্ধি পেতে পারে বা খুব কমে যেতে পারে। নির্দিষ্ট মাত্রার কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ফলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।     

আর/১৭:৩৪/২৬ এপ্রিল

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে