Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২৫-২০১৬

ভাড়া না কমাতে তেলের গাড়ি হয়ে যাচ্ছে গ্যাসের!

মফিজুল সাদিক


ভাড়া না কমাতে তেলের গাড়ি হয়ে যাচ্ছে গ্যাসের!

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল-  অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে কমেছে ১০ টাকা আর ডিজেল ও কেরোসিন কমেছে প্রতি লিটারে তিন টাকা করে। অথচ তেল চালিত কোনো গণপরিবহনই ভাড়া কমায়নি নগরীতে। উল্টো বাসচালক ও কন্ট্রাক্টরদের খোঁড়া যুক্তিতে অতিষ্ঠ হচ্ছেন যাত্রীরা।

ডেমরা থেকে অছিম পরিবহনে চড়ে গাবতলীতে নেমেছেন বছিলার যাত্রী আদনান বসুনিয়া। প্রতিদিনের মতো সোমবারও ৫০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে। অথচ অছিম পরিবহন ডিজেল চালিত হলেও ভাড়া কমায়নি।

বসুনিয়া বলেন, ‘গ্যাস-তেলের দাম বাড়া-কমাতে আমাদের কোনো যায় আসে না। তেলের দাম কমলে ওদের (বাস মালিক) লাভ। আমরা দেখি, তেলের দাম এক আনা বাড়লে ভাড়া বাড়ে ১০ আনা। কিন্তু কমলে কারোর খবর থাকে না। সরকারের উচিত, মোড়ে মোড়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এদের বিচার করা’।

রোববার (২৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে জ্বালানি তেলের পুনর্নির্ধারিত মূল্য। দাম কমায় পরিবহন ভাড়া কমবে আশা করে সোমবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে পথে নেমেছিলেন নগরবাসী। কিন্তু আগের বর্ধিত হারের ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।  

বাসের চালক ও কন্ট্রাক্টররা যাত্রীদের নানা ধরনের যুক্তি দিচ্ছেন ভাড়া কম না নেওয়া প্রসঙ্গে। কেউ বলছেন, আমার বাস গ্যাসের। কেউ বলছেন, মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) থেকে কমবে। কেউ আবার বলছেন, আগের দামেই রোববার ডিজেল কিনে বাস চালানো হচ্ছে।


অছিম পরিবহনের কন্ট্রাক্টর সাহারুল ইসলাম বলেন, ‘তেলের দাম কমার খবর আইছে। পাম্পে দাম কমেনি। আজকে (সোমবার) মধ্যরাত থেকে কমবে। এর পরেই চিন্তা করে দেখা যাবে’।

মিরপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী পরিবহন হিমাচল। এ পরিবহনের অধিকাংশ বাসই তেলে চলে। অথচ তেলের দাম কমায় এ পরিবহনগুলোকে এখন গ্যাস চালিত পরিবহন বলে দাবি করছেন চালক-সুপারভাইজার-সহকারীরা। প্রতিদিনের মতো সোমবারও ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করেছে যাত্রীর কাছ থেকে। মিরপুর-১০ নম্বর থেকে গুলিস্তান পযর্ন্ত ভাড়াও অন্যান্য দিনের মতো ২৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

গুলিস্তান মোড়ে হিমাচল পরিবহনের যাত্রী মিজানুর রহমান  বলেন, ‘প্রতিদিন যা কাটে আজও তাই কাটছে। ওরা(বাস মালিক) তো মাস্তান, তেলের দাম কমালো কারোর যায়-আসে না। ওদের কথা বলে লাভ নেই’।

অন্য বাসগুলোও তেল চালিত হয়েও গ্যাস চালিত পরিবহন বলে দাবি করা হচ্ছে। যেমন শিকড় পরিবহনের কিছু বাস তেল চালিত হলেও এর শ্রমিকরা তা বলতে নারাজ। এ পরিবহন মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে ৩২ টাকা ভাড়া আদায় করছে। জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বাসে উঠলেই আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা ভাড়া। মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরাণীগঞ্জে চলাচল করে দিশারী পরিবহন। এটিও প্রেসক্লাব থেকে বাসে উঠলেই ২৫ টাকা ভাড়া আদায় করছে।

শিকড় পরিবহনের সুপারভাইজার রাশেদ বলেন, ‘আমাদের সব গাড়ি গ্যাসে চলে। গ্যাসের তো দাম কমেনি। তাহলে আমরা কেন ভাড়া কমাবো? আমাদের ত্যালের কোনো গাড়ি নেই’।

নগরীর জাবালে নূর, জাবালে তুর, আকিক, তেতুলিয়া, রব রব, অ্যাক্টিভ, অছিম, বসুমতি, নূরে মক্কা, প্রজাপতি স্বাধীন ও মিরপুর লিংক তেল চালিত। অথচ আগের ভাড়াতেই অনড় আছে পরিবহনগুলো। মিরপুর থেকে মাওয়া ঘাট পর্যন্ত ১০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে স্বাধীন পরিবহন।

ভাড়া না কমানোর খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে স্বাধীন পরিবহনের সুপারভাইজার হাশেম সরদার বলেন, ‘মনে করেন, মিরপুর থেকে মাওয়া ঘাটের ভাড়া ১০০ টাকা। এই পথে তেল লাগে ৩০ লিটার। এতে করে ৯০ টাকার জ্বালানি কমে। এতে ভাড়া কতো কমানো যায়। তারপরও সবাই যদি ভাড়া কমায়, তবে আমরাও কমাবো’।

রোববার মধ্যরাত থেকেই তেলের দাম কম রাখছে পেট্রোল পাম্পগুলো। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন দামে প্রতি লিটার অকটেন ৮৯ টাকা, পেট্রোল ৮৬ টাকা ও ডিজেল ৬৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পরিবহনের যাত্রীরা এর সুফল না পেলেও মোটরসাইকেল চালকেরা পেতে শুরু করেছেন। এতে করে সরকারের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

মিরপুর ১৪ নম্বর পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালক মিল্টন হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, গড়ে দৈনিক দুই লিটার অকটেন লাগে। এতে প্রতিদিন ২০ টাকা সেভ হচ্ছে। এ উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ।

আর/১০:০৪/২৫ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে