Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২৫-২০১৬

‘মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনই চূড়ান্ত নয়’

ইলিয়াস সরকার


‘মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনই চূড়ান্ত নয়’

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল- মন্ত্রিসভার  নীতিগত অনুমোদনই চূড়ান্ত নয়। এরপরেও একটি আইন পাসে আরও অনেক প্রক্রিয়া আছে। এটা একটা রুটিন ওয়ার্ক।

সংসদে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দিয়ে  করা  সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জের রায় দেওয়ার প্রাক্কালে এ নিয়ে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন, ২০১৬’- এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার পর এমন মন্তব্য করেছেন আইনজ্ঞরা।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়।

এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে এ রিট আবেদন দায়ের করেন। এ রিটের ওপর শুনানি শেষে আগামী ৫ মে রায়ের দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

এর মধ্যে সোমবার (২৬ এপ্রিল) ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন, ২০১৬-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়।

আইনজ্ঞরা যা বলেছেন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির  সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘নিয়োগে যে রকম নীতিমালা থাকা দরকার অপসারণেও সে রকম নীতিমালা দরকার। এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারী যারা আছেন তাদেরও আছে’।

‘মন্ত্রিসভায় যেটা হয়েছে সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত  হয়েছে এটাকে সাধুবাদ  জানাই। এবং আমরা মনে করি, এটার প্রয়োজন ছিলো। প্রয়োজনটা সরকার অনুধাবন করেছে’।

বিচারক নিয়োগে নীতিমালা এখনো হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিয়োগের নীতিমালাও আসছে’।

ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে রায় ঘোষণার প্রাক্কালে এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার অনুমোদন রায়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘রায় তো এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই এতে কোনো সাংঘর্ষিক হওয়ার কিছু নেই। যদি রায়ে এ খসড়া নীতিমালা নিয়ে বৈপরীত্য থাকে তখন দেখা যাবে। এটা আগাম বলা যাবে না। কারণ, রায়ের জন্য অপেক্ষমান আছে’।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সেটা (প্রতিফলন) হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। ওই মামলায় যে প্রতিপাদ্য বা পয়েন্টেসের ভিত্তিতে আলোচনা হয়েছে সেটা পর্যালোচনা করে রায় দেবেন বিচারপতিরা। আজকের এটা (মন্ত্রিসভার অনুমোদন) রেফারেন্সে আসবে না’।

সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, এটা (মন্ত্রিসভার অনুমোদন) সরকারের রুটিন ওয়ার্ক। মন্ত্রিসভা থেকে সংসদ- আরো অনেক প্রক্রিয়া। তবে কোর্ট রায় যা দেবেন, তাই হবে। অনুমোদন দিলেও কী? যদি কোর্ট মূল আইনকে  (ষোড়শ সংশোধনী) বাতিল করে দেন, তা হলে তো সব (মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন) বাদ হয়ে যাবে’।

রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মূল আইন চ্যালেঞ্জ করেছি। সেটা  থাকবে কি থাকবে না এটা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ওই আইনের ওপর ভিত্তি করে আরেকটি আইন যদি করতে যায়....। রায়ের জন্য অপেক্ষমান- এ রকম সাব জুডিস ম্যাটারে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া বা এর সুযোগ দেখছি না। তবে মন্ত্রিপরিষদই  চূড়ান্ত নয়’।

খসড়ায় যা আছে
সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দাখিল করতে হবে। ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে স্পিকার একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করবেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে স্পিকার বিষয়টি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাবেন।প্রাথমিক তদন্ত শেষ করতে হবে সাতদিনের মধ্যে।

কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতি। এ ছাড়া ওই কমিটিতে সাবেক একজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং একজন সম্ভ্রান্ত নাগরিককে রাখার কথা বলা হয়েছে।

‘তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ফলাফল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর সংবিধানের ৯৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারককে অপসারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গ্রহণ করতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ওই বিচারককে অপসারণ করবেন’।

ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ
১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে।
 
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়।

সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে এ রিট আবেদন দায়ের করেন।

হাইকোর্ট এ সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

গত বছরের ২১ মে রুলের শুনানি শুরু হয়। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। এছাড়া অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানি করেছেন শীর্ষ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি।

গত ১০ মার্চ শুনানি শেষে আগামী ০৫ মে রায়ের দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে