Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৫-২০১৬

সাত খুন: ‘সাক্ষীদের চুপ থাকার হুমকি নূর হোসেনের’

সাত খুন: ‘সাক্ষীদের চুপ থাকার হুমকি নূর হোসেনের’

নারায়ণগঞ্জ, ২৫ এপ্রিল- নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন সাক্ষীদের চুপ থাকার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদীর আইনজীবী।

সোমবার আদলতে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে এ অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন।

নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও এক মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির আইনজীবী সাখাওয়াত বলেন, সাক্ষীরা যখন আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন তখন বিপরীত দিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নূর হোসেন তার ঠোটে আঙ্গুল তুলে সাক্ষীদের চুপ থাকার নির্দেশ দেয়।

“এছাড়া আসামি মেজর (অব:) আরিফ হোসেন চিৎকার করে বলেন সাক্ষীরা শেখানো সাক্ষী দিচ্ছেন। পরে আদালত তাকে চুপ থাকার নির্দেশ দেন।”

হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, “এ রকম কোনো ঘটনা আদালতে ঘটেনি। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের বা আদালতের নজরে আসতো। তবুও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

তিনি বলেন, নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়িচালক নিহত ইব্রাহীমের বড় ভাই মো. ইউসুফের অসমাপ্ত জেরা সম্পন্ন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

“এরপর নিহত সিরাজুল ইসলাম লিটন ও জাহাঙ্গীরের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী বন্দর থানার এসআই আবু তালেব, লিটনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহীম, ফকির চাঁন ও ইবনে হাসান সাক্ষ্য দেন।পরে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।”

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী জানান, এরপর নিহত প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আব্দুস সালাম সাক্ষ্য দেন। এই সময়ে তিনি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি নূর হোসেন, তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন, এম এম রানা, মর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদকে তার ভাইয়ের হত্যাকারী হিসাবে শনাক্ত করেন। পরে আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

‘এরপর নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের ভাতিজা অরুণাভ সরকার এবং নজরুলকে বহনকারী প্রাইভেটকারের চালক জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাই আলমগীর হোসেন সাক্ষ্য দেন।’

মো. হাসেম নামের এক সাক্ষী অনুপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্য  ও জেরা শেষে আদালত আগামী ২ মে পরবর্তী শুনানীর দিন রেখেছে বলে জানান পিপি খোকন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও বিজয় কুমার পাল মামলা দুটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

গত  ৮ ফেব্রুয়ারি ৭ খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে ৩৫ আসামির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করে।

নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে