Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৪-২০১৬

সভ্যতার বাইরের মানুষ যারা

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি


সভ্যতার বাইরের মানুষ যারা

প্রতিদিন সকালে যেখানে মোবাইলটা একটু নেড়েচেড়ে, ফেসবুকে চোখ রেখে একটু চা না খেলে দিনটা ঠিক করে শুরু হয়না আপনার, সেখানে আজ আপনাদেরকে শোনাব এমন কিছু মানুষের কথা, যারা মোবাইল কেন এখনো চোখে দেখেনি সামান্য বিদ্যুতের তারও! প্রযুক্তি নয়, বরং প্রকৃতির সাথেই এখনো যাদের সখ্যতা বেশি। চলুন দেখে আসি সেই সভ্যতার বাইরে থাকা মানুষগুলোকে।

১. সেন্টাইনলিস- ভারতের উত্তর সেন্টাইনিল দ্বীপের বসবাসকারী এই মানুষগুলোকে ডাকা হয় তাদের বসবাসের স্থানের নামেই। কারণ এখনো অব্দি এটা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি যে তারা আসলে নিজেদেরকে কি নামে পরিচয় দেয়। ২০০৬ সালে সভ্য জগতের দুটি নৌকা ঐ দ্বীপে পৌঁছলে সেন্টাইনিলসরা আরোহী দুজন জেলেকে মেরে পুঁতে ফেলে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পুরো ব্যাপারটি নিশ্চিত করা গেলে দ্বীপটির ধারে কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আর এর একমাত্র কারণ ছিল দ্বীপবাসীদের একের পর এক তীর- ধনুক বর্ষন।

পুলিশদের কেউ কখনো ঐ দ্বীপে যেতে রাজী হয়নি কেবলমাত্র এই ভয়েই যে ওরা তাদেরকেও মেরে পুঁতে ফেলবে। এখনো অব্দি সভ্যতার একটা আঁচড়ও এই মানুষগুলোর ভেতরে পড়েনি। হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাই এদেরকে খানিকটা দেখা গেলেও এর ধারে কাছে যাওয়াটা একেবারেই অসম্ভব কাজ বলে সবার ধারণা। তবে কেবল এখনই নয়, ভারতের এই দ্বীপের মানুষেরা সভ্যতা ঠিক করে গড়ে ওঠার আগেও এতটাই বর্বর ছিল। আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কো পোলোর লেখাতেও। তখনো অনেক বেশি অমানবিক আর অবন্ধুসূলভ ছিল এই দ্বীপবাসীরা। আর তাই সবটা দেখে শুনে শেষ অব্দি এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে যে ব্যস! অনেক হয়েছে। ওদেরকে ঠিক তেমনটাই রাখা হোক যেমনটা ওরা থাকতে চায়। একেবারে সভ্যতার বাইরের একটি গোত্র হিসেবে এখনো পর্যন্ত তাই বেশ ভালোভাবেই টিকে রয়েছে সেন্টাইনলিসরা।

২. মাচো পিরো গোত্র- পৃথিবীর বুকে এতকাল ধরে লুকিয়ে থাকা এই গোত্রটির কথা আমাদের সভ্য জগতের জানার বাইরেই থেকে যেত যদিনা কিছুদিন আগে অর্ধনগ্ন আর পিছিয়ে পড়া এই মানুষগুলো তাদের কৌতুহলকে চাপা দিতে না পেরে পেরুভিয়ান নদীর পাশ দিয়ে খানিকটা উঁকি দিত। কিন্তু কি এমন ঘটনা ঘটল যে এতদিন পর সবার সামনে বেরিয়ে আসতে হল ওদের? গবেষকদের মতে এর একমাত্র কারণ সভ্যতার অন্যতম দুই আকর্ষণ। দেয়াশলাই আর ধাতুর পাত্র।

পেরু সরকার যদিও এই গোত্রটিকে বাঁচানোর জন্যে আইন জারী করেছে এবং কোন পর্যটককেই ওখানে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারী করে দিয়েছে, বর্তমানে কিছু পর্যটক ও ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগের ফলে এর পুরো ব্যাপারটিই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। লোভী মানুষ আর নৃ-তত্ত্ববিদদের অতিরিক্ত আগ্রহের নির্মম শিকার হচ্ছে এই গোত্রের মানুষগুলো।

৩. হাদজা গোত্র- টাইম মেশিনের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই? কিন্তু কখনো ভেবেছেন সময় বদলে অন্য সময়ে চলে গেলে ঠিক কেমন লাগে? ভাবছেন, ধুর! এনটা কি সম্ভব না কি! টাইম মেশিন তো এখনো বানানোই হয়নি। ঠিক। টাইম মেশিন তৈরি করা সম্ভব হয়নি এখনো। কিন্তু তাতে কি? আফ্রিকার এই গোত্রের মানুষদের এলাকায় একবার ঢুকে দেখুন। কোন ধরনের টাইম মেশিন ছাড়াই সোজা ১০,০০০ বছর পিছিয়ে যাবেন আপনি।

আফ্রিকার রিফ্ট উপত্যকার ইয়াসী লেকের পাশে বসবাস করা এই মানুষগুলো বেশ শান্তিপ্রিয়। প্রকৃতির আশীর্বাদে গত দশ হাজার বছরের ভেতরে কোন ধরনের মহামারী বা দুর্ভিক্ষও দেখতে হয়নি এদের। ফলে আশ্চর্যরকমভাবে কোন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে এরা পৃথিবির মানচিত্রে। হাদজা গোত্রের মানুষের প্রধান খাবার মাংস। শিকার করে আনা বেবুন, পাখী, পিঁপড়াখেকো ও ষাঁড়ের মাংস খেয়েই নিজেদের দিন কাটায় তারা। শিকার কাজে তাদের প্রধান অস্ত্র হল ধনুক। সবচাইতে মজার ব্যাপার হল এই এতটা বছরেও এই গোত্রের সদস্য সংখ্যা খাবারের তুলনায় খুব একটা বেশি বা কম হয়নি। বরং সবসময়ই একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে থেকেছে তারা। গরম আর কর্কশ আবহাওয়ার মাঝে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোকে সহ্য করতে হয় বিষাক্ত সাপ, কাঁটাযুক্ত ঝোপ আর মানুষখেকো সিংহকে। পৃথিবী সম্পর্কে খুব বেশি আগ্রহ না রাখা এই মানুষেরা নিজেদের খাবারের সংস্থান হয়ে গেলে বাকিটা সময় নিজেদের ডেরাতেই ঘুরে বেড়ায়। নিজেদের নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে পা ফেলেনা কখনোই। আর তাই সভ্যতার অনেক কাছে থেকেও অনেকটা দূরে রয়েছে এখনো গোত্রটি।

লিখেছেন- সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

এফ/০৮:২০/২৪ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে