Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৪-২০১৬

রানা প্লাজার ধসে নিহত শ্রমিকদের সন্তানেরা ভালো নেই

আবদুল কাইয়ূম


রানা প্লাজার ধসে নিহত শ্রমিকদের সন্তানেরা ভালো নেই

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল- আজ রানা প্লাজা ধসের তিনবছর পূর্তি। এ ঘটনায় সাড়ে ১১শ শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা দাবি দাওয়া, আন্দোলন ও প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। তবে নিহত শ্রমিকদের রেখে যাওয়া অসহায় কয়েকশত শিশুর কথাগুলো এখন খবরের আড়ালে।নিহত শ্রমিকদের শিশুরা কেউ হারিয়েছে মা, কেউ বাবা। কেউ কেউ হারিয়েছেন মা বা দুজনকেই। কেমন আছে সেই শিশু সন্তানরা!


দাদির সঙ্গে বাবা-মা হারানো আসিফ ও লাবন্য

রানা প্লাজা ভবন ধসে রাজবাড়ীর আলদীপুর গ্রামের বৃদ্ধা সালেহা বেগম তার বড় ছেলে ও ছোট ছেলের বউকে হারানোর স্মৃতি মুছে যাওয়ার আগেই তাদের রেখে যাওয়া শিশু সন্তাদের নিয়ে চরম দারিদ্রতায় দিনযাপন করছে। নিহত বড় ছেলের বউ আট বছরের মেয়ে লাবণ্য আক্তার লিখনকে রেখে অনত্র বিয়ে করে ক্ষতির পূরণের সব টাকা নিয়ে চলে গেছে। এখন লাব্যণ্যের কোন খবরই রাখে না তার মা।

লাবণ্যকে কাছে তার মা কথা জানতে চাইলে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে যায়্। মাথা নিচু করে অনেকটা জোর করে বলে, আমার মা কোন খবর নেয় না, মোবাইলেও কোন কথা বলে না, আমাকে দেখতেও আসে না।


রানা প্লাজা ধসে নিহতের শিশু সন্তান

অন্যদিকে সালেহা বেগমের ছোট ছেলে তিটন শেখ ও তার স্ত্রী আসমা রানা প্লাজায় ভবন ধসে চাপায় পড়ে। তিটন শেখ বেঁচে গেলেও নিখোঁজ হয় তার স্ত্রী আসমা বেগম। আসমা বেগমকে আরও খোঁজে পাওয়া যায়নি। হয়তো আর পাওয়া যাবে না। তবে তিটন শেখ বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করলেও আসমা বেগমের দম্পতির পাঁচ বছরের শিশু ছেলে আশিফ শেখ কোন দায়িত্ব নেয় না। আসমা বেগমের ক্ষতিপূরণের টাকা ও আশিফের অনুদানের সব টাকাই তার নানার কাছে। চাইলেও কোন টাকা পয়সা দেয় শিশু আসিফের খরচের জন্য। আর অসহায় এই শিশু লাবণ্য ও আসিফকে অনেক কষ্টে আগলে রেখেছেন তার দাদী সালেহা বেগম।

আবার ধামরাইয়ের সাত বছরের শিশু ছেলে বিজয় ভবন ধসের ঘটনায় মা বাবা দুজনকেই হারিয়েছে। ক্ষতিপূরণ বাবদ যা পেয়েছেন কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে তারই স্বজনরা। ফলে বৃদ্ধা দাদী তার জীবনযাত্রা সঙ্গী। ক্ষতিপূরণের টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে স্বজনরা। ফলে মা বাবা হারানো শিশু সন্তানরা নানা কষ্ঠে অসহায়ভাবে তাদের জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে।


রানা প্লাজা ধসে মা-বাবা হারানো শিশু বিজয়

সেই দিনের ঘটনার বিষয়ে বিজয়ের সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ওই দিনে প্রতিদিনের মত স্কুলে গিয়েছিল সে। হঠাৎ করে লোকমুকে শুনতে পায় রানা প্লাজা ভবন ভেঙ্গে পড়ছে। প্রথমে বিশ্বাস করেনি। তবু ছুটে গেছে তাদের ভাড়া বাড়িতে। বাড়ির ঘরে তালা। আশেপাশে যারা রানা প্লাজায় যারা চাকরি তাদের বাড়িতে গিয়েও দেখে গর তালা দেয়া। কাঁদতে কাঁদতে ছুটে চলে রানা প্লাজার দিকে। প্রতিবেশীর মোবাইলের মাদ্যমে বাবার মোইউলে কল দেয়। নাম্বার ব্যস্ত। আবার ফোন দেয় মোবাইন ফোন এবার বন্ধ। আর কথা বলা হয়নি মা বাবার সঙ্গে শিশু বিজয়ের। বিজয় ছলছল চোখে আবার বলে, কেউ বকাঝকা করলে বা পড়ে গিয়ে কোন ব্যাথা পেলে মা বাবা কথা খুব মনে পড়ে আর কান্না আসে তার।


রানা প্লাজা ধসে নিহতদের শিশু সন্তানেরা

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের মতে, দেশে বিভিন্ন প্রান্তে এ রকম প্রায় কয়েক শিশু অসহায়ভাবে তাদের জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে। তাদের মা কিং বাবা এমনকি তাদের অনুদানের টাকাগুলো তাদের স্বজনরা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে। ফলে অনুদান পেয়েও অনেক কষ্ঠে করে লালন পালন হচ্ছে এইসব শিশুরা। তবে রানা প্লাজায় ভবন ধসে মা বা হারানো শিশুদের নিয়ে কাজ করা মিনা বাংলাদেশ নামে একটি সংস্থা প্রায় ৮০ জন বিভিন্ন বয়সী শিশু কিশোরদের নিয়ে শুক্রবারে পড়ালেখাসহ বিভন্ন বিনোদনমূলক কাযক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেখানে নাঁচ, গান সেলাই প্রশিক্ষণ শিখানো হয়। যাতে করে তার ভবিষ্যৎতে তার স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

এই সংস্থার ফাউন্ডার ও চেয়ারপারসন ফারহানা ফন মিটসলাফ জানান, অসহায় শিশুগুলোর স্বপ্ন ও ইচ্ছা আছে, সবার সহযোগিতায় পেলে তাদের এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ভবিষ্যৎতকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

শিশুদের বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) সহকারী প্রোগ্রাম কর্মকর্তা জানান, নিহত ও আহত শ্রমিকদের নিয়ে অনেক আন্দোলন, প্রতিবাদ ও দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। এটা যেমন যুক্তিযুক্ত তেমনি তাদের রেখে যাওয়া নতুন প্রজন্মদের কথাও আমাদের জোর দিয়ে ভাবতে হবে।

এফ/০৭:৪০/২৪ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে