Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২২-২০১৬

অসাধারণ ৫টি লেক ও তীরের মনমাতানো শহরগুলো

আফসানা সুমী


অসাধারণ ৫টি লেক ও তীরের মনমাতানো শহরগুলো

কখনো কি ভেবেছেন লেকের স্থির টলটলে জলরাশির পাশেই ছোট ঘর আপনার? ঘর থেকে বেড়িয়ে দুই পা এগিয়েই বসে থাকা যায় শীতল স্বচ্ছ পানিতে পা ডুবিয়ে? চাইলেই লেকে বেড়ানো যায় নৌকায়, কাটা যায় ইচ্ছেমত সাঁতার? মানবসভ্যতার বিকাশে নদীর অবদান অনেক। লেক সেখানে নিরবে দান করে গেছে তাঁর ঐশ্বর্য্য। লেকের মাঝে চমৎকার শহর ভেনিসের কথা কে না জানে! আসুন জেনে নিই পৃথিবীজোড়া আরও কিছু মনোরম শহরের কথা যেগুলোর অবস্থান লেকের পারেই।
 
জেনেভা, সুইজারল্যান্ডের লেক পারের শহর
আপনি যদি এমন একটা শহর খোঁজেন যেখানে আছে ব্যবসা, রাজনীতি, প্রতিভা, ইতিহাস আর অপরূপ প্রকৃতির মিলন তাহলে জেনেভা হল সেই শহর। এই কসমোপলিটন শহর অনেক দিক থেকেই অনন্য। বিশ্বের অত্যন্ত ডিপ্লোমেটিক এই শহরটি জেনেভা লেকের পারে অবস্থিত। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় আলপাইন লেক। রোমানরা প্রথম এই লেকের পারে বসতি গড়ে। জেনেভার আজকের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য গড়ে তুলতে তাদের অবদান অনেক। মধ্যযুগ থেকেই শহরটি বাণিজ্যে অবদান রেখে চলেছে। আর তাঁর বিকাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য থেকে শুরু করে নৌ যোগাযোগ, বাণিজ্য সব কিছুতেই নিরবে অবদান রেখে গেছে জেনেভা লেক।
 
চাপালা, মেক্সিকো
চাপালা শহরটি যেন অতন্দ্র প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে আছে চাপালা লেকের পারে। এটি এমন একটি শহর যে বলা হয়, এখানে ভুল কিছু ঘটে না। ন্যাশনাল জিওগাফিক চাপালাকে বিশ্বের ২য় সবচেয়ে ভালো পরিবেশের শহর বলে আখ্যায়িত করেছেন। ফুরফুরে চমৎকার তাপমাত্রা বসবাসের জন্য দারুণ উপযোগী। আবার মেক্সিকোর জনসংখ্যাও পরিবেশবান্ধব। স্বল্প জনসংখ্যার অঞ্চলটির মানুষেরা সবসময় আপনাকে স্বাগত জানাবে হাসিমুখে। দূর্যোগের পরিস্থিতিতে একে অন্যের পাশে সানন্দ্যে দাঁড়ায় তারা, সাহায্য করে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে। এখানে প্রকৃতি অকৃপন রঙিন, বসন্তে ফুল ফোটে শহরের প্রতি কোণায়। পর্যটকরা একবার এলে ছেড়ে যেতে চান না শহরটি।
 
ইউরোস দ্বীপমালা, পেরু
ভাবুন দেখি, ভাসমান একটা দ্বীপে হাঁটছেন আপনি। দ্বীপে ছোট কুঁড়ে কুড়ে ঘর, ঘর ঘিরে সবুজ ঘাস, আর দ্বীপ ঘিরে স্বচ্ছ নীল অথৈ জল, দূরে টিলা ধারণ করেছে আবছে নীল রং আকাশের সাথে মিলিয়ে, সেই নীলের আবার কয়েকটি শেড। এমনই অপূর্ব দৃশ্যের সম্মিলন দেখতে যেতে হবে পেরুর ইউরোস দ্বীপে। ইউরোস আদিবাসিদের এই দ্বীপগুলো তৈরি করা হয়েছে টটরা নলখাগড়া থেকে যা জন্মায় লেকের অগিভীর অংশের পানিতে। এই নলখাগড়ায় বানানো নৌকাগুলো আগে ব্যবহার করা হত মাছ ধরার কাজে, তবে এখন ব্যবহার করা হয় পর্যটকদের লেকে আনন্দময় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। এখানকার আদিবাসি গোষ্ঠীর ইতিহাস এবং জীবনধারা আজও একটি রহস্য।
 
হলস্টাট, অস্ট্রিয়া
চমপ্রদ হলস্টাট লেকটি অস্ট্রিয়ার উচ্চ উপত্যকায় অবস্থিত এবং এর পানি লবণাক্ত। এখানকার জীবন পর্বতে পর্বতে লবণের খনির মধ্যে আবর্তিত হয়। লেকের স্বচ্ছ পানিতে প্রতিবিম্বিত হয় পুরো শহর, পেছনের পর্বতের সারি তৈরি করে মায়াবি আবহ, আকাশের রং এর সাথে মিলিয়ে বেলায় বেলায় রং বদলায় অপরূপ প্রাকৃতিক ছবিটি। বসন্তে এলাকাটির একাংশ হয়ে ওঠে রঙিন। শহরটি শান্তিময়, নৌকায় লেক ভ্রমণ করতে পারেন, ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন লবণের খনি পাহাড়গুলো। এখানে গেলে লবণের মাঝে স্লাইড করার আনন্দ নিতে ভুলবেন না যেন।
 
জেনভি, বেনিন
লেক পারের শহরগুলোর মধ্যে জেনভির ইতিহাস সবচেয়ে মজার আর এর ভৌগলিক অবস্থানও উদ্ভট। পুরো শহরটিই দাঁড়িয়ে আছে খুটির উপর। হ্যাঁ, খুটির উপর ছোট ছোট ঘর মিলে এই শহর জেনভি। অদ্ভুত এই শহরটিকে বলা হয় আফ্রিকার ভেনিস, নকোউ লেকের উপর এর অবস্থান। শহরটি স্থাপন করেন আফ্রিকান টফিনুরা। ১৭ শতকে ক্ষমতাধর পর্তুগিজরা আফ্রিকানদের বন্দী করছিল এবং পরিণত করছিল দাসে। ফোন আদিবাসিরা ইউরোপিয়ানদের সাথে তখন একটি সন্ধিতে আসে। চুক্তিটি ছিল এমন যে ফনরা অন্য গোষ্ঠী থেকে মানুষদের বন্দী করবে এবং তাদের চালান করে দেবে ইউরোপিয়ানদের কাছে। আর তাঁর বিনিময়ে দিতে হবে তাদের স্বাধীনতা। ফনদের দের সাথে অন্যান্য আদিবাসিদের যুদ্ধ শুরু হল। ফণরা ছিল শক্তিশালী। কোনভাবেই অন্যরা যুদ্ধে পেরে উঠছিল না তাদের সাথে। তখন টফিনুরা মজার এক ফন্দী আটলো। ধর্মীয় ভাবে ফণদের নিষেধাজ্ঞা ছিল যে, তারা পানিতে বসবাসরতদের উপর আক্রমণ করবে না। টফিনুরা বসতি গড়ে তুলল লেকের উপর। এভাবেই স্থাপিত হল চমৎকার শহর জেনভির। এখানে অক্সিজেনের মতই প্রয়োজনীয় নৌকা।

আর/১০:০৪/২২ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে