Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২২-২০১৬

৬৩৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পিডিবি-ওরিয়ন চুক্তি

৬৩৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পিডিবি-ওরিয়ন চুক্তি

ঢাকা, ২২ এপ্রিল- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ওরিয়ন গ্রুপের মধ্যে ৬৩৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ কেনা সংক্রান্ত দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ‘ইমপ্লিমেনটেশন এগ্রিমেন্ট (আইএ)’ এবং ‘পাওয়ার পারচেস এগ্রিমেন্ট (পিপিএ)’ নামে এই দুই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়াতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জমি কেনা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে বলেন ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম।

“পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে ৫০ থেকে ৭০ ভাগ বিদ্যুৎ কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে হচ্ছে। জনবসতির মাঝে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। সমস্যা যেখানে আছে, সমাধানও কিন্তু সেখানে আছে।

“এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এমন টেকনোলজিতে হবে, এটি নিয়ে আতংকিত হবার কিছু নেই। বর্তমান পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলবে না। উন্নত টেকনোলজি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতিতে এটি করতে যাচ্ছি।”

চুক্তি অনুযায়ী সাইনিংয়ের সময় থেকে ৪৫ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে বলে জানান ওবায়দুল করিম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে টোটাল পাওয়ার জেনারেশনের ৪৫ ভাগ আসে প্রাইভেট সেক্টর থেকে। প্রাইভেট সেক্টরকে বলা হয় উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।

“বাংলাদেশে প্রাইভেট সেক্টর গ্রো করেছে। এটি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসকারি খাতের মেগা প্রজেক্টগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। এটি দেশবাসীর জন্য বিশাল সুখবর।”

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তাকে বর্তমান বিশ্বের ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ অভিহিত করে জ্বালানি সচিব বলেন, “আমরা পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করি, তারা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এর কথা বলে থাকি, সেটির বাংলা টেকসই উন্নয়ন।

“এটির পাঁচটি পিলার আছে। প্রথমটা ওয়াটার, দ্বিতীয়টা এনার্জি, তারপর বায়োডাইভারসিটি, এরপর এগ্রিকালচার ও হেলপ। পাঁচটির একটিকে বাদ দিলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় না।”

বাংলাদেশে আগে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯০ ভাগ গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসলেও অন্যান্য খাতে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ায় বিকল্প জ্বালানির অনুসন্ধানের কথা বলেন সচিব মনোয়ার ইসলাম।

“গ্যাসের ডিমান্ড শুধু পাওয়া সেক্টরে নয়, এখন বেসকারি সেক্টরে গ্যাসের হিউজ ডিমান্ড ক্রিয়েট হয়েছে। ফারটিলাইজার ফ্যাক্টরিতে হিউজ ডিমান্ড। পলিউশন কমানোর জন্য ট্রান্সপোর্স সেক্টরে গ্যাস ইনভলভ করেছি। এতে আমরা সফল।

“এখন ঢাকা শহরে আগের মত চোখ ঝালাপালা করে না। গ্যাসের উপর চাপ পড়েছে, গ্যাস তো আনলিমিটেড নয়। বাসা থেকে গ্যাস তুলে দিলে প্রত্যেকের স্ত্রী আন্দোলন শুরু করে দেবে। গ্যাসের উপর যে বিশাল চাপ এটা অনুভব করতে হবে। এজন্য অলটারনেটিভ সোর্স অব এনার্জি খুঁজে বের করতে হবে। ”

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় এরকম কয়েকটি দেশের প্রসঙ্গ টানেন জ্বালানি সচিব ও ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশেও অন্তত ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান জ্বালানি সচিব।

“অতীতে প্ল্যানিংয়ে এই জিনিসটা চিন্তা করি নাই, এখন চিন্তা করছি। আমার মনে হয় আমরা অত্যন্ত রিয়েলিস্টিক ডিসিশন নিয়েছি যে আমাদের এখন মেজর পোর্শন অন্তত ৫০ ভাগ আসবে কয়লা থেকে। সেজন্য অনেকেই আতংকিত হচ্ছেন- দেশ না জানি কয়লার ইয়ে…তে অন্ধকার হয়ে যাবে।

“প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত হয়েছে। প্রযুক্তি যদি অত্যাধুনিক হয় এটা যদি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি হয়, এটি গভীর জঙ্গলে হলেও ক্ষতি নেই, এটি শহরের মাঝখানে হলেও ক্ষতি নেই। ”

প্রতিবছর বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ থেকে ২০ ভাগ বাড়ছে জানিয়ে এ চাহিদা মেটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকেই ‘চূড়ান্ত সমাধান’ বলে মন্তব্য করেন মনোয়ার ইসলাম।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিমসহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
   
আর/০৮:৪৪/২২ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে