Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-২১-২০১৬

ভেজাল ওষুধের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

ভেজাল ওষুধের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

ঢাকা, ২১ এপ্রিল- বাজারে এখনো উৎপাদন হচ্ছে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরও কোনো কাজে আসেনি ভেজাল ওষুধ উৎপাদন বন্ধকরণ প্রক্রিয়া। বাজারে ভেজাল ওষুধে সয়লাব। এসব ভেজাল ওষুধের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে সংসদীয় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক সদস্য।
 
ভেজাল ওষুধ উৎপাদনে দেশের অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানও জড়িত রয়েছে। মরণব্যাধী ক্যান্সারসহ নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন করছে এসব প্রতিষ্ঠান। বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ রেখে কারখানার ভেতরে ভেজাল ওষুধ উৎপাদন করছে বলে কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।  

কমিটি নকল ওষুধ উৎপাদনকারী, অনুমোদনকারী এবং যেসব দোকান বা যাদের কাছে এসব ওষুধ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি এখন থেকে ওষুধ উৎপাদনে ‘ট্রাক অ্যান্ড ট্রেস সিস্টেম’ চালু এবং ওষুধ শিল্প সমিতির সদস্য ছাড়া কিংবা সমিতির অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স না দেওয়ার বা লাইসেন্স নবায়ণ না করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
 
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর আ.ব.ম ফারুক বিভিন্ন ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করে ওষুধ শিল্প উন্নয়ন ও নকল ওষুধ প্রতিরোধে কি করণীয় তার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
 
বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির অন্যদের সদস্যরা হলেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাবুদ্দিন কবীর চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনুয়ারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।

কমিটিতে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে ৮৪টি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। তদন্ত দলটি ২০টি কোম্পানির ওষুধ উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিল, ১৪টি কোম্পানির সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) উৎপাদনের অনুমতি বাতিল, ২২টি কোম্পানির পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়েটিক উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করার সুপারিশ করেছে।

এছাড়া দু’টি কোম্পানির মানবদেহে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার্য ওষুধ, একটি প্রাণিসম্পদে ব্যবহার্য, অপরটিকে সেফালোস্পোরিন ছাড়া অন্যান্য গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
 
সংসদীয় কমিটি সে সময় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো এর মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালু রাখে। বাকিগুলো নানা কৌশলে অব্যাহত রেখেছে তাদের উৎপাদন ও বিপণন। এ অবস্থায় সংসদীয় কমিটির উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ দল ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করতে দ্বিতীয় দফা উদ্যোগ নেয়। তারা নতুন-পুরনো মিলিয়ে ৮৪টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
 
প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ক্যান্সারের মতো মরণঘাতী রোগের ওষুধেও ভেজাল পাওয়া গেছে। টেকনো ড্রাগসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে ক্যান্সারের এ ভেজাল ওষুধ। এছাড়াও ভেজাল এবং নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদন করছে নামিদামি অনেক প্রতিষ্ঠানই।
 
প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়ায় যে ২০টি কোম্পানির উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো- এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফিনা ফার্মাসিউটিক্যাল, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল, রিমো কেমিক্যাল, রিদ ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যাল, টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।

নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলে সুপারিশ করা ১৪টি কোম্পানি হচ্ছে আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল প্রাগস, ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রাইস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএসটি ফার্মা, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, পনিক্স কেমিক্যাল, রাসা ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সেভ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।

এছাড়া পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা ২২টি কোম্পানি হচ্ছে- আমিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, অ্যাজটেক ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল টেকনো ফার্মা, বেনহাম ফার্মাসিউটিক্যাল, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ডিসেন্ট ফার্মা, ড. টিআইএম’স ল্যাবরেটরিজ, গ্লোবেক্স ফার্মাসিউটিক্যাল, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল, ইনোভা ফার্মাসিউটিক্যাল, মাকস ড্রাগস, মেডিম্যাট ল্যাবরেটরিজ, মডার্ন ফার্মাসিউটিক্যাল, মাইস্টিক ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ, অর্গানিক হেলথ কেয়ার, ওয়েস্টার ফার্মা, প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, প্রাইম ফার্মাসিউটিক্যাল, সীমা ফার্মাসিউটিক্যাল, ইউনাইটেড কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল এবং হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।
 
কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ.ফ.ম রুহুল হক, মো. ইউনুস আলী সরকার এবং সেলিনা বেগম অংশ নেন।

ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এফ/০৮:২৮/২১ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে