Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২০-২০১৬

কোহিনূরের ‘দাবি ছাড়েনি’ ভারত সরকার

কোহিনূরের ‘দাবি ছাড়েনি’ ভারত সরকার

নয়াদিল্লি, ২০ এপ্রিল- জগৎদ্বিখ্যাত হীরকখণ্ড কোহিনূর নিয়ে একদিনের মধ্যে ভারত সরকার অবস্থান পাল্টে ফেলেছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। ভারত সরকার এখন বলছে, ব্রিটেনের কাছ থেকে কোহিনূর ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের পদক্ষেপই নেওয়া হবে।

কোহিনূরের দাবি নিয়ে এক মামলার প্রেক্ষিতে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল রণজিৎ কুমার সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সরকারের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রণজিৎ কুমার সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, ‘চুরি বা জোর করে নেওয়া হয়নি’ বলে কোহিনূর হীরা ভারতের দাবি করা উচিত হবে না।

বিষয়টি সংবাদপত্রের শিরোনাম হওয়ার পর মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে নতুন একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। কোহিনূর বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এখনও আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি দাবি করে এতে বলা হয়, গণমাধ্যমে বিষয়টিকে ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে।

ব্রিটেনের রানীর মুকুটে বসানো বিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল এ হীরা ভারতে ফিরিয়ে নিতে অল ইন্ডিয়া মানবাধিকার কমিশন ও সোশ্যাল জাস্টিস ফ্রন্ট জনস্বার্থে  এই মামলা করেছে। এর শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল রণজিৎ সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, “শিখ যুদ্ধে সহযোগিতার প্রতিদান হিসেবে মহারাজা রণজিৎ সিংয়ের উত্তরসূরিরা ১৮৪৯ সালে কোহিনূর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ায় এটা জোর করে নেওয়া হয়েছিল বা চুরি হয়েছিল তা বলা যাবে না।”

মঙ্গলবারের বিবৃতিতে বলা হয়, সলিসিটর জেনারেলের ওই বক্তব্য কোহিনূর হাতছাড়া হওয়ার মৌখিক ইতিহাস; ভারত সরকারের অবস্থান নয়। “সলিসিটর জেনারেলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান কী। সে অবস্থান এখনো জানানো হয়নি। তিনি কেবল প্রাপ্ত তথ্যর ভিত্তিতে এর ইতিহাস সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হয়ে মৌখিকভাবে আদালতকে জানিয়েছেন।”

কোহিনূর এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্রাট শাহজাহানের ময়ুর সিংহাসনের এই হীরকখণ্ড ছিল ভারতবর্ষের গৌরব।  মুঘলদের হাতছাড়া হওয়ার পর নানা হাত ঘুরে ওই হীরা ব্রিটিশদের হাতে যায়।

১৯৩৭ সালে ব্রিটেনের রাজা ষষ্ঠ জর্জের অভিষেকের দিনে রানি এলিজাবেথের মাথায় যে মুকুট ছিল তাতে খচিত ছিল কোহিনূর। ১৯৫৩ সালে ওই মুকুট মাথায় নিয়েই রানির সিংহাসনে বসেন তার মেয়ে দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

বলা হয়, কয়েকশ বছর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের কল্লুর খনি থেকে পাওয়া ওই হীরাটি ছিল ৭৯৩ ক্যারেটের। ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে কয়েক দফা কাটা ও পালিশ করার পর এটি এখন ১০৫ ক্যারেট হয়েছে। বর্তমান বাজার দরে কোহিনূরের দাম ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড।

ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উনিশ শতকের শুরুতে এক আফগান রাজার কাছ থেকে কোহিনূর বা ‘আলোর পর্বত’ নামে এই হীরাটি হস্তগত করেন পাঞ্জাবের মহারাজ রণজিত সিং। তিনি ওড়িশার এক মন্দিরের নামে এটা উইল করে যান। পরে তার উত্তরসূরি দীলিপ সিং হীরাটি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দিয়ে দেন।

তবে পাঞ্জাবের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল মার্কুইস অব ডালহৌসি ঘটনাচক্রে সেখানকার মহারাজা দীলিপ সিং’কে কোহিনূর ‘উপহার’ হিসাবে দিতে বাধ্য করেছিলেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

ভারত সরকার বিবৃতিতে বলেছে, ‘শান্তিপূর্ণ’ উপায়ে হীরাটি ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। ভারতের বিভিন্ন মহল দীর্ঘ দিন ধরেই কোহিনূর ফেরত দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। হীরাটি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আগেও একাধিক মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ ভারতীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বলিউড তারকারা কোহিনূর ফেরত পেতে লন্ডন হাই কোর্টে মামলার উদ্যোগ নেন। মামলা হয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও। ব্রিটিশ সরকার ২০১৩ সালে জানিয়েছিল, কোহিনূর তারা ফেরত দেবে না।

এফ/১৬:০৮/২০ এপ্রিল

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে