Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৯-২০১৬

জটিলতায় মুজিবনগর রেলপথ,ঘুরপাক খাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

জটিলতায় মুজিবনগর রেলপথ,ঘুরপাক খাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুর। আর এ জেলার মুজিবনগর একটি ঐতিহাসিক স্থান। যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। দেশের এ অঞ্চলে জনগণের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো সড়কপথ। মুজিবনগর ও মেহেরপুরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এখানে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টি নন্দন স্মৃতিস্তম্ভ-মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স।

সেখানে যাওয়ার জন্য দর্শনার্থী ও পর্যটকদের শুধু সড়কপথই ব্যবহার করতে হয়। ১৭ এপ্রিলসহ জাতীয় বিশেষ দিনগুলোতে যানবাহনে প্রচণ্ড ভিড় হয়। এতে নানা ধরনের সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটে। পর্যটকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য দর্শনা মুজিবনগর-মেহেরপুর মুজিবনগর পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। বার বার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলোর মুখ দেখেনি রেলপথটি। ছয়টি বছর ধরে প্রকল্পটি রেল মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১২ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দর্শনা-মুজিবনগর রুটে রেলপথ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রকল্প। তিন বছর আগে প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও হয়। তা আজও একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়নি। আবারও নানা অজুহাত দেখিয়ে পিইসি সভার আহ্বান করা হচ্ছে। সেখানে প্রকল্পটি আলোরমুখ দেখবে কিনা সে সংশয় রয়েই গেছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তিন বছর আগে প্রকল্পটি নিয়ে পিইসি সভা হয়। তবে এখন একনেকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়নি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণে অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রকল্পের আওতায়  বৈদেশিক অনুসন্ধানের অজুহাতে প্রকল্পটি পিইসি অনুমোদন দেয়নি। পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য (সচিব) আরাম্ভ খান আবারও প্রকল্পের ওপর পিইসি সভা করতে বলেন।

প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে বার বার ঘুরপাক খাওয়া প্রসঙ্গে আরাম্ভ খান বলেন, একটা রেলপথ নির্মাণ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। প্রকল্পটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের আর্থিক সামর্থ্য আগে দেখতে হবে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা লাগবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে। আমরা মনে করি, সরকারি অর্থায়নে এতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে, তাই প্রকল্প সাহায্য দরকার।’

প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ছিল তারপরও কেন মন্ত্রণালয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অচিরেই তা দৃশ্যমান হবে।

জটিলতা প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিকভাবে ৬৯৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল। সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল মার্চ ২০১৩ থেকে জুন ২০১৬ সাল নাগাদ। গত ২৪ অক্টোবর ২০১৩ সালে পিইসি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্রকল্পের ব্যয় প্রস্তাব করা হয় ৬৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং সময় নির্ধারণ করা হয় মে ২০১৫ থেকে এপ্রিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত। আবারও নতুনভাবে প্রকল্পের সিদ্ধান্তের রদবদল হয়।

প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ও পিইসি সভায় সুপারিশকৃত বিধায় সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য ২০১৫ সালে রেল মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ফের সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতির জন্য ডিসি অফিসের ব্যয় প্রাক্ক‍ালন ডিপিপিতে সংযোজন করে রেল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৪ কোটি ৩১ লাখ ‍টাকা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন বলেন, মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত একটি স্থান। অথচ ঐতিহ‍াসিক স্থানটির সঙ্গে কোনো রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। আমরা চাই প্রকল্পটি যেন একনেক সভায় অনুমোদন পায়। আমরা আমাদের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে ‍অনেক আগেই। তারপরও কেন প্রকল্পটি একনেকে পাস হচ্ছে, এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম: ৫২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ, ৫৩৯ একর ভূমি অধিগ্রহণ, নতুন রেল সংগ্রহ ও প্লাটফরমসহ সাতটি নতুন স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ, ৮৯ হাজার টি ব্রডগেজ স্লিপার, ১ লাখ ৮০ হাজার ঘনমিটার স্টোন ব্যালাস্টিক সংগ্রহসহ ৩০টি লেভেল ক্রসিং,১৪টি ব্রিজ, ৩০টি কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে