Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৯-২০১৬

পাক-প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের বাড়ি বিক্রি!

হৃদয় আজিজ


পাক-প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের বাড়ি বিক্রি!

বগুড়া, ১৯ এপ্রিল- উত্তর বঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বলে খ্যাত বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন স্থাপনা নওয়াব প্যালেস। যার সাথে মিশে আছে প্রায় দেড়শ’ বছরের ইতিহাস। এক সংস্কৃতি কর্মী ও সুধীজনের আন্দোলন, জেলা প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে প্রাচীন এই প্যালেসটি বিক্রি করলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে সৈয়দ হাম্মাদ আলী ও সৈয়দ হামদে আলী।

অপর এক ভাই মাহমুদ আলী এবং এক বোন মাহমুদা আলীকে না জানিয়েই তারা শহরের সূত্রাপুর মৌজায় এক দশমিক ৫৫ একর জায়গাসহ প্যালেসটি বগুড়ার তিন শীর্ষ ব্যবসায়ীর নামে দলিল করে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ তথ্যবাতায়ন থেকে জানাযায়, বগুড়া শহরের সূত্রাপুর মৌজার ১৭০৮ নং দাগে অবস্থিত নবাবাড়ীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ তিন একর ৭৫ শতক বা প্রায় ১০ বিঘা। এর বেশির ভাগ সম্পত্তি অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এই সম্পত্তির ওপর ক্রেতারা গড়ে তুলেছেন আল আমিন কমপ্লেক্স, টিএমএসএস মহিলা মার্কেট, শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট ও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন রানার প্লাজা।

সর্বশেষ এক একর ৫৮ শতক জমির ওপর ছিল মরহুম মোহাম্মাদ আলী ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের কবরসহ নবাবাড়ী। ১৮৮৪ সালে এই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

এটা কিনেছেন যৌথভাবে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, ব্যবসায়ী শফিকুল হাসান জুয়েল ও আব্দুল গফুর। বগুড়া রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নিয়োগ করা কমিশন গত শুক্রবার ঢাকায় গিয়ে দলিলে দুই ভাইয়ের স্বাক্ষর নেয়।

বগুড়া সদর রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার এসএম সোহেল রানা জানান, ছুটির দিনে দলিল স্বাক্ষরিত হলেও তাঅফিসিয়ালি রেজিস্ট্রি হয়েছে ১৭ এপ্রিল রোববার। দলিলে নওয়াব প্যালেসসহ এক দশমিক ৫৫ একর জায়গার ক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২৭ কোটি ৪৫ লাখ সাত হাজার টাকা।

ক্রেতাদের একজন হাসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল হাসান জুয়েল বলেন, 'গত ১৫ এপ্রিল কমিশনের মাধ্যমে ঢাকায় দলিল সম্পাদন হয়েছে।' প্যালেসটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি এবং সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণার দাবিতে সংস্কৃতি কর্মী, সুধীজনের আন্দোলন সত্ত্বেও সেটি কিনে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যারা মালিক তারা তো বিক্রি করেছেন। তাছাড়া প্যালেসটি বিক্রির ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধাও ছিল না।'

গতকাল রোববার দুপুর প্যালেসে গিয়ে দেখা গেছে, সবকিছু আগের মতোই। প্যালেসের অ্যামিউজমেন্ট পার্কে দর্শনার্থীদের যাতায়াত ছিল স্বাভাবিক। প্যালেসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম খান লজে জানান, এটি বিক্রি হয়ে যাওয়ার খবরটি তিনিও শুনেছেন। তবে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্যালেসটি বিক্রির ক্ষেত্রে এতটাই গোপনীয়তার আশ্রয় নেওয়া হয় যে, রেজিস্ট্রি অফিসের বাইরে সরকারি অন্য কোনো দপ্তর এমনকি খোদ বগুড়া জেলা প্রশাসনও বিষয়টি জানে না। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন বলেন, 'আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম।'

তবে নওয়াব প্যালেসের বিক্রির খবরটি জানাজানি হলে সংস্কৃতি কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা প্যালেসটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণার দাবিতে ফের আন্দোলন গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন।

বগুড়া সরকারী আযিযুল হক কলেজের অর্থণীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘জোড় যার মুলুক তার। আজ তাদের টাকা ও প্রশাসনিক জোড় আছে তাই এই প্রাচীন স্থাপনা কিনে নিলো।’

একই কলেজের বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী নাছিমা আক্তার জানান, বগুড়া শহরে ভিতরে এই একটি মাত্র প্রচীন স্থাপনা এবং ইতিহাসের স্বাক্ষী শেষ পর্যন্ত নোংড়া মানসিকতার কারণে সেটিও হারিয়ে যাবার পথে? ভাবতেই অবাক লাগছে।

এর আগে সংস্কৃতি কর্মীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে কানাডা থেকে ছুটে আসেন মোহাম্মদ আলীর ছোট ছেলে মাহমুদ আলী চৌধুরী। গত ১৪ জানুয়ারি বগুড়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঐতিহ্যবাহী নওয়াব প্যালেস ও মিউজিয়াম রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

বগুড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, সংস্কৃতি কর্মীদের দাবির পরিপ্র্রেক্ষিতে তারা প্রাচীন নওয়াব প্যালেসটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণার একটি প্রস্তাবনাও অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন বলেন, 'সরকারি নির্দেশ পাওয়া গেলে বিক্রি হলেও এটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।'

এর ফলে বগুড়ার বহু বছরের ঐতিহ্য বিলীন হয়ে গেল। প্রথমে কারুপল্লী ধ্বংস করে সেখানে বহুতল ভন নির্মাণের পর এবার নবাব প্যালেস পুরোটাই চলে গেল ব্যবসায়ীদের দখলে।

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে