Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.6/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৮-২০১৬

অনলাইনে জয়-ইমরান বাকযুদ্ধ

অনলাইনে জয়-ইমরান বাকযুদ্ধ

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল- শফিক রেহমানকে নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ইমরান এইচ সরকারের মধ্যে কথার তীর ছোড়াছুড়ি চলছেই। সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথার পরিপ্রেক্ষিতে এবার ফেসবুকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ইমরান এইচ সরকার। সোমবার নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত আমার নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতাই আজ হুমকির মুখে। কি ভয়াবহ ব্যাপার! আমি আমার স্ট্যাটাসে পরিষ্কার লিখেছি, আমি শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে একমত নই। এমনকি আমি স্ট্যাটাসের কোথাও তার মুক্তির কথাও বলিনি। তাতেই যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে, খুব সহজেই অনুমান করা যায় ভিন্নমতের প্রতি সমাজে কতোটুকু শ্রদ্ধা বিদ্যমান।

এসময় তিনি দেশের কয়েকটি আলোচিত খুনের কথা টেনে লিখেন, এদেশে খুব গৎবাঁধা কিছু কথা বলা হয়। একটা খুনের বিচার চাইতে গেলেই কেউ কেউ বলে 'অমুক এটা করতো' আপনি খুনের বিচার চেয়ে তার সেই কাজকে সমর্থন করলেন! কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বললেও একই প্রশ্ন। কারো সাথে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেও যে তার অধিকারের জন্য লড়াই করা যায়, সরল এই বিষয়টি সমাজ থেকে একদম হারিয়ে যাচ্ছে। কোনো খুনের বিরুদ্ধে কিংবা কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে যে তার বক্তব্যের সাথে একমত হওয়া নয়, এই বোধটুকুও আমরা হারিয়ে ফেলছি। আমি আমার ওই স্ট্যাটাসে দেশে চলমান খুন-ধর্ষণের বিচার নিয়েও বলেছিলাম। এই বছরের প্রথম ৩ মাসেই দেশে প্রায় ১ হাজারের কাছাকাছি মানুষ খুন হয়েছে। কেউ কি বলতে পারবেন যে, এর একটি ঘটনার বিচার হয়েছে? কেনো, এদেশে প্রধানমন্ত্রীর সন্তান না হলে কি কেউ বিচার পাবে না? তনুর বাবা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বলে কি তার বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?’

এসব বিষয়ে দেশের মানুষের আরো বেশি সচেতন হওয়ার দরকার আছে বলেও মনে করেন গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র।

তিনি লিখেন, আমাদের, এদেশের সাধারণ নাগরিকদের সম্ভবত আরেকটু সজাগ হবার দরকার আছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, প্রতিপক্ষের প্রতি যেকোনো অবিচার হলে আমরা প্রত্যেকে হাততালি দেই। আর এটাই কিন্তু আমার, আপনার সবার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেখানো হচ্ছে দেখো, একে গ্রেফতার, হত্যা, গুম করলে কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে মুখ বন্ধ করিয়ে দিলে কতো মানুষ খুশি হয়, তাই আমরা যা করেছি ঠিক করেছি। একবার ভেবে দেখুন, আমার/আপনার হাততালি আমার/আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার হলো! আমাদের প্রত্যেকের সাথে ঘটা অন্যায়গুলো এভাবেই প্রতিপক্ষের হাততালির আড়ালে স্বীকৃত করে নেয়া হচ্ছে। ফলস্বরূপ আমরা সকলেই অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছি।

যখন দেখতে পাচ্ছি নানাভাবে একের পর এক মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং সেগুলো বিভিন্ন উপায়ে জাস্টিফাই করা হচ্ছে, তখন জেনে গেছি এই দানব আসলে আমার দিকেই আসছে; আমাদের সবার দিকেই আসছে! তাই আমরা যদি পক্ষ-বিপক্ষ ভুলে এই দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই, আমাদের বাকরুদ্ধ রেখে রিজার্ভ লুটের মতো সবকিছু লুট হতে থাকবে, আমাদের কিছুই করার থাকবে না।

ফেসবুককে নিজের মত প্রকাশের উন্মুক্ত মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে ইমরান এইচ সরকার আরো লিখেন, আর আমার ফেসবুক? এটা তো জনতার গণমাধ্যম! আমার ফেসবুক সমাজের নির্যাতিত, বঞ্চিত, অসহায় মানুষের পক্ষে কথা বলে। সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। ভলতেয়ারের আমার প্রিয় কয়েকটি লাইন দিয়ে শেষ করছি... ‘আপনার সঙ্গে আমি একমত হতে পারবো না কিন্তু আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার যে অধিকার আপনার আছে, সে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন হলে আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।’

এর আগের দিন সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতারের সমালোচনা করায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে ক্ষমা চাইতে বলেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র এবং তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। ইমরানকে বয়কটেরও আহ্বান জানান তিনি।

জয় তার ফেসবুক পেইজে লেখেন,‘ আমি আশাই করেছিলাম বিএনপি এটা নিয়ে মিথ্যা বলার চেষ্টা করবে। যদিও, আমি আশ্চর্য হয়েছি ইমরান সরকারের বিষয়ে। সম্ভবত শেষ পর্যন্ত তার আসল চেহারাটা উন্মোচিত হলো। এটা দেখে মনে হচ্ছে সে আমাদের বেশিরভাগ সুশীলের মতই, আরেকটা সুবিধাবাদী এবং মিথ্যাবাদী। হয়তো বিএনপি তাকে পয়সা দিয়েছে। কে জানে। যেভাবেই হোক, আমি তার প্রতি সব শ্রদ্ধা হারিয়েছি।’

‘তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আমাদের সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আমি আমার সকল বন্ধু এবং ভক্তদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যারা তাকে অনুসরণ করেন তারা তাকে ফেসবুক থেকে আনফলো/আনফ্রেন্ড করুন। সে একজন অপরাধীর হয়ে কথা বলছে যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো’।

প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে শুক্রবার দিবাগত রাতে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বাসা থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পর গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান তার ফেসবুক পেইজে লেখেন, ‘প্রবীণ (৮১ বছর বয়সী) সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে আমি একমত নই। ভিন্নমতের হলেই তাকে দমন করার যে নোংরা রাজনৈতিক অপকৌশল, এর একটা অবসান চাই।’

‘দেশে যখন একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে, লেখক-প্রকাশক-বিদেশী থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দিরে ঢুকে মুয়াজ্জিন-পুরোহিতকে হত্যা করা হচ্ছে তখন খুনীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে এমন একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার সত্যিই হতাশাজনক।আমি প্রত্যাশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং প্রতিপক্ষকে দমনের চেয়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হবে’।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে