Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English
» নাসিরপুরের আস্তানায় ৭-৮ জঙ্গির ছিন্নভিন্ন মরদেহ **** ইমার্জিং কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ       

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৭-২০১৬

হাজতে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এসআই জাহিদসহ অভিযুক্ত ৫

হাজতে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এসআই জাহিদসহ অভিযুক্ত ৫
প্রধান আসামি এসআই জাহিদুর রহমান

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল- তিন বছর আগে রাজধানীর পল্লবী থানায় এনে এক ঝুট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে তিন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের দুই সোর্সের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন হয়।

বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগ গঠন করে আগামী ১৬ মে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন ঠিক করেছেন বলে ঢাকার আদালতের অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আসামিরা হলেন- এসআই জাহিদুর রহমান খান, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, এএসআই রাশিদুল হক, তাদের সোর্স মো. সুমন ও মো. রাসেল।

এদের মধ্যে জাহিদুর আর সুমনকে কারাগার থেকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়। মিন্টু, রাশিদুল জামিনে রয়েছেন। রাসেল পালাতক।

অবাঙালি ঝুট ব্যবসায়ী ইশতিয়াক হোসেন জনিকে থানা হাজতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি ২০১৪ সালের অগাস্টে আদালতে মামলাটি করেন।

জনিকে থানায় ধরে নিয়ে পেটানো হয় ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে তখন মামলা হয়নি। হেফাজতে নিয়ে আরেক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে একটি মামলা হওয়ার পর রকিও মামলা করেন।

মামলায় পল্লবী থানার তৎকালীন ওসি জিয়াউর রহমান, এসআই আব্দুল বাতেন, রাশেদ, শোভন কুমার সাহা, কনস্টেবল নজরুলকেও আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু বিচার বিভাগীয় তদন্তে তারা অব্যাহতি পান।

এসআই জাহিদসহ পাঁচ আসামিও অব্যাহতির চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। কমপক্ষে ১০টি ধার্য তারিখে শুনানির পর সেই আবেদন নাকচের পর অভিযোগ গঠন হয় বলে অতিরিক্ত পিপি তাপস পাল জানান।

মামলার অভিযোগে  বলা হয়, ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ইরানি ক্যাম্পে বিল্লাল নামে এক ব্যক্তির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান ছিলেন জনি। পুলিশের সোর্স সুমন মাতাল অবস্থায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করলে জনি তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন।

তখন ঝগড়ার এক পর্যায়ে জনি চড় মারলে সুমন ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে মামলার বাদী রকি জানান, যিনি নিজেও ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন।

তার আধা ঘণ্টা পর এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ এসে ওই অনুষ্ঠান থেকে জনিকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার উপর নির্যাতন চলে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

“জনিকে পল্লবী থানার হাজতে নিয়ে এসআই জাহিদসহ অন্য আসামিরা হকিস্টিক, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে এবং জনির বুকের ওপর উঠে লাফায়। জনি পানি চাইলে জাহিদ তার মুখে থুথু ছিটিয়ে দেন।”

নির্যাতনে জনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দেখে বলেন, জনি মারা গেছেন।

মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়, নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিরা পল্লবীর ইরানি ক্যাম্প ও রহমত ক্যাম্পের মধ্যে মারামারির মিথ্যা কাহিনী তৈরি করেছিল।

ওই মারামারিতেই রকিসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত ও জনি নিহত হন উল্লেখ করে এসআই শোভন কুমার সাহা (আসামি) পল্লবী থানায় একটি মামলাও করেন।

ওসি জিয়াউর রহমান ওই মামলাটিকে এজাহার হিসাবে গ্রহণ করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিয়ে যান বলে বাদীর আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

নিহত জনির ভাই রকি আদালতে মামলা করলে জজ মো. জহুরুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই সোর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

আরেক ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনকে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে মিরপুর থানায় এনে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন এসআই জাহিদ।

এ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি  আবদুল্লাহ আবু জানান, সুজন হত্যা মামলায় এ আদালতেই সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে