Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৭-২০১৬

জমি মালিকের ক্ষতিপূরণের টাকা পিঁপড়া খেয়েছে : জেলা প্রশাসক

জমি মালিকের ক্ষতিপূরণের টাকা পিঁপড়া খেয়েছে : জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম, ১৭ এপ্রিল- চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেছেন, ‘জনগণের ক্ষতি করে কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া কাউকে তার জায়গা থেকে সরানো হবে না। কোনো প্রকার কারো ক্ষতি করে উন্নয়ন নয়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই উন্নয়ন হবে।’ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের সাথে ‘গণ্ডামারা  ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন’র নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটা খারাপ তা আমাদের জানা ছিল না। যা ঘটেছে তা আমাদের কাছে অনভিপ্রেত। ইউএনও-ওসি বিষয়টি নিজেদের ভেতর রাখতে চেয়েছিলেন। স্বজন হারানোর বেদনা আমরা বুঝি। আমাদেরও আত্মীয়-স্বজন মারা গেছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে আগেই মতবিনিময় করলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আধুনিক যুগ। বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগে চাহিদা কম থাকলেও এখন চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এজন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কথা দিয়েছেন। তাই কয়লা বিদ্যুতের কথা বলা হচ্ছে। কারণ এর আগের সবগুলোই ডিজেল চালিত, যার জন্য উচ্চমূল্য দিতে হয়।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আমরা আপনাদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। আপনাদের কাছে ভুল মেসেজ গিয়েছে। আপনাদের ক্ষতি করে কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া কাউকে তার জায়গা থেকে সরানো হবে না। পাওয়ার প্ল্যান্ট হলে আপনাদের পরিবারের সদস্যরাই চাকরি পাবে। এছাড়া যেসব পরিবার ওই দিনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি দেয়া হবে।’ এসময় জেলা প্রশাসক দাবি করেন গণ্ডামারায় নিহতদের সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা দেয়া হচ্ছে। এর আগে পেট্রলবোমায় নিহতদের ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি গণ্ডামারায় জমির মালিকরা প্রকৃত মূল্য পায়নি। মাঝে পিঁপড়া (মধ্যস্বত্বভোগী) খেয়েছে, তাই সমস্যা হয়েছে। তাই আপনাদের মনে ক্ষোভ জন্মেছে। এখন থেকে আমার দরজা আপনাদের জন্য খোলা। যে কোনো সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসবেন।’

বাঁশখালীর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পুলিশ আর কাউকে গ্রেপ্তার করবে না। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি। এছাড়া যারা গ্রেপ্তার আছে তাদের জামিন চাইলে জামিনের ব্যবস্থাও আমরা করে দেব। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।’

এসময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ভূগর্ভস্থ থেকে পানি তোলা যাবে না জানিয়ে তিনি কথা বলেন, ‘আমি গতকাল বাঁশখালী থেকে আসার সময় দেখলাম মহিলারা অনেক দুর থেকে পানি নিয়ে যাচ্ছে। যাতে বুঝেছি ওই এলাকায় মিঠা পানির সমস্যা আছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন্দ্রের জন্য কোন গভীর নলকূপ করতে পারবে না। প্রকল্পের জন্য সাগর থেকে পানি এনে পরিশোধন করে ব্যবহার করবে।’ খাস জমি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রয়োজনের বেশি খাস জমি প্রকল্পের জন্য নেওয়া হবে না। বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করবো। এছাড়া যাদের থেকে নেওয়া হবে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

গণ্ডামারা  ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে এটি প্রাইভেট হলেও সরকারের। তাহলে জনগনকে কেনো বোঝানো হলোনা। হাজার মানুষের জীবন জীবিকা ওই এলাকার উপর নির্ভর করে। কোন যুক্তিতে ওই ১ হাজার ৫০ একর জমি লিজ দেওয়ার প্রস্তাব করা হলো। এমন প্রস্তাব কিসের ভিত্তিতে? কারা পাঠালো? কারা ওই দিনের পরিস্থিতি তৈরি করলো?’

তিনি আরো বলেন, ‘একদিকে গুলি করে, অন্যদিকে ১৪৪ ধারা জারি করবে তা হয়না। যারা আইনের ইমপ্লিমেন্ট করবে তাদের মধ্যে কমিউনিকেশন গ্যাপ ছিলো। সমাবেশ হতেই পারে, তাঁরা কি ডাকাত ? ওই স্থরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আমার মন্তব্য করা মানায় না। জেলা প্রশাসক মহোদয় আছেন তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’

এসময় তিনি গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দেয়াসহ গণ্ডামারা  ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন’র ৯ দফা মেনে নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিন ধরনের ছাড়পত্র দেখানো ও জনগনের সকল অভাব অভিযোগ পুরনের আগে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেয়া হবেনা।’

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন গণ্ডামারা  ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি নিহত মর্তুজা ও আনোয়ারের ভাই বদি আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সরল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ চৌধুরী, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্ডামারা  ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি শওকত চাঁটগামী, দক্ষিন গণ্ডামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এনামুল হক মানিক, স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মাষ্টার মফজল আহমদ এবং বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)আব্দুল জলিল।

এফ/০৯:৪৫/১৭ এপ্রিল

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে