Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-১৬-২০১৬

ভবন হেলে পড়াকে আমলে নিচ্ছেন না বাসিন্দারা

ভবন হেলে পড়াকে আমলে নিচ্ছেন না বাসিন্দারা

চট্টগ্রাম, ১৬ এপ্রিল- ভূমিকম্পে হেলে পড়া চট্টগ্রাম নগরের নয়টি ভবনের মধ্যে আটটি ভবনের বাসিন্দারাই বিষয়টিকে আমলে নিতে চাইছেন না। কেবল একটি আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দারা সরে যেতে শুরু করেছেন। অন্য ভবনগুলোর বাসিন্দাদের দাবি, ভূমিকম্পে তাঁদের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাসিন্দারা বলছেন, তাঁদের সরে যেতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কিছু বলেনি।

হেলে পড়া নয়টি ভবনের মধ্যে আবাসিক তিনটি, বাণিজ্যিক পাঁচটি ও একটি ভবনে কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।

এসব ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ভূকম্পনে নগরের আরও অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পে হেলে পড়া নয়টি ভবন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিডিএ। এ জন্য চুয়েট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে সিডিএ।

সিডিএর অথরাইজড কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, কোনো ভবন ছয় ইঞ্চি, কোনোটি দেড় ফুট পর্যন্ত হেলে পড়েছে। চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল রোববার থেকে এসব ভবনের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ শুরু করবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ৮ নম্বর সড়কে গিয়ে দেখা যায়, শিরিন নিকেতন নামের ছয়তলা ভবন পাশের ভবনের দিকে হেলে পড়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক নুর আহমদ বলেন, আগে থেকেই ভবনটি একটু হেলে ছিল। 

ভূমিকম্পের পর তা আরও বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, ১১টি ফ্ল্যাটের মধ্যে আটটিতে ভাড়াটে থাকত। সাতটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটে চলে গেছে।

শিরিন নিকেতনের পাশের ভবন সুরাইয়া ভিলার মালিক আতাউর রহমান বলেন, ‘ভবন হেলে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।’
চান্দগাঁও থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ঝাউতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা ও পাঁচতলাবিশিষ্ট দুটি ভবন লেগে গেছে। তবে ভূমিকম্পে পাঁচতলা ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেন মালিক নুরুল আলম। একই কথা বলেন ছয়তলা ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ইউনুস।

নিউমার্কেট এলাকার সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্সের সাততলা ভবনের ছাদ পাশের বি এম সুপার মার্কেট ভবনের সঙ্গে লেগে গেছে। বি এম মার্কেটের তত্ত্বাবধায়ক বেদার হোসেন ভূমিকম্পে দুটি ভবনের একটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি করেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্স পাশের ভবনে হেলে পড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভবনমালিক ও তত্ত্বাবধায়কেরা এখন অনেক কথা বলবেন।

ওয়াসা মোড়ের আল-আমিন টাওয়ার, মীম হাসনাত টাওয়ার ও মুন প্লাজা নামের তিনটি ভবন একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে আছে। আল-আমিন টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী শফিউল আযম বলেন, ‘আমার ভবন শতভাগ ঠিক আছে। মীম হাসনাত টাওয়ারটি আমার ভবনের দিকে পাঁচ-ছয় ইঞ্চি হেলে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ মুন প্লাজার মালিকদের একজন ইলিয়াছ রাজু বলেন, মীম হাসনাত টাওয়ারের দিকে হেলে পড়েছে আল-আমিন টাওয়ার।

হালিশহরের দুটি ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণের নির্দেশ দিলেও গতকাল পর্যন্ত মালিকপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানান থানার ওসি প্রণব কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, সিডিএ ও ফায়ার সার্ভিসও সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। এখন যদি দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়দায়িত্ব কে নেবে?

এস/১৮:২৫/১৬ এপ্রিল

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে