Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৬-২০১৬

তীব্র বিষও হজম হয় যাদের

তীব্র বিষও হজম হয় যাদের

মেক্সিকো, ১৬ এপ্রিল- মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম তাপিজুলাপার উত্তরের গুহা তাবাসকোয় বসবাস মলি মাছের। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এই মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু মেক্সিকোর এই অঞ্চলে এই মাছ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বছরে একবার এই গুহায় হাইড্রোজেন সালফাইড দ্বারা বিষক্রিয়া ঘটে। আর সেই বিষক্রিয়ায় মাছেদের বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিনের এই চর্চার ফলে গুহার মাছেরাও নিজেদের বিবর্তিত করে নিয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। বিষের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থাও এই মলি মাছেরা তৈরি করে নিয়েছেন নিজেদের শরীরের মধ্যে।

স্থানীয়রা এই গুহাটিকে কেভ দেল জুফরে নামে ডাকে। যার অর্থ করলে দাড়ায় ‘সালফারের গুহা’। আবার কেউ কেউ এই গুহাকে কেভ ডি ভিলা লুজ(আলোকিত গৃহের গুহার) নামেও ডাকেন। মাছ শিকারীদের কাছে এটা সারডিন মাছের গুহা নামেও পরিচিত। গুহাটির ভেতরে রয়েছে বেশ কয়েকটি ঝর্ণা, আর এই ঝর্ণার পানিতে পূর্ণ পানির আধারেই বাস করে মলি(সারডিন) মাছ। গুহায় থাকায় পানির আধারগুলোর প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে হাজার হাজার মলি মাছের বসবাস।

রিও জোলোতান নামের ঝর্ণা থেকে যে পানির আধারটির সৃষ্টি তার আয়তন প্রায় দেড় কিলোমিটার। এই দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অন্যান্য মাছ দেখতে পাওয়া যাবে না একমাত্র মলি মাছ ছাড়া। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক তেলের উপস্থিতি রয়েছে এবং আগ্নেয়গিরিও রয়েছে। আর যেখানে আগ্নেয়গিরি থাকে সেখানে স্বাভাবিক নিয়মেই পর্যাপ্ত হাইড্রোজেন সালফাইড থাকে। বিভিন্ন সময় এই বিষাক্ত গ্যাস পুরো গুহায় ছড়িয়ে যায়। এতটাই বিষাক্ত হয়ে যায় যে, গবেষকদের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রবেশ করতে হয় গুহায়।

গুহায় প্রবেশ করে কেউ যদি ভুলেও একবার তার মুখের মুখোশ খুলে ফেলে, সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ পুড়ে যেতে পারে এবং কণ্ঠনালীতে প্রদাহ শুরু হয়ে যাবে। আর দুই মিনিটের মাথায় মানুষ হারায় তার ঘ্রান নেবার ক্ষমতা। কিছুক্ষন যাবার পরেও তাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবার পাশাপাশি শরীরে তন্দ্রাচ্ছন্ন অনুভূতি চলে আসে। এভাবে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ওই মানুষটির মৃত্যুও হতে পারে। শুধু যে গুহার বাতাস বিষাক্ত এই কারণেই এমনটা হয় তা নয়। গুহার পানির আধারগুলোও বাতাসের বিষক্রিয়তার তুলনায় ৫০গুন বেশি বিষাক্ত হয়ে যায়। পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কমে যায় যে, ওই পানিতে কোনো প্রাণ থাকার সম্ভাবনাই থাকে না।

এরকম পানিতে কোনো প্রাণীই যেখানে কয়েক মিনিটের বেশি থাকতে পারবে না, সেখানে এমন বিষাক্ত পানির মধ্যেই মলি মাছ দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু কিভাবে তারা বেঁচে থাকে? মলি মাছের শারিরীক গঠনে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যে কারণে এমন বিরুপ পরিবেশেও সে টিকে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা অন্যান্য অঞ্চলের মলি মাছেদের এই গুহার পানিতে ছেড়ে দেখেছেন। দেখা গেছে ওই মাছেরা কয়েক মিনিটের বেশি বেঁচে থাকতে পারে না।

কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মিচি তবলার কয়েক দশক ধরে এই মাছেদের উপর গবেষণা করছেন। তবলারের বিশ্বাস মতে, বেঁচে থাকার জন্য এই গুহার মলি মাছেরা তাদের জিনে পরিবর্তন এনেছে। পানির উপরিদেশ থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহন করে, হাইড্রোজেন সালফাইডকে প্রতিহত করে মাছেরা। শরীরে যাতে বিষাক্ত গ্যাস প্রবেশ না করতে পারে তাই তারা পানির অভ্যন্তর থেকে অক্সিজেন গ্রহন করে না। গুহার মলি মাছেদের যদি উপরিতল থেকে অক্সিজেন গ্রহন করা বন্ধ করা যায়, তখনই তাদের মৃত্যু ঘটে।

তবলার ও তার গবেষক দল গুহার মলি মাছেদের জিন নিয়ে গবেষণা করে দেখতে পান, নিজেদের বিবর্তিত করার ফলে তাদের জিনের মধ্যে একধরনের প্রোটিনের জন্ম হয়েছে, যে প্রোটিন হাইড্রোজেন সালফাইডকে ভেঙে ফেলে বিষক্রিয়া মুক্ত করে। অর্থাৎ, গুহার বিষক্রিয়া ঠিক থাকলেও মাছেরা তাদের শরীরে পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই বিষক্রিয়ার মাছে টিকে থাকতে শিখে গেছে। তবে এক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মলি মাছেদের শরীরে যে রং থাকে, তা হারিয়েছে এই গুহার মাছেরা।

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে