Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-১৬-২০১৬

আ’লীগের জাতীয় সম্মেলন: কেউ আশায় কেউ আশঙ্কায়

আ’লীগের জাতীয় সম্মেলন: কেউ আশায় কেউ আশঙ্কায়

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের নেতারা আশা আর আশঙ্কার দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছেন। সম্মেলনে দলের উদীয়মান তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবেন বলে আশার সঞ্চার হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা আছেন তাদের কেউ কেউ ভালো পদ পাওয়ার আশা করছেন।

অন্যদিকে কিছু নেতার মাঝে আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আগামী সম্মেলনে তারা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে দলের কার্যনির্বাহী সংসদে (কেন্দ্রীয় কমিটি)। এই পরিবর্তনে ৭৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী সংসদে বর্তমানে যারা আছেন তাদের অনেকেই বাদ পড়তে পারেন বা পদ হারাতে পারেন। আবার নতুন অনেকেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন।
 
আগামী ১০ ও ১১ জুন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের প্রস্তুতির কাজ এখনও শুরু হয়নি। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ও ১১টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে কমিটিগুলোর নাম ঘোষণা করেন।

তবে প্রস্তুতি শুরু না হলেও ইতোমধ্যেই সম্মেলনে দলের কার্যনির্বাহী সংসদে ব্যাপক হারে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তনের হাওয়ায় অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদ হারানো এবং কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ার আতঙ্কে রয়েছেন। সেই সঙ্গে আশায়ও রয়েছেন এক ঝাঁক তরুণ নেতা যাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে পারেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও তরুণদের কাজে লাগাতে আগামী সম্মেলনে বেশ কিছু নতুন মুখ কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বিগত দিনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন থেকে যেসব নেতা সাংগঠনিক কাজে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে টানা হবে। বিগত কয়েক বছরে অনেক তরুণ নেতৃত্ব বেরিয়ে এসেছে যারা তাদের স্ব স্ব সংগঠনে নেতৃত্বে দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছেন।

বিশেষত ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন যাদের মধ্য থেকে ভালো নেতৃত্ব বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো কাজের দায়িত্ব না থাকায় তারা দলে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলে দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। আর ওই সব তরুণ নেতাদের মধ্যেও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আশার সঞ্চার হয়েছে। আবার বর্তমানে যারা বিভিন্ন পদে রয়েছেন তাদের মধ্য থেকে কারো কারো পদোন্নতিও হতে পারে। এরকম আশায়ও আছেন কেউ কেউ।

সূত্র আরও জানায়, আগামী জাতীয় সম্মেলনে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বেশ কিছু পদে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তনের ধাক্কা লাগতে পারে সভাপতিমণ্ডলী থেকে শুরু করে সম্পাদকমণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে। এসব পদে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে বেশিরভাগ বাদ পড়া বা পরিবর্তন আসতে পারে সম্পাদকীয় পদগুলোতে। যারা বাদ পড়তে পারেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিগত সময় মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

এই বাদ পড়ার তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে থাকা নেতারাও রয়েছেন।

এদিকে বিগত ওই মন্তিসভায় যারা ছিলেন তারা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক কর্নেল (অব.) ফারুক খান, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ক্যাপটেন (অব.) তাজুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মন্নুজান সুফিয়ান।

আবার দলের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের কারো কারো অবস্থা দলের মধ্যে দ‍ুর্বল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন দায়িত্বে থেকেও কেউ কেউ যথাযথভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ও বিতর্কিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সব অভিযোগের দায়ে তাদের কাউকে কাউকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে।  

সাত বিভাগে যারা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তারা হলেন, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মেজবাহউদ্দিন সিরাজ, বীর বাহাদুর, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

আওয়ামী লীগৈর গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী গত ডিসেম্বরে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়াদ শেষ হয়। তবে গত ডিসেম্বরেই যথা সময়ে আওয়ামী লীগ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সম্মেলন পিছিয়ে প্রথমে মার্চে পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে পিছিয়ে জুনে দেওয়া হয়েছে।

এফ/০৮:৪৩/১৬ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে