Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৫-২০১৬

৭০ বছরের চাকরি ছাড়বেন না ৯০ বছরের বৃদ্ধা

৭০ বছরের চাকরি ছাড়বেন না ৯০ বছরের বৃদ্ধা

স্ক্যারামেন্ট, ১৫ এপ্রিল- জগতে সবাই কাজ করে। কম আর বেশি। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কাজ কয়জন করে? বেশিরভাগ মানুষই কাজে ফাঁকি দেয়। মানুষ বাঁচার জন্য কাজ করে, কিন্তু কাজের জন্য বাঁচে কয়জন? কেউ কেউ করে।  

৯০ বছর বয়স্ক এমন এক বৃদ্ধের সন্ধান পাওয়া গেছে যিনি কাজের জন্য বেঁচে ছিলেন, বেঁচে আছেন এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবেন। এলেনা গ্রিফিং নামের এই বৃদ্ধা সবে মাত্র তার ৭০ বছরের কর্মজীবন পূর্তি উদযাপন করেছেন। তিনি সানফ্রানসিস্কোর সাগর তীরবর্তী এলাকার একটি হাসপাতালে কাজ করছেন ৭০ বছর ধরে। তার চেয়েও বড় ব্যাপার হচ্ছে, তিনি এখনো কাজ চালিয়ে যেতে চান।

সানফ্রানসিসকোর আলটা বেটস সামিট মেডিক্যাল সেন্টার গ্রিফিংয়ের ৭০ বছরের কর্মজীবন উদযাপন করেছে তার ৯০ বছর পূর্তির জন্মদিনে। যদিও গ্রিফিংয়ের জন্য এই হাসপাতালের প্রত্যেক কর্মদিবসই ছিল উদযাপন করার মত। যুগের যুগের পর একই জায়গায় তার অবস্থানও বদলেছে অনেকবার।


তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কাজে যাওয়ার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে থাকি। এটা আমার হাসপাতাল। সেখান যে কোনো কাজ করে সাহায্য করতে আমার ভালো লাগে। আমি মনে করে একটি হাসপাতালে রোগীরাই আসল কথা। যদি আমার সাহায্যে কারো উপকার হয়, আমি তা করবোই।’ 

এই বৃদ্ধা যে কাজের প্রতি কি পরিমাণ নিবেদিত সেটা বোঝা যায় যখন জানা যায়, তিনি তার ৭০ বছরের কর্মজীবনে মাত্র ৪ দিন অসুস্থতার জন্য ছুটি কাটিয়েছেন। প্রায় ১৫ বছর আগের এক রবিবার তার এপেনডিক্স অপারেশন হয়েছিল। তার পরের দিনই তিনি গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে ফিরে গিয়েছিলেন কর্মস্থলে।

তিনি বলেন, ‘ওটা এমন কোন ব্যাপার ছিল না। অপারেশন হয়েছিল আমার পেটে, কিন্তু আমার হাত তো সুস্থ ছিল। হাত দিয়ে আমি একটা কিছু করে কারো সাহায্য করতে পারতাম ঠিকই।’ তবে ডাক্তাররা অবশ্য তার এই কাণ্ড দেখে রেগে গিয়ে তাকে বাড়িতে ফেরত পাঠান।

গ্রিফিং তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ১৯৪৬ সালের ১০ এপ্রিল। তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। তখন এই হাসপাতালের নাম ছিল আলটা বেটস কমিউনিটি হাসপাতাল। তিনি সেখানে কাজ শুরু করেন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা এবং নার্স আলটা এলিস মাইনার বেটসের সাথে।

গ্রিফিং তখন তরুণী। ৩ ইঞ্চি হিল পায়ে দিতেন। আলটা এলিস নাকি তাকে দেখলেই বলতেন হিল পরা ছেড়ে দিতে। কারণ তার ভয় ছিল গ্রিফিং হয়তো হিল পরে হাঁটতে গিয়ে পা মচকাবেন।  গ্রিফিং বলেন, ‘আমার এখনো সেই কথা মনে আছে। আমি যখনই তাকে দেখতাম তখন আমার পা কাঁপত।’

হাসপাতালে তার প্রথম কাজ ছিল গবেষণাগারে। কোন নারী গর্ভবতী কিনা সেটা যাচাই করার জন্য সেখানে ব্যাঙ এবং খরগোশকে নারীদের প্রস্রাব ইঞ্জেকশানের মাধ্যমে দেয়া হত। প্যাথোলজিস্টদের মধ্যে গ্রিফিং খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

তিনি হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে কাজ করেছেন প্রায় ১০ বছর। তাছাড়া অগ্নিদগ্ধদের জন্য বার্ন ইউনিটেও কাজ করেছেন ২২ বছর। বর্তমানে সপ্তাহে ৪ দিন তিনি কাজ করছেন হাসপাতালের রোগী সম্পর্কিত বিভাগে। গ্রিফিং বলেন, ‘আমি যখন ২০ বছরের তরুণী ছিলাম তখন আর এখনের মাঝে আমি কোন পার্থক্য পাই না। আমি আসলেই ভাগ্যবতী।’

কিন্তু গ্রিফিং যখন প্রথম কাজে যোগ দেন সেটাতো বহু বছর আগের কথা। তখন গড় বেতন ছিল বছরে আড়াই হাজার ডলার, তখন এক গ্যালন তেলের দাম ছিল মাত্র ১৫ সেন্ট।  তখন প্রতি মাসে তিনি আয় করতেন মাত্র ১২০ ডলার।

এখন অবশ্য গ্রিফিং যথেষ্ট বেতন পান। সানফ্রান্সিস্কোর অরিন্ডা এলাকায় আরামদায়ক জীবনযাপন করেন। কাজ ছেড়ে দেয়ার কোন ইচ্ছা তার নেই। এই হাসপাতালে তিনি একজীবন পার করেছেন। তিনি যখন বলেন এটা তার হাসপাতাল তখন অবশ্যই এটা তার হাসপাতাল। তিনি এখান থেকে যাবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না কফিনে করে পাড়ি দেবেন অন্যজগতে।

এফ/০৭:৪৪/১৫ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে