Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-১৪-২০১৬

মঙ্গলালোকে দূর হোক অশুভ

মঙ্গলালোকে দূর হোক অশুভ

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল- বাঙালির হাজার বছরের পুরোনো কৃষ্টি-কালচারে পহেলা বৈশাখ পরিণত হয়েছে প্রাণের উৎসবে। এ দিনটিতে পুরনোর জীর্ণতা, গ্লানি-ভেদ ভুলে নতুনকে আহ্বান করে বাঙালি। সারাদেশে বিরাজ করে উৎসব মুখর পরিবেশ। এদিনে নানা আয়োজনে আপামর বাঙালি বরণ করে নেয় বাংলা নববর্ষকে।
 
বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়িত রুপ ফুটে এ উৎসবের মাধ্যমে। তাইতো বাঙালির এ প্রাণের উৎসব নববর্ষকে বরণ করে নিতে রমনার বটমূলে ছায়ানটের কবিগুরু রবী ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো... সুরের তালে তালে বর্ষবরণের ঢেউ লাগে এদেশের কোটি বাঙালির মানসপটে। আর বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছে হাজারো মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মহাকর্মযজ্ঞ।


বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে চারুকলা অনুষদের সামনে জমায়েত হতে থাকে হাজারো মানুষের। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। ৯টা বাজতেই শাহবাগ থেকে টিএসসি এলাকা বৈশাখের রঙে রঙিন মানুষের পদভারে ভরে ওঠে।
 
ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ৯টা বেজে ১২ মিনিট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক, প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হোসাইন, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনের নেতৃতে চারুকলা থেকে  শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি রুপসী বাংলা হোটেল চত্বর হয়ে হয়ে টিএসসি হয়ে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন শিক্ষক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। এতে তরুণদের অংশ নিতে দেখা গেল বৈশাখী পাঞ্জাবি আর মাথায় গামছা যাতে লেখা ছিল এসো হে বৈশাখ। তরুণীরা পরিধান করে বৈশাখী শাড়ি। ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখে রংতুলি দিয়ে লেখা ‘শুভ নববর্ষ’। এছাড়া বাঙালির উৎসবের এ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন অনেক বিদেশি পর্যটক।

এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল ‘মা ও শিশু’কে চেতনায় ধারণ করে ‘অন্তর মম বিকশিত কর অন্তর তর হে’। ১৪২৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় ছিল ৯টি ভাস্কর্য। এর মধ্যে বিশাল আকৃতির একটি কাঠামোয় দেখা যায় একজন ‘মা’ পরম যত্নে তার দুই হাত দিয়ে শূন্যে তুলে ধরে আছেন স্নেহের শিশুকে, যা প্রকাশ  করছে মা ও সন্তানের মধ্যকার চিরায়ত মধুর সম্পর্ক।


আরেকটি ভাস্কর্য ‘পাখি এবং একটি গাছ সঙ্গে একটি ফুলের সমন্বয়’, যা দ্বারা সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের অপরূপ রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছিল জাতীয় সমৃদ্ধিও প্রতীক ‘হাতি’। আরও ছিল ‘নৌকা’ প্রতীক, যে প্রতীক সামনে রেখে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া নৌকা এ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত। ‘হরিণ’ ভাস্কর্যটি দিয়ে বাংলাদেশের অনন্য সম্পদ সুন্দরবনকে তুলে ধরা হয়। আর একটি ঐতিহ্য হলো ‘মাটির তৈরি ঘোড়া’। এ ছাড়া ছিল ‘ষাঁড়ের’ ভাস্কর্য। যা দিয়ে জঙ্গিবাদসহ সব অপশক্তির মুখোশ উন্মোচন, যারা এ দেশের সম্মানহানি করতে চায় তাদের প্রতি প্রতিবাদস্বরূপ জানানো হয়।

নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবারের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ভুভুজেলা ও মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা হয়। যার কারণে শোভাযাত্রায় কাউকে মুখোম পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়নি। মুখোশ ছিল হাতেই। এসব মুখোশের মধ্যে  ময়ূরসহ ছোট ছোট পাখি, দু-একটি বাঘ ও পেঁচার মুখোশ লক্ষ্য করা যায়।


শোভাযাত্রা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা আমাদের চিরচারিত ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখছি। এর মুল লক্ষ্য হচ্ছে বাঙালি জাতি এবং বিশ্ববাসীর মঙ্গল কামনা করা। আমরা প্রতিবছর এ শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য পরিবর্তন করি। এবারের স্লোগান হচ্ছে ‘মা ও শিশু’। শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার মাধ্যমে পৃথিবী এগিয়ে চলছে। সন্তান জন্মদান পরিচর্যা প্রতিপালনে মায়ের রয়েছে অসাধারণ ভূমিকা সেটিকে সম্মান জানানো শ্রদ্ধা জানানো। আর মা বলতে শুধু মানবজাতিকে বোঝাচ্ছি না। সকল জীবজগতের সকল প্রজাতির শিশু এবং তাদের মা এতে অর্ন্তভুক্ত। তাদের ধারাবাহিকতায় পৃথিবী এগিয়ে চলেছে। এ উদ্দেশে আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করেছি।’
 
তিনি বলেন, ‘আর এতে ঢাকা শহরতো বটেই বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছে। বাঙালি জাতির ঐক্যের অবস্থান হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। এখানে ধর্ম-বর্ণ স্থান অথনৈতিক অবস্থান কোন ধরনের পার্থক্য নেই। আমাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যারা অন্য ভাষায় কথা বলে তাদেরও বর্ষবরণের উৎসব হচ্ছে। বৈশাখী বৈসাবি একাকার হয়ে আছে। এর মাধ্যমে আমরা ১৪২২ কে বিদায় জানালাম ১৪২৩ সালকে স্বাগত জানালাম।’

এদিকে শোভাযাত্রায় গত বছরের বর্ষবরণে নারী নিপীড়নের মতো ঘটনা ঠেকাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শোভাযাত্রার সামনে র‌্যাব এর দুইটি গাড়ি, এর পরে ডিএমপির বোম ডিসপোসাল ইউনিটের সদস্যরা। তারপরে ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সোয়াতের সদস্যরা। এছাড়া র‌্যব সদস্যদের হেলিকপ্টারে করে টইল দিতে দেখা যায় ।

এফ/১৮:২০/১৪ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে