Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৪-২০১৬

চিটিং? ভালোবাসার এই ‘আঁধার’ বিষয়ে অপ্রিয় ২ সত্য মেনে নিন!

চিটিং? ভালোবাসার এই ‘আঁধার’ বিষয়ে অপ্রিয় ২ সত্য মেনে নিন!

রাহুল এবং ব্রততী একে অপরের সঙ্গে ৭ বছর ধরে সম্পর্কে রয়েছেন। রাহুল ভালো চাকরি করেন। মোটা মাইনে, পার্কস, অফিসের গাড়ি, মাঝে-মধ্যে ট্যুর। ব্রততীও কৃতী ছাত্রী। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনুষ্ঠানে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। তার মধ্যেই সময় বার করে একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন। অবকাশে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

কিন্তু ব্রততী জানেন না, অফিস ট্যুরে গিয়ে রাহুল অন্য মহিলাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন। তেমন রাহুলও জানেন না কলেজ অনুষ্ঠানে গিয়ে ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড করেছেন ব্রততী। দু' জনেই নিজেদের কাজ নিয়ে, 'চিট' করা নিয়ে মনে মনে অপরাধ বোধে ভোগেন। তবে সামনে কেউ কাউকে বলে উঠতে পারেন না। এখন প্রশ্ন আসে কেন? এত দিন ধরে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কেন এই প্রবণতা? কেন ফাঁকি দিচ্ছেন একে অপরকে?

মনোবিদরা বলছেন, 'চিটিং' কথাটিই আসলে ঠিক নয়। কারণ, চিট করা বা ঠকানো শব্দটির মধ্যে এক পক্ষের ক্ষতি জড়িয়ে থাকে। রাহুল বা ব্রততী একে অপরের ক্ষতি চান না। কিন্তু করে ফেলেছেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতির দাড়িপাল্লায় ওজন করে সব কিছু হিসেব করা যায় না। বরং সম্পর্ককে এগ্রিমেন্ট বা চুক্তি বলা ভালো। কিসের এগ্রিমেন্ট? একে অপরের প্রতি যৌনতার দিক থেকে সত্‍ থাকা চুক্তি। বলা হোক বা না হোক, সামাজিক একটা ধারণা থাকে যেখানে এটা ধরে নেওয়া হয়। বরং বলা ভালো, দীর্ঘ দিন ধরে এটা হয়ে আসছে।

প্রথমেই জানতে হবে, সম্পর্কে থাকা পার্টনাররা একে অপরকে চিট করেন কেন? এত দিনের পরিচয় সত্ত্বেও কী এমন হয়, যে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ ঘটে? এর পেছনে উদ্দেশ্য কী? মনোবিদদের গবেষণায় উঠে আসছে, ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে একে অপরের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে সঙ্গীরা চিট করেন না। এমন অনেক সামাজিক 'নিয়ম' রয়েছে, যেখানে স্বামীর যখন ইচ্ছে হবে তখনই স্ত্রীকে যৌনতায় রাজি হতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী-র পছন্দ-অপছন্দের কোনও মর্যাদা নেই। এটা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে তিনি চাইলেও যৌনতায় জড়াতে পারবেন না, না চাইলেও তাঁকে জড়াতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে কম হলেও তা অবশ্য প্রযোজ্য। এ রকম পরিস্থিতি এবং অব্যক্ত ভাবনার মিশেলে তৈরি হয় টান। যা থেকে তথাকথিত চিট করার মনোভাব তৈরি হয়। এ জন্য চিট করার সময় কোনও পার্টনারের সে অর্থে অপরাধবোধ কাজ করে না। করলে তাঁরা বারবার একই জিনিস করতে পারতেন না।

এখন উপায় কী? অর্থাত্‍ আপনি বুঝতে পারছেন বা পারছেন না আপনার সঙ্গী আপনার সঙ্গে পুরোপুরি 'সত্‍' নন, সে ক্ষেত্রে কী করা উচিত? মনোবিদরা বলছেন, সম্পর্ককে কখনও একটি বদ্ধ ঘরে পরিণত করবেন না। যেখানে আলোবাতাস খেলবে না, একে অপরের ভাবনা বা ধারণা বলতে পারবেন না। খোলাখুলি কথা বলতে থাকবে না কোনও বাধা। যখন সঙ্গী এটা বুজবেন, তিনি নির্দ্বিধায় আপনার সঙ্গে মনের যাবতীয় কথা বলতে পারবেন, তাঁর ইচ্ছে-অনিচ্ছের দাম পাবেন তখন অন্তত এমন মনোভাব কখনও আসবে না। এটাকেই 'সেফ স্পেস' বলছেন তাঁরা।

একটা কথা মনে রাখবেন, অন্যকে দোষারোপ করা খুব সোজা। কিন্তু নিজের দোষ দেখে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করে বেরিয়ে আসা বা সেটা স্বীকার করা খুব কঠিন কাজ। এ কাজে বাধা দেয় আমাদের ইগো। কথাটি ছোট্ট হলেও বহু সম্পর্ক ভাঙার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিয়ে থাকে। ওটা ত্যাগ করে একে অপরকে শুধরে নিন। সম্পর্ক নতুন প্রাণ পাবে।

আর/১৫:৪২/১৪ এপ্রিল

সম্পর্ক

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে