Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.4/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-১৪-২০১৬

যাত্রী হয়রানি: ফ্লাই দুবাইয়ের চার কর্মকর্তাকে জরিমানা

গোলাম মুজতবা ধ্রুব


যাত্রী হয়রানি: ফ্লাই দুবাইয়ের চার কর্মকর্তাকে জরিমানা

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল- ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাসকটগামী এক যাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে ফ্লাই দুবাইয়ের চার কর্মকর্তাকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার রাত থেকে টানা ২০ ঘণ্টা শুনানি শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ এ সাজার রায় দেন।

আসন না থাকার পরও মো. ইব্রাহিম নামে এক যাত্রীকে বিমানে তুলে পরে নামিয়ে দেওয়া এবং ১০ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অস্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই সাজা।

ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ বলেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এই জরিমানা করা হয়েছে।”

এর মধ্যে ফ্লাই দুবাইয়ের শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টেশন ম্যানেজার সেলিম মোবাশ্বের, সিকিউরিটি ম্যানেজার গোলাম রব্বানি, ট্রাফিক অফিসার ফেরদৌস আলমকে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর ট্রাফিক অফিসার আসিফুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট।

তিনি বলেন, অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন।

“তারা জেলে যাওয়ার মতো কাজ করেছেন। তবে সহজ-সরল স্বীকারোক্তি ও ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট থেকে ইব্রাহিমকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ফ্লাই দুবাইয়ের ক্যাপ্টেন বিমানটি বোর্ডিং ব্রিজে না নিয়ে মাঠে পার্ক করেন। এরপর জরুরি ভিত্তিতে এক কর্মকর্তাকে খবর দেন।

এয়ারলাইন্স কর্মকর্তা গিয়ে দেখেন বিমানে ১৮৯টি আসন থাকলেও যাত্রী রয়েছেন ১৯০ জন। এর মধ্যে হাসান নামের এক যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এরপর সবার পাসপোর্ট চেক করে ওই কর্মকর্তা ইব্রাহিমকে প্লেন থেকে নামিয়ে দেন। ওই উড়োজাহাজে ইব্রাহিমের চাচাতো ভাইও মাসকট যাচ্ছিলেন। তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে ‘ধমক দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়’ বলে ইউসুফ জানান।

আধ ঘণ্টা পর ইব্রাহিমকে রেখেই তার মালামালসহ ঢাকা ছেড়ে যায় ফ্লাই দুবাই। উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর ইব্রাহিমকে একটি মাইক্রেবাসে প্রায়  এক ঘণ্টা এবং পরে ইমিগ্রেশন এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়।

রিফাত নামে  ফ্লাই দুবাইয়ের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিকালে ইব্রাহিমকে আশ্বাস দেন, রাত ১০টার ফ্লাইটে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু রাতে তাকে আবার জানানো হয়- নেওয়া হবে না।

এরপরই ইব্রাহিম কান্নাকাটি শুরু করে এবং খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে যান। শুনানি শেষে ওই এয়ারলাইন্সের চার কর্মকর্তাকে সাজা দেন তিনি।

ইউসুফ জানান, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী উঠলে এয়ারলাইন্সগুলো ‘ওভারবুকিং’ পলিসির আওতায় ‘রেমিডিয়াল’ দেয়।

“এতোদিন শুনে আসছি, ফ্লাই দুবাইয়ের ওভারবুকিং পলিসি নাই। যাত্রী বেশি হয়ে গেলে তাকে প্লেনে নেওয়া সম্ভব না হলে ডিনায়েড বোর্ডিং প্যাসেঞ্জার হিসেবে দেখা হয়। সেক্ষেত্রে তারা ডিডাইন বোর্ডিং কমপেনসেশন দেবে (ডিবিসি), অথবা কোনো অল্টারনেটিভ ক্যারিয়ারে করে তাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তারা কোনোটিই করেনি।”

ওভারবুকিংয়ের অভিযোগে আগেও বেশ কয়েকবার ফ্লাই দুবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

“পরে ম্যানুয়াল ঘেঁটে দেখা যায়, তাদের ওভারবুকিং পলিসি আছে। এক্ষেত্রে কোনো যাত্রীকে যদি তারা প্লেনে নিতে না পারে তাহলে টিকিটের মাধ্যমে ডিবিসি দেবে। এর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে আগামী এক বছর যাত্রী যে পথ দিয়ে যেতে চায় সেখানে যাবার জন্য একটা ফ্রি ওয়ানওয়ে টিকিট পাবে। অথচ ইব্রাহিমের বেলায় এর কোনটিই করেনি তারা।”

ম্যাজিস্ট্রেট জানান, গত সপ্তাহেও ফ্লাই দুবাইয়ের আট যাত্রী ‘ডিনায়েড বোর্ডিং প্যাসেঞ্জার’ হয়েছে।

“প্রতি সপ্তাহে আটজন, নয়জন করে হয়েছে। এভাবে পাঁচ বছরে অন্তত ২ হাজার ৮০  জন যাত্রীর ডিবিসি ভাউচার পাওয়ার কথা, সেখানে তারা একজন যাত্রীকেও এ ধরণের সুবিধা দিয়েছে তেমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

“প্রতিটি টিকিটের দাম ১৫ হাজার টাকা করে হলেও এতে ২ হাজার ৮০ জন যাত্রীর অন্তত তিন কোটি ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর দায় স্টেশন ম্যানেজারের। এ জন্য তাকে সাজা দেয়া হয়েছে,” বলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ।

আর মঙ্গলবার সকালে এয়ারলাইন্স সিকিউরিটির দায়িত্বে ছিলেন গোলাম রব্বানি। তার দায়িত্ব পালনের সময় প্যাসেঞ্জার ছাড়াই ব্যাগ চলে যাওয়ার কারণে তাকেও সাজা দেওয়া হয়েছে।

ইব্রাহিমকে যথাযথ সহযোগিতা না করে উল্টো ইমিগ্রেশনে ‘অহেতুক অপেক্ষা করানো’ এবং পরে ‘তাকে ফেলে চলে যাওয়ায়’ ফ্লাই দুবাইয়ের ট্রাফিক অফিসার ফেরদৌস আলম এবং ইব্রাহিমের চাচাত ভাইকে ধমক দেওয়া ও পুনরায় টেক অফের জন্য সিভিল এভিয়েশনের টাওয়ার থেকে ক্লিয়ারেন্স না নেওয়ায় ট্রাফিক অফিসার আসিফুল ইসলামকে সাজা দেওয়া হয় বলে ম্যাজিস্ট্রেট জানান ।

তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার আইনে জরিমানা আদায় হলে ক্ষতিগ্রস্তকে ২৫ ভাগ টাকা বুঝিয়ে দেওবার কথা। ইব্রাহিমকে তা দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতে ফ্লাই দুবাইকে ‘ওভারবুকিং পলিসি’ মেনে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে এ ম্যাজিস্ট্রেট জানান।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে