Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৪-২০১৬

প্রশ্ন ১০০০। উত্তর ৩০টি। বিতর্কিত প্রশ্নের জবাবে নীরব দিদির ফেসবুক

প্রশ্ন ১০০০। উত্তর ৩০টি। বিতর্কিত প্রশ্নের জবাবে নীরব দিদির ফেসবুক

কলকাতা, ১৪ এপ্রিল- অনলাইন হতে গিয়ে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নে কার্যত ‘বেলাইন’ দিদি!  কথা মতোই বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় ফেসবুকে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে অনলাইন হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ‘চ্যাট’ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু প্রশ্নের দীর্ঘ তালিকা দেখে আরও কিছুক্ষণ ‘চ্যাট’ চালিয়ে যান তিনি। ‘চ্যাট’ চালিয়ে গেলেও একের পর এক প্রশ্নের বাউন্সারের মুখে চালিয়ে খেলতে পারলেন কই দিদি! ফেসবুকের ‘আস্কিং কোয়েশ্চন’ এর তালিকা বলছে প্রায় হাজার খানেক প্রশ্ন জমা পড়েছে ওই অল্প সময়ে। দিদি উত্তর দিতে পেরেছেন মেরেকেটে ৩০টি’র মতো প্রশ্নের। যদিও তিনি জানিয়েছেন, সব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও প্রশ্নগুলি তিনি পড়বেন।

সেই প্রশ্নের তালিকায় হালফিলের নারদ-কাণ্ড, সারদা কেলেঙ্কারি, সিন্ডিকেট, টেট কেলেঙ্কারি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সিঙ্গুর ছেড়ে টাটাদের গুজরাতের সানন্দে চলে যাওয়া, ইনফোসিসের জমি না-পাওয়া, ত্রিফলা, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বকেয়া প্রসঙ্গ। সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্র থেকে উঠে আসা প্রশ্নে এদিন ভরে যায় মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ।

হিতেশ দেবনাথ নামে এক ‘শিক্ষিত বেকারে’র প্রশ্ন, ‘২০০৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮৫.২৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছি, উচ্চমাধ্যমিকে ৮৩.৬০ শতাংশ নম্বর পেয়েছি। ভূগোল নিয়ে সসম্মানে বিএ পাশ করার পরে এমএ এবং বিএড করেছি। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ না-হওয়ায় এখনও এসএসসি’তে বসা হয়নি। ২০১২’তে প্রাইমারি দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রাইমারি ছিল দুর্নীতিতে ভরা। চোখের সামনে দেখেছি ৩৫-৪৫ শতাংশ পাওয়া ছাত্র ৯ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছে! দিদি যে শিক্ষকেরা সমাজ গড়ার কারিগর সেই পেশাতেই কেন এত দুর্নীতি বলতে পারেন? পড়াশোনা করে কি লাভ হল?’ দিদি নিরুত্তর!


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিভিন্ন জনসভায় বাংলা ছেড়ে আর যেতে হবে না বলে ছাত্রযৌবনকে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা অধুনা লন্ডনবাসী এক যুবকের বক্তব্য, তিনি কলকাতায় ফিরে নিজের ব্যবসা করতে চান। কিন্তু কলকাতায় বন্ধুদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা লন্ডনেই থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন! কারণ, এখানে ব্যবসা শুরু করার মতো পরিবেশ নেই। সরাসরি না বললেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কথাই বলতে চেয়েছেন ওই যুবক। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘সরকার কীভাবে নিশ্চিত করতে পারে যে আমাদের মতো লোকেরা ফিরলে কোনওরকম ভয় ছাড়া কাজ করতে পারবে। কারণ, প্রভাব বা টাকা— কোনওটাই আমার নেই!’’ দিদি নিরুত্তর!

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের তিনি বিরোধী। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জনৈক পরিতোষ হাজরার প্রশ্ন, ‘ইনফোসিস’কে সবুজ সংকেত দেওয়ার বিষয়টি আপনি কি দয়া করে পুনর্বিবেচনা করবেন? না কি সত্যিই কোনও আশা নেই?’ দিদি নিরুত্তর! আরও একজনের প্রশ্ন, ‘টাটাদের ফিরিয়ে আনা যায় না?’ উত্তর নেই তারও।

এটা ঠিকই প্রশ্নের তালিকায় সবুজ সাথী, খাদ্যসাথী প্রকল্প, কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য সাধুবাদও পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনাচক্রে, যে ৩০টি’র মতো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তার মধ্যে বেশিরভাগই প্রশংসাসূচক। প্রশ্নকর্তাদের মধ্যে সিপিএম-কংগ্রেস-সহ বিরোধীরাও রয়েছেন। কিন্তু এ-ও অস্বীকার করা যায় না, এমন অনেকেই ছিলেন যাঁদের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী কলকাতায় ফিরতে চান বা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এ রাজ্যে সেভাবে উন্নতি না-হওয়ায় অন্য রাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, সেরকম ভোটারও রয়েছেন।

সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে এক ব্যক্তির প্রশ্ন, ‘আপনি গরিব আমানতকারীদের ৫০০০-১০০০০ টাকা করে ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু আমরা মধ্যবিত্তেরা কবে টাকা পাব?’ আশিস কুমার নামে এক ব্যক্তির প্রশ্ন, ‘বিভিন্ন টালবাহনায় শিক্ষক নিয়োগ না করে এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না দিয়ে শিক্ষিত বেকার ও সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভের এই বিপুল ঝুঁকি কেন নিলেন?’ 

বাহির তো বাহির অস্বস্তিকর প্রশ্ন এল দলের অন্দর থেকেও। চৈতালি চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, ‘দিদি আমি কলকাতা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আমার হাজব্যান্ড তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি। আমাদের ইলেকশনের কোনও কাজ দেওয়া হয়নি। বলা হচ্ছে, তোমরা বসে থাকো, কোনও কাজ করতে পারবে না!’
দিদির ছাত্রযৌবন, মা-ভাই-বোনেরাই প্রশ্ন করলেন। তবে ‘মমতা’ পেলেন না!

এফ/০৮:১৮/১৪ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে