Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৩-২০১৬

বছরে একবার দেখা হয় বাবা-মার সঙ্গে

বছরে একবার দেখা হয় বাবা-মার সঙ্গে

খুব বেশিদিন আগের কথা নয় যখন চীনে বেশিরভাগ মানুষই গ্রামে বসবাস করতো। তাদের একমাত্র কাজ ছিলো কৃষিকাজ আর গবাদি পশু লালন পালন করা। তবে গ্রামীন জীবন তাদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। লোকজনও ছিল হত-দরিদ্র এবং কঠোর সংগ্রাম করে তাদের বেঁচে থাকতে হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু যেন বদলে যেতে শুরু করলো দেশটিতে। শিল্প বিপ্লব না হলেও রাতারাতি শহরগুলোতে গড়ে উঠতে শুরু করে হাজার হাজার কল কারখানা।

কারখানাগুলোতে উৎপাদন হতে শুরু করে নানান জিনিসপত্র। আর বিশ্ববাজারে চীনে তৈরি পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যায় অনেকগুন। তাই প্রচুর কাজের সুযোগ থাকায় গ্রাম-গঞ্জ থেকে ছুটে আসতে শুরু করে অগুনতি মানুষ। উদ্দেশ্য একটাই কারখানায় কাজ করে প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করা। কিন্তু অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগীতায় বাবা-মাতো গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসছে কিন্তু পেছনে ফেলে রেখে আসছে তাদের সন্তানদের। যারা বাবা-মা ছাড়া বহু দূরে একাই বেড়ে উঠছে। তাদের বাবা-মা থেকেও যেন নেই। চীনে এরকম শিশুর সংখ্যা ৬ কোটি যারা যাদের বাব-মা থেকেও নেই।

শিশুদেরকে সঙ্গে আনার অনুমতি না থাকায় তাদের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই লাখ লাখ শিশু পড়ে থাকে চীনের গ্রামাঞ্চলে। এরকমই এক শিশু থাঙ ইয়ান। বয়স ১১ বছর। সে থাকে তার দাদী, ভাই এবং দু’জন চাচাতো ভাই বোনের সঙ্গে। তার বাবা মা থাকে আরেকটি শহরে। চাংদু শহরের একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করে তারা দুজন।


থাঙের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা মায়ের রোজগার খুব বেশি নয়। তারা তাকে সময় দিতে পারে না। কারণ তাদেরকে কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। বাবা মায়ের বাড়িতে আসার খবর পেয়ে আগে থেকে দৌড়ে অনেক দূর পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকে যাতে একটু বেশি সময় ধরে বাবা-মাকে কাছে পেতে পারে।

‘আমার সবচে ভালো লাগে যখন আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে মাছ ধরতে যাই। অন্যসময় আমি একা একটা দুটো মাছ ধরতে পারি। কিন্তু আমার বাবা মা যখন এখানে সঙ্গে থাকেন তখন আমরা হাতে প্রচুর মাছ ধরতে পারি।’ সে জানায়, একমাত্র চীনা নববর্ষের সময় তার বাবা-মা একটু বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে থাকতে পারেন। আতসবাজি জ্বালিয়ে তারা একসঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করে। বছরের অন্যান্য সময়গুলোতে বাবা মা তাকে খুব কমই দেখতে আসে, অথবা দেখতে আসতে পারেন না বলেই চলে। কারণ কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসা তাদের জন্যে অনেক কঠিন। আর যদিও আসে তখন খুব অল্প কিছু সময় থাকার পরই তাদেরকে আবার চলে যেতে হয় শহরে।

থাঙ বাবা-মাকে ছাড়া থাকতে পারে না। ‘বাবা মাকে ছেড়ে একা থাকা আমার জন্য খুব কষ্টের। আমার ইচ্ছা করে, আমি যদি তাদের সঙ্গে যেতে বা থাকতে পারতাম। ওদের ছেড়ে আমি আলাদা থাকতে চাই না। তবে আমি এটাও জানি গ্রামে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব না কারণ এখানে খুব বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ নেই। তাই আমি আমার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাদের জন্যে কোনো সমস্যার কারণ হতে চাই না। তবে আমি ওদেরকে খুব মিস করি।’ থাঙ এখান থেকে সে যেতে চায় না। বড় হয়ে সে নিজেই একটি কারখানার মালিক হতে চায়। শুধু তাই নয়, সে তার সন্তানদেরকে সঙ্গে নিয়ে এক জায়গায় থাকতে চায়।


এদিকে কারাখানায় কাজ করা শ্রমিকদের তার সন্তানদের কেন সঙ্গে আনতে পারবে না এ প্রসঙ্গে কারখানা মালিকদের প্রশ্ন করলে তারা বলেন, সন্তানদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই আমরা তাদের সঙ্গে আনতে দেই না। কিন্তু তারা ছুটি নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করে আসতে পারে। এদিকে কারখানার শ্রমিকদের মতে, সন্তানদের সঙ্গে আনতে পারলে তারা নিশ্চিন্তে আরো উদ্যমের সঙ্গে কাজ করতে পারতো। সন্তানদের দূরে রেখে অনেকসময়ই কাজে তাদের মন বসে না।

আর ছুটি নেয়া সেতো যেন বিরাট একটা দুর্লভ বস্তু যা শুধু মাত্র নববর্ষের সময়ই পাওয়া যায়। এমনকি সন্তান যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তখনও তার মুখটি দেখার জন্য ছুটির আবেদন করলে তাও নাকচ করে দেয় মালিক কর্তৃপক্ষ। তবে যত যাই হোক মালিক শ্রমিক দ্বন্ধে লাভবান যেই পক্ষই হোক না কেন, বাবা-মায়ের আদর এবং সবরকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত পেছনে ফেলে আসা অভাগা সন্তানেরা।

আর/১৯:১৫/১৩ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে